শুক্রবার , ২৭ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » জ্ঞান-বিজ্ঞান » চর্চার চাইতে বড় সাফল্যের চাবিকাঠি নেই: জুকারবার্গ

চর্চার চাইতে বড় সাফল্যের চাবিকাঠি নেই: জুকারবার্গ

indexসামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয়তম ওয়েবসাইট ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গ এক প্রশ্নোত্তর সেশনে ফেসবুকসহ নানা বিষয়ে আগ্রহীদের প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। তাতে বের হয়ে এসেছে তার ভবিষ্যত্ পরিকল্পনার অনেক কথাও। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এই প্রশ্নোত্তর সেশনে উঠে আসা নানা বিষয় সম্পর্কে জানাচ্ছেন তরিকুর রহমান সজীব
অফিশিয়াল ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রশ্নোত্তর সেশনের আহ্বান জানিয়ে মার্ক জুকারবার্গ লিখেন, মনে আসে এমন যেকোনো প্রশ্নই করা যাবে তাকে। আর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যতগুলো সম্ভব প্রশ্নের জবাবও দেওয়ার চেষ্টা করবেন তিনি। উন্মুক্ত এই আহ্বানে জুকারবার্গের কর্মঘণ্টা, ফেসবুক ডটঅর্গ থেকে নানা বিষয় উঠে আসে।
কত সময় ধরে কাজ করেন, এমন প্রশ্নের জবাবে জুকারবার্গ জানান তিনি মূলত তার সারাজীবন ধরেই কাজ করে যাচ্ছেন। কাজের সময়ের প্রচলিত শ্রেণিবিভাজনও তিনি তেমন একটা মেনে চলেন না। তিনি লিখেন, ‘আসলে কাজ হিসেবে আপনি কোনটাকে গণ্য করবেন তার ওপর নির্ভর করছে আমি কত সময় ধরে কাজ করি। বিভিন্ন মিটিংয়ে বা অফিসে কাটানো সময়কেই আমরা সাধারণত কাজের সময় হিসেবে গণ্য করে থাকি। কিন্তু এর বাইরেও আমার বেশিরভাগ সময়ই মূলত কাটে এই চিন্তা করতে যে কী করে বিশ্বকে যোগাযোগের মধ্যে নিয়ে আসা যায় এবং আমাদের কমিউনিটিকে আরও ভালোভাবে সেবা প্রদান করা যায়। পড়া এবং নিজে নিজে চিন্তা-ভাবনা করার জন্য আমার প্রচুর সময় কেটে যায়। সেই হিসেবে আমার গোটা জীবনই কর্মজীবন। তবে অফিসে থাকার সময় বিবেচনায় নিলে সপ্তাহে গড়ে ৫০ থেকে ৬০ ঘণ্টা কাজ করা হয়।’
নেট নিউট্রালিটি বিষয়ে জানতে চাইলে জুকারবার্গ লিখেন, ‘নেটওয়ার্ক অপারেটররা যাতে কোনো বৈষম্য তৈরি করতে না পারে এবং কারও জন্য সংযোগকে সীমাবদ্ধ না করতে পারে, সেটা নিশ্চিত করতে নেট নিউট্রালিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; যেসব দেশে বেশিরভাগ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকে, তাদের জন্য এটি বিশেষভাবে আরও গুরুত্বপূর্ণ। আর একেবারেই ইন্টারনেটের সেবা থেকে বঞ্চিত থাকার তুলনায় ইন্টারনেটে সীমিত আকারের প্রবেশযোগ্যতা থাকাও উত্তম। এতে করে অন্তত মানুষ তার নিজেদের ধারণাগুলোকে অন্যদের সাথে শেয়ার করার সুযোগ পায়। এ কারণেই আমাদের ইন্টারনেট ডটঅর্গ উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ এবং এই উদ্যোগ নেট নিউট্রালিটির মৌলিক ধারণার সাথে সহাবস্থান করে থাকে।’
বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট সংযোগ পৌঁছে দিতে ফেসবুক ইন্টারনেট ডটঅর্গ উদ্যোগ চালু করেছে যা জাম্বিয়া, কলম্বিয়া, ভারতের মতো বিভিন্ন দেশে ইন্টারনেট-বঞ্চিত এলাকায় বিনামূল্যে ইন্টারনেট ছড়িয়ে দিচ্ছে। এই উদ্যোগ নিয়ে নানা প্রশ্নের জবাবে জুকারবার্গ লিখেন, ‘বিশ্বের যেখানেই মানুষের ইন্টারনেট সংযোগের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, সেখানেই আমরা ইন্টারনেট নিয়ে পৌঁছে যেতে চাই। তবে প্রাথমিকভাবে আমরা চেষ্টা করছি সেসব দেশে পৌঁছাতে যেসব দেশের বেশিরভাগ মানুষই ইন্টারনেট সংযোগের বাইরে রয়েছে। বিভিন্ন দেশের সরকার এবং নেটওয়ার্ক অপারেটরের মধ্যে যারা ইন্টারনেট ডটঅর্গ নিয়ে বেশি একটু বেশিই আগ্রহী, তাদের সাথেই আমরা বেশি কাজ করছি।’
জুকারবার্গ লিখেন, ‘আমরা যখন বিশ্বকে সংযুক্ত করার কথা বলে থাকি, তখন আমরা স্পষ্টতই ইন্টারনেট থেকে বঞ্চিতদের ইন্টারনেটের আওতায় নিয়ে আসার মাধ্যমে তাদের নানা ধরনের সুযোগের সামনে উন্মুক্ত করার কথাই বলে থাকি। এতে করে তারা শিক্ষা, স্বাস্থ্য তথ্য, চাকরিসহ নানা ধরনের তথ্যের একটি অবাধ প্রবাহে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। বেশকিছু প্রাক্কলনে দেখা গেছে, প্রতি ১০০ কোটি মানুষ ইন্টারনেটে সংযুক্ত হলে ১০ কোটি মানুষ দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পায়।’
জুকারবার্গ লিখেন, ‘বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত না থাকার অর্থ হলো বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশ উদ্যোক্তা ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত নয়, যাদের ধারণাগুলো বিশ্বকে বদলে দিতে সক্ষম। তারা ইন্টারনেটে যুক্ত হওয়ার অর্থ হলো এখন আমরা যে পরিমাণ বৈপ্লবিক সব উদ্যোগের কথা জানতে পারছি, সেই উদ্যোগের পরিমাণ একটানে তিনগুণ হয়ে যাবে। ফলে ইন্টারনেটে তাদের সংযুক্তি বিশ্বকে নতুন রূপ দেওয়ার সম্ভাবনা রাখে।’
চীনের ভাষা মান্দারিন শেখার জন্য একজন টিপস চাইলে জুকারবার্গ জানান, চর্চার চাইতে বড় কোনো সাফল্যের চাবিকাঠি নেই। কথা বলার দিকে জোর দিয়ে তিনি লিখেন, ‘যারা নতুন ভাষা শিখতে চায়, তাদের অনেকেই শুরুর দিকে কেবল ওই ভাষা শুনতে চান। শুরুতেই কথা বলতে গেলে অনেক ভুল হতে পারে বলে তারা ভয় পান। কিন্তু আপনি যদি সব দ্বিধা ছেড়ে কথা বলতে শুরু করেন, তাতে যত ভুলই থাকুক না কেন, তাহলে আপনি আরও দ্রুত শিখতে পারবেন।’
ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম মানুষের মধ্যে সাক্ষাতের প্রবণতা কমিয়ে দিচ্ছে, এমন অভিযোগ অস্বীকার করেন জুকারবার্গ। মূলত যাদের সাথে সামনাসামনি সাক্ষাত্ হচ্ছে না, তাদের সাথে যোগাযোগের জন্যই ব্যবহার করা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম। এর সাথে কাছের মানুষ দূরে কোথাও গেলে বরং এই মাধ্যম তাদের সংযুক্ত রাখতে সহায়তা করবে বলে জানান তিনি।
অকুলাস রিফটের মতো নানা ধরনের প্রকল্প নিয়েও কাজ করে যাচ্ছে ফেসবুক। এসবের সম্ভাবনা নিয়ে জানতে চাইলে জুকারবার্গ লিখেন, ‘সম্ভাব্য যেকোনো কিছুর অভিজ্ঞতা অর্জনের ক্ষমতা মানুষকে প্রদান করাই আমাদের মিশন। এমনকি যা বাস্তবে ঘটানো সম্ভব নয়, সেগুলোকেও আমরা ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চুয়াল হলেও সেই অভিজ্ঞতা প্রদান করতে চাই।’

আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print