ওষুধ ছাড়াই ডায়াবেটিস কমানোর উপায়

উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা। সমস্যাটি বিশ্বব্যাপী। শারীরিক পরিশ্রম ঠিকঠাক না হওয়া এবং বেশি শর্করা জাতীয় খাবারের জন্য এমন সমস্যা বাড়ছে বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণ মেনে করেন। এই রোগের চিকিৎসা সম্ভব কিনা সেটা নিয়েও আতঙ্ক চারদিকে। ওষুধ দিয়ে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হয় কিন্তু একেবারে নির্মূলের কথা এখনও কেউ জোর দিয়ে বলতে পারেন না। ওষুধ ছাড়াও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের দাবি করা হয়েছে।

এটি আশাব্যঞ্জক বটে কিন্তু ওষুধ ছাড়াই ডায়াবেটিস কমানোর উপায় কী? সাউথপোর্টের নরউড সার্জারির চিকিৎসক ডেভিড উনউইন দাবি করেছেন, তিনি খাদ্য তালিকায় একটি মাত্র পরিবর্তনের মাধ্যমেই বিপুল সংখ্যক রোগীর ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছেন। টাইপ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কাজ করে যে উপায় তা হলো- কম কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ। এই উপায়ে ১০০ জনেরও বেশি টাইপ ডায়াবেটিস রোগীর রক্তে শর্করার হার কমানো গেছে।

ডায়বেটিস রোগীর জন্য এই পদ্ধতির চিকিৎসা বেশ সুবিধাজনক ও কম খরচ সাপেক্ষ। এখানে রোগীর ইচ্ছাশক্তি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণের ঘরোয়া উপায় এবং কেন ডায়াবেটিস হয় সেসব নিয়ে বিস্তারিত তথ্য নিচে তুলে ধরা হচ্ছে-

 

ডায়াবেটিস কমানোর উপায়
Diabetes meter and insulin pen. Image: Nataliya Vaitkevich, Pexels

ওষুধ ছাড়াই ডায়াবেটিস কমানোর উপায়: রক্তে শর্করা কমানোর প্রাকৃতিক উপায় 

টাইপ ডায়াবেটিসের তুলনায় টাইপ ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যাই বেশি বিশ্বজুড়ে। কিছু নিয়ম মেনে চললেই টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসবে ওষুধ ছাড়া। এই টাইপ রোগীর ইনসুলিনের প্রয়োজন হবে না।

ব্রিটিশ চিকিৎসক জনাব উনউইনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, চিনি, শর্করা উৎপাদনকারী শষ্য, মিষ্টিজাতীয় কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ না করে তার বদলে প্রোটিন ও চর্বিজাতীয় খাবার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখলে দ্রুত ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসে।

তবে এই নিয়ম অনুসরণকালে রোগী একেবারেই শর্করা জাতীয় খাবার ছেড়ে দিতে পারবেন না। অল্প পরিমাণে শর্করা জাতীয় খাবার তাকে খেতে হবে। একটি নো-কার্ব ডায়েটে খুব কম পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট রাখা যায়। 


কতটুকু শর্করা খাওয়া যায় ডায়াবেটিস কমানোর চিকিৎসায়?

শুধু সবজি থেকে কিছু শর্করা পাওয়া যায়। ব্যস ততটুকুই চলবে। কারণ কার্বোহাইড্রেট রক্তে শর্করা বাড়িয়ে দেয়। সেটিই মূলত ডায়াবেটিস রোগের জন্য দায়ী। তাই কার্বোহাইড্রেট কমিয়ে নিতে পারলে ডায়াবেটিস রোগও কমে যাবে।

অর্থাৎ রক্তে চিনির পরিমাণ কমে গেলে রোগীর ডায়াবেটিস ঝুঁকি কমে যাবে। এই চনি শুধু আক্ষরিক অর্থে চিনিই নয়। ভাত ও রুটি থেকেও এটি আসে।

ইনসুলিন গ্রহণ ছাড়া মাত্র ছয় মাস এই ডায়েট অনুসরণ করলে ডায়াবেটি নিয়ন্ত্রণে ফল পাওয়া যায়। এটি কিন্তু সাধারণ ডায়াবেটিস রোগীর ডায়েট থেকে একটু আলাদা। তাদের জন্য এই সময় লাগে ১২ মাস।

পড়ুন: চোখের নিচে গর্ত হয় কেন?

