মঙ্গলবার , ১৪ আগস্ট ২০১৮
মূলপাতা » কলেজ » উপাচার্যের স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে শিক্ষকদের পদত্যাগ

উপাচার্যের স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে শিক্ষকদের পদত্যাগ

 

মিনহাজুল আবেদিন, বেরোবি প্রতিনিধি:

পদোন্নতি পাওয়া শিক্ষকদের পদমর্যাদাসহ প্রাপ্য সুবিধাদি না দেওয়া এবং নানা  ক্ষেত্রে  উপাচার্যের স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে বিভিন্ন প্রশাসনিক এবং একাডেমিক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯ শিক্ষক।

এছাড়াও পূর্বের ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উপাচার্যকে বয়কটের সিদ্ধান্ত অব্যাহত রয়েছে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর-এর সাধারণ সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ রবিবার সকাল ১১টায় বিভিন্ন পদে থাকা শিক্ষকবৃন্দ তাঁদের পদত্যাগপত্র জমা দেন। তবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর হলের সাক্ষাতকার প্রক্রিয়া চলমান থাকায় ওই হলের প্রভোস্ট ও সহকারী প্রভোস্টগণ পরবর্তী সময়ে তাঁদের পদত্যাগপত্র জমা দেবেন।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নের্তৃত্বে যে সকল পদ থেকে শিক্ষক বিভিন্ন একাডেমিক ও প্রশাসনিক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন তাঁরা হলেন- দুইটি অনুষদের ডিন, ১১ টি অনুষদের প্রধান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত), দুইটি হলের প্রভোস্ট,  তিনজন সহকারী প্রভোস্ট। এছাড়া বাকি কয়েকটি পদেও দায়িত্বে থাকা শিক্ষকবৃন্দ ছুটিতে থাকায় পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন নি। পরবর্তী সময়ে তাঁরা উপস্তিত হয়ে সেগুলো জমা দেবেন বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪২তম সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে ২৭ জন প্রভাষককে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। কিন্তু তাঁরা এর অনেক আগে যোগ্যতা অর্জন করলেও তাঁদের পদমর্যাদা ও প্রাপ্য সুবিধাদি সিন্ডিকেট সভার দিন থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এর আগে, অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য শিক্ষকরা আবেদন করে রাখলেও তা নিয়ে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। এ বিষয়ে উপাচার্যের কাছে বারবার ধরনা দিলেও অর্জিত সময় থেকে পদমর্যাদা ও প্রাপ্য সুবিধাদি দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। বিষয়টি নিরসনে গত ২৭ অক্টোবর শিক্ষক সমিতি সাধারণ সভা করার মাধ্যমে উপাচার্যকে স্মারকলিপি দিলেও তিনি সে বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় গত ১লা নভেম্বর সংবাদ সম্মেলন করার মাধ্যমে শিক্ষক সমিতি ০৫ নভেম্বর পর্যন্ত উপাচার্যকে বয়কট করেছিল কিন্তু এরপরেও উপাচার্য শিক্ষকদের দাবি মেনে না নিলে গত বৃহস্পতিবার শিক্ষক সমিতি জরুরি সাধারণ সভা করার মাধ্যমে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে একাডেমিক প্রশাসনিক পদগুলো থেকে পদত্যাগ করলেও ক্লাস ও পরীক্ষা চালিয়ে যাবেন শিক্ষকরা। এছাড়াও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে সাক্ষাতকার প্রক্রিয়া চলমান থাকায় ওই হলের প্রভোস্ট ও সহকারী প্রভোস্টগণ আপাতত তাঁদের দায়িত্ব পালন করে যাবেন।

এছাড়া,
বিশ্ববিদালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কাজে উপাচার্যের স্বেচ্ছাচারী আচরণ ও একগুয়েমিতার েএকাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল,  দাপ্তরিক কাজের অজুহাতে বেশিরভাগ সময় ঢাকায় অবস্থান করা, ইচ্ছাকৃতভাবে তিনি অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক পদের পদোন্নতিও আটকে রাখাসহ নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলন করেও কোন সুরাাহা না হওয়ায় শিক্ষকরা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

#

 


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print