সোমবার , ২৫ জুন ২০১৮
মূলপাতা » জাতীয় » মিডিয়া তোলপাড় করা ‘বস্ত্রহরণের ছবিটি’ ঢাবির নয়

মিডিয়া তোলপাড় করা ‘বস্ত্রহরণের ছবিটি’ ঢাবির নয়

রাজধানীর চানখারপুল এলাকায় জবির 'উত্তরণ' ও 'অনির্বাণ' বাসে যৌন হয়রানির দায়ে অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ-কর্মী নাজমুলকে দেওয়া গণধোলাইয়ের ছবি।

রাজধানীর চানখারপুল এলাকায় জবির ‘উত্তরণ’ ও ‘অনির্বাণ’ বাসে যৌন হয়রানির দায়ে অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ-কর্মী নাজমুলকে দেওয়া গণধোলাইয়ের ছবি।

পহেলা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে বর্ষবরণ উৎসবে নারীদের যৌন হয়রানি করে কতিপয় বখাটে যুবক। ওই ঘটনার সংবাদের সঙ্গে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে যে ছবিটি ব্যবহার করা হয়েছে, সেটি আসলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঘটে যাওয়া যৌন হয়রানির ছবি নয়। এটি ওইদিন বিকেলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে রাজধানীর চানখারপুল এলাকায় জবির ‘উত্তরণ’ ও ‘অনির্বাণ’ বাসে যৌন হয়রানির দায়ে অভিযুক্ত ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ-কর্মী নাজমুলকে দেওয়া গণধোলাইয়ের ছবি। নাজমুল বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ৭ম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

নাজমুলকে গণধোলাইয়ের সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন বাংলা ট্রিবিউনের জবি প্রতিনিধি রশিদ আল রুহানী (রোহান)। তিনি গণধোলাইয়ের ঘটনার ছবি তোলেন। ছবি তোলার কারণে জবি-শাখা ছাত্রলীগ-কর্মী আলাউদ্দিন, চঞ্চল ও গণধোলাইয়ের শিকার নাজমুলের হাতে লাঞ্ছিত হন রোহান। কিন্তু এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরে দেশের কিছু গণমাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে নারীর যৌন হয়রানির ছবি বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এতে সৃষ্টি হয় বিভ্রান্তি। সৃষ্টি হয় বিতর্কের।

যে ছবিটি নিয়ে বর্তমানে এত বিতর্ক, সেই ছবিটির ঠিক আগে-পরে তোলা দুটি ছবি দেখলেই বিষয়টি স্পষ্ট বোঝা যাবে।

নাজমুলের সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বাকবিতণ্ডা

নাজমুলের সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বাকবিতণ্ডা

রথম ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে প্রাক্তন ছাত্রলীগ-কর্মী (বর্তমানে বহিষ্কৃত) নাজমুলের সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বাকবিতণ্ডা চলছে। এ সময় নাজমুলের শরীরে কোনও কাপড় নেই, শুধু তার কাঁধে তার নেভি ব্লু রঙের শার্টটি ঝোলানো অবস্থায় রয়েছে। হাতে বাঁধা আছে একটি তোয়ালে। পরনে কালো জিন্স। আর পায়ে কনভার্স। ছবিটিতে আরও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, জবির একটি বাসে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় লেখা। ছবিটি তোলা হয়েছে সর্বশেষ (অনির্বাণ) বাসটির দোতলা থেকে।

02

যৌন হয়রানির দায়ে নাজমুলকে গণধোলাই

 

গণধোলাইয়ের ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে, নাজমুলের টি শার্টটি গলার সঙ্গে আটকে আছে। যা অনেকটা মেয়েদের চুলের মতো দেখাচ্ছে। এবং সর্বশেষ ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে, নাজমুল গণধোলাইয়ের পর রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে আছে।

গণধোলাইয়ের পরে নাজমুল, আলাউদ্দিন এবং চঞ্চল প্রথম থেকেই অবস্থান করা ‘উত্তরণ’ নামক বাসটিতে উঠতে আর সাহস করেনি। তারা পেছনের বাসটিতে অর্থাৎ ‘অনির্বাণ’ নামক বাসটিতে উঠে বসে। তখন বাসের দোতলায় থাকা অন্য কয়েকজন এই প্রতিনিধিকে দেখিয়ে নাজমুলদের বলে, ‘গণধোলাইয়ের ছবি এই রোহান তুলেছে।’ এরপরেই ওই তিনজন এ প্রতিনিধির ওপর চড়াও হয়।

গণধোলাইয়ের পর নাজমুল

গণধোলাইয়ের পর নাজমুল

অনির্বাণ’ বাসে থাকা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের জবি প্রতিনিধি কাজী নাফিয়া রহমান। তিনি বলেন, জবির ঘটনার ছবিটি রাজধানীর চানখারপুলের। কিন্তু এ ছবিটিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির ছবি বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভুলভাবে প্রকাশিত হওয়েছে। ‌‌এতে যারা ছাত্রী যৌন হয়রানিকারীদের গণধোলাই দিয়েছেন, তারাই উল্টো যৌন হয়রানিকারী হিসেবে চিহ্নিত হয়ে গেলেন। এটা কখনোই ঢাবির নারীর যৌন হয়রানির ঘটনার ছবি নয়।

এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ওইদিন ঘটনার সময় আমরা উপস্থিত ছিলাম। নাজমুল, চঞ্চল ও আলাউদ্দিন ‘উত্তরণ’ বাসের ভেতর মেয়েদের যৌন হয়রানি করেছিল। পরে তাদের একজনকে গণধোলাই দেওয়া হয়। এ ঘটনার ছবি তোলায় বাংলা ট্রিবিউনের জবি প্রতিনিধিকে লাঞ্ছিতও করে অভিযুক্তরা।

গণধোলাই শেষে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে নাজমুল

গণধোলাই শেষে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে নাজমুল

যা ঘটেছিল সেদিন:

ছাত্রীদের যৌন হয়রানির চেষ্টা করায় ‘উত্তরণ’ বাস থেকে নাজমুল, চঞ্চল ও আলাউদ্দিনকে নামিয়ে দেয় সাধারণ শিক্ষার্থীরা। পরে বাকবিতণ্ডা চলার একপর্যায়ে নাজমুলকে মাঝখানে রেখে গণধোলাই দেয় তারা। এরপর আলাউদ্দিন ও চঞ্চল তখন ভয়ে পেছনের বাসটিতে (অনির্বাণ) উঠে পড়ে। গণধোলাইয়ের পরে নাজমুলও বাসটিতে উঠে বসে।

গণধোলাইয়ের পর 'অনির্বাণ' বাসে ওঠে বসে নাজমুল

গণধোলাইয়ের পর ‘অনির্বাণ’ বাসে ওঠে বসে নাজমুল

আলাউদ্দিন ও চঞ্চলের মাধ্যমে নাজমুল জানতে পারে, এ প্রধিনিধিই ছবি তোলে। তখন তিনজনই এই প্রধিনিধির ওপর চড়াও হয়। ক্যামেরা ভেঙে ফেলার চেষ্টা করে এবং কিছু ছবি মুছে দেয়। পরে ওরা গায়ে হাত তোলারও হুমকি দেয়। বাসের মধ্যে থাকা কয়েকজন এগিয়ে আসায় তারা আর গায়ে হাত তুলতে পারেনি। ঢাবি এলাকার যৌন হয়রানির ঘটনার সঙ্গে গণমাধ্যমে ছাপা হওয়া ছবির কোনও মিল নেই।

সংগৃহীত

 

 

 


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print