সোমবার , ২৩ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » ক্রিকেট » স্বপ্ন এবার হোয়াইট ওয়াশ!

স্বপ্ন এবার হোয়াইট ওয়াশ!

দলবাংলাদেশের অনুশীলন শুরু হতেই গ্যালারিতে দেখা মিলল চিরচেনা ‘টাইগার শোয়েব’-এর। দু হাতে জাতীয় পতাকা ধরে অবিরাম দোলানো আর বাংলাদেশ বাংলাদেশ বলে চিত্কার।  এই শোয়েব আলীর মতো কোটি মানুষ এমন করে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জন্য চিত্কার করেছেন বহুকাল ধরে। প্রতিটা ম্যাচের আগে এমন করেই তারা চাঙ্গা করে তুলতে চেয়েছেন দলকে। তবে এবারের চিত্রটা একটু আলাদা, এবারের প্রত্যাশাটাও একটু আলাদা—পাকিস্তানকে হোয়াইট ওয়াশ করার প্রত্যাশা; বাংলা-ওয়াশ করার প্রত্যাশা।

 সেই প্রত্যাশা নিয়েই আজ দুপুর আড়াইটা থেকে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম দুটিই বিশাল ব্যবধানে জিতে সিরিজ ইতোমধ্যে বাংলাদেশ নিজেদের করে নিয়েছে। এখন রীতিমতো সিরিজের ‘ফেভারিট’ বাংলাদেশের সামনে অপেক্ষা শুধু পাকিস্তানকে হোয়াইট ওয়াশ করা, নিজেদের ইতিহাসে দশমবারের মতো কোনো দলের বিপক্ষে এই কাজ করা।
বাংলাদেশ দল অবশ্য আজকের ম্যাচটাকে হোয়াইট ওয়াশের আলঙ্কারিক ভঙ্গিতে দেখতে রাজি নয়। এটাকে তারা কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার মঞ্চ  হিসেবেও দেখছে না। এটা বাংলাদেশের কাছে বরং আরও একটা কঠিন চ্যালেঞ্জ, আরও একটা ভালো সুযোগ। সেই সুযোগটা কিছু রেটিং পয়েন্ট বাড়িয়ে নেয়ার সুযোগ।
২০১৯ বিশ্বকাপ সরাসরি খেলতে চাইলে ২০১৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে আইসিসি র্যাংকিংয়ে সেরা আটে থাকতে হবে। এই সিরিজে পাকিস্তানকে হোয়াইট ওয়াশ করলেও র্যাংকিংয়ে এগোতে পারবে না বাংলাদেশ; তবে বাড়বে রেটিং পয়েন্ট। যে রেটিং পয়েন্ট যোগ করেই র্যাংকিং হিসাব করা হয়। নয় নম্বরে থাকা বাংলাদেশ আজ জিতলে তাদের রেটিং পয়েন্ট হবে ৮১; ৯২ পয়েন্ট নিয়ে পাকিস্তান নেমে আসবে আটে। এই ব্যবধানটা সামনের সিরিজগুলোতে ঘোচানোর সুযোগ থাকবে।
গতকাল আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে দলের হয়ে কথা বলতে আসা সহকারী ও স্পিন কোচ রুয়ান কালপাগে পরিষ্কার করে বলছিলেন, এই রেটিং পয়েন্টের কারণেই তারা আজকের ম্যাচটাতেও জীবন দিয়েই লড়বেন। তিনি বলে গেলেন, তার দলের খেলোয়াড়রা প্রথম দুই ম্যাচের জয়ে আটকে না থেকে এখন আরেকটা নতুন জয় পেতে মুখিয়ে আছে।
দলের এই লক্ষ্য নিয়ে কালপাগে বলছিলেন, ‘আমাদের জন্য ওয়ানডে র্যাংকিংটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কাজেই এখন পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় নয়। প্রতিটি ম্যাচই বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি ম্যাচই জেতা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ওয়ানডে র্যাংকিংয়ে নিজেদের অবস্থান ও বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য এটা একটা দারুণ সুযোগ।’
কালপাগে একই সঙ্গে বাংলাদেশের এই সিরিজ জয় ও সম্ভাব্য হোয়াইট ওয়াশ অর্জনকে হঠাত্ অর্জন বলে মানতে রাজি নন। তার মতে এটা আসলে গত মাস ছয়েক ধরে বাংলাদেশের ধারাবাহিক উন্নতির ফলাফল, ‘গত কয়েক ম্যাচ কেবল নয়, আমরা গত ছয় মাসের বেশি সময় ধরে কঠোর পরিশ্রম করছি। সব সময় প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব নয়। তবে সবাই আত্মবিশ্বাসী। বোলিং-ফিল্ডিং-ব্যাটিং প্রতিটি বিভাগেই আমরা এ মুহূর্তে দারুণ করছি।’
ঠিক একই কথা বললেন, পাকিস্তানের হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা দলটির বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদও। তিনিও বলছেন, প্রথম দুই ম্যাচের পরাজয়ের শোকে আটকে থাকতে চান না তারা। নতুন করে শুরু করে আজ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে চান। সেই সঙ্গে মুশতাক অবশ্য বলে দিলেন, দেশে ও দেশের বাইরে ধারাবাহিকভাবে দারুণ খেলতে থাকা বাংলাদেশের বিপক্ষে কাজটা যথেষ্টই কঠিন হবে।

বাংলাদেশের একাদশে খুব স্বাভাবিকভাবেই কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। উইনিং কম্বিনেশন ভেঙে কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না তারা। বিপরীতে পাকিস্তান হয়তো রাহাত আলীর পরিবর্তে মাঠে নামিয়ে দিতে পারে দেশ থেকে উড়ে আসা সিনিয়র পেসার উমর গুলকে।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print