ডিজিটাল মার্কেটিং কি? কেন এটি বেশি কার্যকর?

পণ্যের প্রচার কিংবা কোন সেবার প্রচার-প্রসারের জন্য আগে প্রথাগত পদ্ধতি ব্যবহার করা হত। এখন ব্যবহার করা হয় ডিজিটাল পদ্ধতি। এ পদ্ধতি সঠিকভাবে প্রয়োগ করলে সময়, অর্থ ও শ্রম অনেকটাই কম লাগে। 

আপনি কি জানেন, ডিজিটাল মার্কেটিং কি? মলত ডিজিটাল মার্কেটিং হলো ডিজিটাল মাধ্যম যেমন ওয়েবসাইট, ব্লগ, সোশ্যাল মিডিয়া, ইমেল এবং সার্চ ইঞ্জিন, চ্যাট বক্স ইত্যাদি ব্যবহার করে কাস্টমারদের কাছে পণ্যের খবর বা সেবার তথ্য পৌঁছানো এবং তাদের সাথে দীর্ঘমেয়াদী যোগাযোগ করার কার্যকর কৌশলও এখানে থাকে।

এখানে ডিজিটাল মার্কেটিং এর ওপর একটি সংক্ষিপ্ত ধারণা পেতে যাচ্ছেন আপনি।

ডিজিটাল মার্কেটিং কি
ডিজিটাল মার্কেটিং কার্যকরভাবে টেক্সট, ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে। ছবি: রবার্তো নিকসন


ডিজিটাল মার্কেটিং কি? কোন উপায়ে এই বিপণন চলে?

বিস্তৃত শব্দ ডিজিটাল বিপণন যা মার্কেটিং এর একটি বিস্তৃত পরিসরকে ইঙ্গিত করে। আমরা ডিজিটাল মার্কেটিং কী কী বিষয় নিয়ে করা হয় তার একটি তালিকা দিচ্ছি।

  • সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন (এসইও): এসইও হলো একটি কৌশল যা ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিন ফলাফল পৃষ্ঠায় (SERPs) উচ্চতর র‌্যাঙ্ক করতে সাহায্য করে। যেমন গুগল, ইয়াহু, বিং, ইয়ানডেক্স, বাইদু, পিপিলিকা ইত্যাদি সার্চ ইঞ্জিনে কেউ পণ্যের নাম লিখে খোঁজ করলে ফলাফলে নিজেদের ওয়েব লিংক দেখতে পাওয়া যায়। এভাবে নতুন নতুন কাস্টমারকে রিচ করা হয়।
  • ব্লগিং: এটি ডায়েরি লেখার মত। এটি মানুষকে তথ্য দেয় একটু ব্যক্তিগত ভাষায় টাচের মাধ্যমে।  এতে মানুষ উপকৃত হয় েএবং বারবার সেই রকম তথ্য পেতে চায়। এভাবে অনলাইন ইনকাম এর সুযোগ বাড়ে।
  • পে-পার-ক্লিক (PPC) মার্কেটিং: PPC মার্কেটিং হলো একটি কৌশল যা সার্চ ইঞ্জিনগুলিতে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন। এতে খরচ হয় টাকা, তবে অর্থ ফেরত আসে কাস্টমার বেইজ বড় হয়ে। এটি একটু রিস্কি মার্কেটিং; একাজে সফল হতে দক্ষ হাত প্রয়োজন।
  • সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং: এফ কমার্স এর কথা হয়ত শুনেছেন। সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং হলো তেমন একটি কৌশল যা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম যেমন ফেসবুক, লিংকডইন, টিকটক, টুইটার, থ্রেড এবং ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করে গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগ করা। এসবে ব্যক্তিগত ও বাণিজিক আইডি খোলা যায়। পেজ এবং গ্রুপ খোলা যায়। ছবি ও ভিডিও শেয়ার করা যায়, চ্যাটিং ও মিটিং করা যায়।
  • ভিডিও শেয়ারিং: ইউটিউব একটি ভিডিও শেয়ারিং সাইট। এর মাধমে পণ্যের ব্যাপক প্রচার ও প্রসার ঘটাচ্ছে অনেকেই। এমনকি ইউটিউবিং করেও টাকা ইনকাম করছে অনেকে।
  • ইমেল মার্কেটিং: একটি কৌশল যা স্প্যামিং এর জন্য বেশি ব্যবহারের তালিকায় সম্ভবত শীর্ষে  ছিল। এটি ইমেল ব্যবহার করে গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগ করা। সেইফ বাল্ক ইমেইল প্রেরণ।
  • কন্টেন্ট মার্কেটিং: এই বিপণন কৌশল হলো মূল্যবান ডিজিটাল সামগ্রী তৈরি এবং বিতরণ করা যা গ্রাহকদের আকর্ষণ এবং তাদের সাথে সম্পর্ক গড়তে পারে।