ডায়াবেটিস কমাতে অনুসরণীয় ৩ নিয়ম

>> স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া

>> ব্যায়াম

>> অতিরিক্ত ওজন হ্রাস

 

কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবারের তালিকা

রুটি ও ভাত, পাস্তা, মটরশুটি, মধু, মিষ্টি দই, চিপস, দুধ, চিনির ক্যান্ডি, চিনিযুক্ত খাবার, ময়দা, কুকিজ, কনডেন্সড মিল্ক, মিষ্টিজাতীয় শাক-সবজি,  সিরিয়াল ইত্যাদি।


ডায়াবেটিস রোগীর খাবার ও জিআই

ডায়াবেটিস হলেই খাওয়া বন্ধ, তা নয়। ডায়াবেটিস রোগীর রোগের মাত্রা বুঝে খাদ্যতালিকা তৈরি করতে হয়। ডায়বেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা তৈরিতে বয়স, ওজন ও উচ্চতা, কাজের ধরন, শারীরিক শ্রমের পরিমাণ, জীবনযাপন পদ্ধতি, আয় রোজগার সবকিছু বিবেচনায় নিতে হয়।

বিরক্তি ঠেকাতে খাবারে বৈচিত্র্য আনারও চেষ্টা করতে হবে। অন্যান্য মানুষের মতো একজন ডায়াবেটিস রোগীও সব খাদ্য উপাদান গ্রহণ করবেন। আমিষ, চর্বি, খনিজ, ভিটামিন, শর্করা ইত্যাদি তিনিও গ্রহণ করবেন। শুধু পরিমাণমত গ্রহণ করতে হবে।

লাল চাল ও লাল আটা খাওয়া ভালো। এতে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বা জিআই কম।

খাবারে শর্করা বিশোষণের হ্রাস–বৃদ্ধির পরিমাপ হলো জিআই। এর সূচক ১ থেকে ১০০। যেসব খাবার উচ্চ জিআইযুক্ত, সেগুলো দ্রুত রক্তে শোষিত হয় ও রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। 

● সূচক ৫৫–এর নিচের খাবারগুলো ধরনের শাক, মাশরুম, বাদাম, ডাল, পাতলা দুধ, পানিযুক্ত সবজি ইত্যাদি। 

● মধ্যম জিআই (৫৫-৭০) খাবার হলো লাল আটা, লাল চাল, ভুট্টা, খই, মিষ্টি আলু, ব্রাউন নুডলস বা পাস্তা এসব।

● উচ্চ জিআইযুক্ত খাবার (৭০ এর ওপর) হলো, পোলাও, খেজুর, তরমুজ, ময়দার রুটি বা পরোটা, আতপ চাল, কচুর মুখি ইত্যাদি।

● ডায়াবেটিস হলে চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণে সতর্ক হতে হবে। সম্পৃক্ত চর্বি যেমন মাংসের সঙ্গে লেগে থাকা চর্বি ক্ষতিকর, ঘি, মাখনও কম খেতে হবে

● অসম্পৃক্ত চর্বি যেমন ওমেগা–৩, বাদাম, সামুদ্রিক মাছের তেল, উপকারী। আমিষ বাছাইয়ের বেলায় যেসব আমিষে চর্বি কম যেমন মাছ, ডাল, ডিম, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার বেছে নিন। ভোজ্যতেলের পরিমাণ কমান।

● প্রতিদিন হিসাব করে তাজা ফলমূল খাবেন। টক ফল খেতে পারেন প্রচুর। 


ডায়াবেটিস হলে খাবার গ্রহণে পালনীয় 

তামাক, জর্দা, অ্যালকোহল বর্জনীয়। সারা দিনের খাবার ৫ বা ৬ ভাগে ভাগ করে খান। একবারে বেশি পরিমাণ না খেয়া। বিশৃঙ্খলভাবে যখন–তখন খাবেন না। দুটো খাবারের মধ্যে তিন–চার ঘণ্টার ব্যবধান রাখবেন। ডেজার্ট হিসেবে মিষ্টি খাবারের বদলে টক দই, ফল খেতে পারেন।   



দ্রুত ডায়াবেটিস কমানোর উপায়

প্রাকৃতিক উপায়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ এর কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি জেনেছেন ডাক্তাররা। এজন্য শুধুমাত্র সুনিয়ন্ত্রিত জীবন-যাপন, ব্যায়াম, সঠিক খাদ্য গ্রহণ প্রয়োজন।  ওষুধ ছাড়া আকুপ্রেসার, মেডিটেশন, ব্যয়াম- এসবই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। কিন্তু যদি ডায়াবেটিস খুব বেড়ে যায় তাহলে কীভাবে এটি নিয়ন্ত্রণ করা হবে। দ্রুত ডায়াবেটিস কমানোর উপায় হলো ইনসুলিন গ্রহণ। অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ইনসুলিন নিতে হবে। কিন্তু এরপর ইনসুলিন ছাড়াই এটি নিয়ন্ত্রণে সচেষ্ট হতে হবে।


এই পোস্ট থেকে ডায়াবেটিস কমানোর প্রাকৃতিক উপায় জানলেন আপনি। এটি নিয়ন্ত্রণের জন্য লো কার্ব ডায়েট ফলো করতে হবে। তাহলে ৬ মাসে ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে আসে। মনে রাখবেন টাইপ ১ বা টাইপ ২ ডায়াবেটিস হোক না কেন চিকিৎসকের পরামর্শ বাদে কোনো ডায়েট অনুসরণ করা উচিত নয়। 

Post a Comment

Previous Post Next Post

Contact Form