শুক্রবার , ২২ জুন ২০১৮
মূলপাতা » ক্রিকেট » নেইমার ঝলকে সেমিতে বার্সেলোনা

নেইমার ঝলকে সেমিতে বার্সেলোনা

barselonaগত সপ্তাহেই চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে এক পা দিয়ে রেখেছিল বার্সেলোনা। কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে প্যারিস সেইন্ট জার্মেইনকে (পিএসজি) ৩-১ গোলে হারিয়েছিল স্প্যানিশ জায়ান্টরা। ফরাসি ক্লাবটির বিপক্ষে এবার দ্বিতীয় লেগে জিতে শেষ চারের টিকিটটা নিশ্চিত করে ফেলল মেসি-নেইমার-সুয়ারেজদের দল।

মঙ্গলবার রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের ফিরতি লেগে পিএসজিকে ২-০ গোলে হারিয়েছে বার্সা। দুটি গোলই করেছেন দলের ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার। দুই লেগ মিলিয়ে ৫-১ গোলে এগিয়ে থেকে ইউরোপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই টুর্নামেন্টের সেমিতে উঠেছে বার্সা।

ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলে বার্সা। আর আক্রমণ থেকে গোলের খাতা খুলতেও বেশি সময় লাগেনি স্বাগতিকদের। ১৪ মিনিটেই দলকে এগিয়ে দেন নেইমার। আর ব্রাজিল তারকার এই গোলে দারুণ অবদান ছিল মিডফিল্ডার আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার। নিজেদের অর্ধ থেকে বল টেনে নিয়ে গিয়ে পিএসজির চার-চারজন খেলোয়াড়কে কাটিয়ে নেইমারকে পাস দেন স্পেনের এই মিডফিল্ডার। দারুণ ফিনিশিং দেন নেইমার। বক্সে ঢুকে পিএসজির গোলরক্ষক সিরিগুকে কাটিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন ব্রাজিল সুপারস্টার ।

ম্যাচের ২২ মিনিটে আক্রমণে যায় পিএসজি। ভালো সুযোগও পায় অতিথি দলটি। ডি বক্সের ভেতর বল পেয়েছিলেন এডিনসন কাভানি। তবে দুর্বল শট নেন পিএসজির এই স্ট্রাইকার। পরের মিনিটে মেসির একটি শট পোস্টের ওপর দিয়ে চলে যায়। ২৬ মিনিটে ডি বক্সের সামনে থেকে দানি আলভেজের জোরালো শট লাফিয়ে উঠে ঠেকিয়ে দেন পিএসজির গোলরক্ষক সিরিগু। ফিরতি বলে সুযোগ পেয়েছিলেন নেইমার। হেডও নিয়েছিলেন তিনি। তবে তার হেড গ্লাভসবন্দি করেন অতিথি গোলরক্ষক।

৩৪ মিনিটে দুই ব্রাজিলিয়ান আলভেজ ও নেইমারের নৈপুণ্যে স্কোরলাইন ২-০ করে ফেলে বার্সা। গোল করেন নেইমার আর সহায়তা করেন আলভেজ। পিএসজির ডিফেন্ডার ডেভিড লুইজকে কাটিয়ে আলভেজ বক্সের ভেতর নেইমারকে দারুণ একটি ক্রস দেন। স্বদেশী সতীর্থের থেকে বল পেয়ে জালে জড়াতে কোনো ভুল করেননি নেইমার। তার হেড পিএসজির জাল খুঁজে নেয়। গোলের পর দুই ব্রাজিলিয়ানের উদযাপনও ছিল স্বদেশী ঢঙেই। দৌড়ে আলভেজের পিঠে চড়ে বসেন নেইমার। সতীর্থকে পিঠে নিয়ে হেলেদুলে নাচতে থাকেন আলভেজ।

এরপর প্রথমার্ধের বাকি সময়ে আর ভালো কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি দুই দলের কেউই। ২-০ গোলের লিড নিয়ে দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু করে বার্সা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে দুই দলই আক্রমণ আর পাল্টা-আক্রমণ চালায়। এরই মাঝে ৫৯ মিনিটে গোল শোধের দারুণ এক সুযোগ আসে পিএসজির সামনে। ডি বক্সে ভারাত্তিকে পাস দেন জ্বালাতান ইব্রাহিমোভিচ। তবে বল পোস্টের বাইরে দিয়ে মারেন ভারাত্তি। ৬৮ মিনিটে নেইমারকে পিএসজির এক খেলোয়াড় ফাউল করলে ফ্রি-কিক পায় বার্সা। জাভির ফ্রি-কিক বক্সের ভেতর প্রতিরোধ করেন পিএসজির ডিফেন্ডাররা।

তিন মিনিট পরে অতিথিদের ডি বক্সের ভেতর দারুণ এক ক্রস দেন আলভেজ। তবে সেটা প্রতিহত করেন তারই জাতীয় দলের সতীর্থ লুইজ। ৭৩ মিনিটে পাল্টা-আক্রমণে যায় পিএসজি। কাভানির পাস থেকে ইব্রা বল পেয়ে তা হাভিয়ের পাস্তোরেকে বাড়ান। জোরালো শটও নিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার পাস্তোরে। তবে তার শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন বার্সা গোলরক্ষক টের স্টেগেন। দুই মিনিট পর সুয়ারেজকে উঠিয়ে নেন বার্সা কোচ লুইস এনরিক। উরুগুইয়ান তারকার বদলে পেদ্রোকে মাঠে নামান তিনি।

৭৯ মিনিটে আরেকটি সুযোগ আসে পিএসজির সামনে। বার্সার ডি বক্সে ভেতর উঁচুতে বল ওঠে। ডিফেন্ডার পিকে সেটা হেডে প্রতিহত করতে চাইলেও সেখানেই থাকে। পোস্ট ছেড়ে বাঁ পাশে বলটি ধরতে যান বার্সা গোলরক্ষক স্টেগেন, কিন্তু পারেননি। কাভানি বল পেয়ে সতীর্থ রবার্তোকে বাড়ান। পোস্ট ফাঁকা থাকলেও শট নিতে পারেননি রবার্তো। বার্সা ডিফেন্ডাররা তাকে প্রতিহত করেন। এরপর কাভানিকে উঠিয়ে নেন পিএসজির কোচ। তার বদলে মাঠে আসেন আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার লেভেজ্জি।

অতিরিক্ত সময়ে একটি সুযোগ পান মেসি। তবে ডি বক্সের সামনে থেকে আর্জেন্টাইন তারকার নেওয়া শট পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। ফলে শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল হয়নি। নেইমারের জোড়া গোলের দারুণ জয়ে সেমিতে ওঠে বার্সা।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print