আপনি কি আপনার ব্যবসাকে বৃদ্ধি করতে চান, তাহলে ডিজিটাল মার্কেটিং এই সময়ে আপনার জন্য একটি দুর্দান্ত বিপণন কৌশল। ডিজিটাল মার্কেটিং আপনাকে আপনার লক্ষ্য দর্শকদের কাছে পৌঁছানোর এবং তাদের পণ্য বা পরিষেবা বিক্রি করতে সাহায্য করতে পারে। যদিওকিছু বাজেট লাগবে শুরুতে।


আরো পড়ুন: জন্ম তারিখ দিয়ে জন্ম নিবন্ধন জন্ম নিবন্ধন দেখার প্রক্রিয়া


ডিজিটাল মার্কেটিং কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বর্তমান বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তনশীল। মানুষের মাঝে কোন বিষয়ে আগ্রহ দ্রুত শেষ হয়ে যায়। সেজন্য পণ্যের প্রচারণার ধরণ বদলাতে হয়। আর ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে এই পরিবর্তন দ্রুত করার যায়। বেশ কয়েকটি কারণে এই বিপণন পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ। ৩টি কারণ নিচে দিচ্ছি:

  • ইন্টারনেটের ব্যাপক প্রসার: যোগাযোগের এই জটিল পদ্ধতি আমাদের জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে এবং মানুষকে বিশ্বাস করানো হয়েছে যে এটি সহজ।
  • বিপণনের পরিবর্তনশীল প্রকৃতি: traditional বা ঐতিহ্যবাহী বিপণন পদ্ধতি যেমন মুদ্রণ বিজ্ঞাপন এবং টেলিভিশন বিজ্ঞাপন কম কার্যকর হয়ে উঠছে, যেহেতু লোকেরা ক্রমবর্ধমানভাবে তাদের সময় সেসব মাধ্যমে কম ব্যয় করছে।
  • ফলাফল বিশ্লেষণ ক্ষমতা: ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে প্রতিটি অংশ রেকর্ড থাকে। একটি অত্যন্ত পরিমাপযোগ্য মাধ্যম, যার অর্থ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তাদের মার্কেটিং প্রচেষ্টার ফলাফল ট্র্যাক করতে পারে এবং প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে পারে।


আরো পড়ুন: ফ্রিজের বাটন পরিবর্তন করার নিয়ম


সফলভাবে ডিজিটাল মার্কেটিং শুরু করার পদ্ধতি:

আপনি যদি ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে নতুন হন, তাহলে এখানে এই বিপণনে প্রবেশের জন্য আপনাকে কিছু বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে। যেমন আপনাকে আপনার ব্যবসার বিপণনে ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহারের লক্ষ্য ঠিক করতে হবে। যেমন সাইটে ভিজিটর বাড়ানো, বিক্রয় বা ব্র্যান্ড প্রচার কমন কিছু লক্ষ্য। এরপর চ্যানেল বেছে নিতে হবে আপনাকে। এছাড়া কারা আপনার এড দেখতে পারবে তার একটি নিশানাও ঠিক করতে হবে আগেই।

এছাড়া তথ্যবহুল ও আকর্ষণীয় কনটেন্ট তৈরি করতে হবে আপনাকে। সবশেষে শুরু থেকেই আপনার এডের কি রেজাল্ট আসছে তা পর্যবেক্ষণ করুন। এসব বিষয় মাথায় রাখার পাশাপাশি আপনি মেসেজের উত্তর দিতে একটিভ থাকুন। আপনি একটি চ্যাটবট সেবা ব্যবহার করতে পারেন এক্ষেত্রে।


আরো পড়ুন: বেশি কর্মক্ষমতাসহ আসছে আইফোন-১৫


ব্যবসাকে লক্ষ্যে পৌঁছাতে বা দর্শকদের কাছে ঠিকমত পৌঁছানোর জন্য, গ্রাহকদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্যডিজিটাল মার্কেটিং একটি শক্তিশালী হাতিয়ার যা বিক্রয় বৃদ্ধি করতে সহায়তা করতে পারে। আশা করি এই পোস্ট আপনাকে ডিজিটাল মার্কেটিং কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ তা বুঝতে সাহায্য করেছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post

Contact Form