শুক্রবার , ২২ জুন ২০১৮
মূলপাতা » প্রধান খবর » তরুণীদের লাঞ্ছনায় ছবি শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ

তরুণীদের লাঞ্ছনায় ছবি শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ

indexঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে তরুণীদের লাঞ্ছনার ঘটনা ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরায় ধরা পড়লেও জড়িতদের এখনো শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) দাবি করেছে—সিসি ক্যামেরায় ওপর থেকে ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে কারো মুখের ছবি ধরা পড়েনি। ছবিগুলো বড় করলে তা অস্পষ্ট হয়ে যায়।তবে সে দিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিভিন্ন ব্যক্তির মোবাইল ফোনে তোলা ছবি দেখে পুলিশ ধারণা করছে—এরাই লাঞ্ছনার ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে। ওই সব ছবিতে তারা যে লাঞ্ছনা করেছে তারো কোনো প্রমাণ নেই।
তরুণীদের লাঞ্ছনার ঘটনায় ইতোমধ্যে পুলিশের পক্ষ থেকে দুইটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে জানান—এ নিন্দনীয় ঘটনায় ইতোমধ্যেই পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়াও ঘটনার সময় ওই এলাকায় দায়িত্বরত পুলিশের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ সব তদন্তে দুইটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ডিএমপি সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে—ঘটনা তদন্তে মূল ও সহযোগী দুই কমিটিতে রয়েছেন ৫ জন সদস্য। মূল কমিটিতে রয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) এডিশনাল কমিশনার ইব্রাহীম ফাতেমী (ক্রাইম অ্যান্ড অপস), যুগ্ম কমিশনার (লজিস্টিক) ওয়াই এম  বেলালুর রহমান ও ডিসি-ডিবি জাহাঙ্গীর  হোসেন মাতুব্বর। তাদের তদন্তের কাজে সহায়তা করবেন—রমনা জোনের অতিরিক্ত পুলিশের উপকমিশনার এবং সহকারী পুলিশ কমিশনার (রমনা জোন) শিবলী নোমান।
যুগ্ন কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের কাছে ইনফরমেশন রয়েছে, যেটা সিসি টিভির ফুটেজ। এ ছাড়া বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়, মিডিয়ায় প্রকাশিত-প্রচারিত যেসব ফুটেজ আছে, সেগুলো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।’
‘টিএসসির আশপাশের এলাকায় ঠ্যালাঠেলি হয়েছে’ বলে স্বীকার করে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে ঠ্যালা-ধাক্কা, হাতাহাতি হয়েছে। একেবারেই কিছু বিকৃতমনা যুবক এবং যারা অপুরুষসুলভ, তারাই হয়তো এ কাজটি করেছে।  তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য কাজ চলছে।’
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে যুগ্ন কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘শুধু পহেলা বৈশাখ নয়, রাষ্ট্রীয় এ ধরনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে একটি মহল চক্রান্ত করছে। এই চক্রের সদস্যদের মধ্যে উগ্র-মৌলবাদ গোষ্ঠীর সদস্যরাও রয়েছে। ঘৃণ্য ঐ মহল বর্ষবরণ অনুষ্ঠানকে বিতর্কিত করতে আগে থেকেই বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়েছে। এটকে শিরক, ইসলাম বিরোধী বলে ছড়িয়ে দিতে তত্পর রয়েছে। তবে তাদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’
এ ঘটনা তদন্তে গঠিত তদন্ত কমিটির একজন সদস্য বলেন, ‘ছাত্র ইউনিয়ন নেতা লিটন নন্দীর সহযোগিতা নিয়ে ঘটনার তদন্ত চলছে। তিনি ইতোমধ্যে অনেক ধরনের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। তবে ঘটনার ভুক্তভোগী নারীদের পাশপাশি জড়িত অসভ্য চক্রের সদস্যদের তিনি ঘটনার সময় চিনতে পারেননি বলে জানিয়েছেন। এর বাইরেও তিনি বেশ কিছু তথ্য দিয়েছেন, যা যাচাই বাছাই চলছে।’
এ দিকে, ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে সকাল ১০টার দিকে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কমপক্ষে ৪০ জন  নেতা-কর্মী রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী এলাকায় ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের কাছে সড়কে অবস্থান নেন। তারা ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে বাধা দেয় পুলিশ। পরে প্রতিতবাদকারীরা  সেখানে অবস্থান নিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য  দেন।
বক্তব্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সিপিবি-বাসদ সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী আবদুল্লাহ আল ক্বাফী বলেন, ‘নারীদের জন্য নিরাপদ নগর চাই। পহেলা বৈশাখের দিন পুলিশ তাদের দায়িত্ব পালন করেনি।’
এরপর বেলা ১১টার দিকে সিপিবি-বাসদের সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে দেখা করতে তার কার্যালয় যায়। তারা  সেখানে দেড় ঘণ্টার মতো অবস্থান নেন।

আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print