সোমবার , ২৩ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » ফুটবল » ঐতিহাসিক বার্লিন প্রাচীর পতনের ২৫ বছর পূর্তি

ঐতিহাসিক বার্লিন প্রাচীর পতনের ২৫ বছর পূর্তি

ঐতিহাসিক বার্লিন প্রাচীর পতনের ২৫ বছর পূর্তি আজ রোববার। জার্মানিকে ২৮ বছর ধরে পূর্ব-পশ্চিম দুই ভাগে ভাগ করে রেখেছিল বার্লিনে নির্মিত ১৫৫ কিলোমিটার বিস্তৃত প্রাচীর।

১৯৮৯ সালের ৯ নভেম্বর স্নায়ুযুদ্ধের সমাপ্তির প্রতীকস্বরূপ প্রাচীরটি ভেঙ্গে ফেলার মধ্যদিয়ে পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানির পুনর্মিলন ঘটে, যা আজ স্নায়ুযুদ্ধের অবসানেরও প্রতীক। তারই রজতজয়ন্তী উদযাপনে রোববার বার্লিনে জড়ো হয়েছেন অন্তত ১০ লাখ মানুষ।
দিনটি উপলক্ষে ব্রানডেনবুর্গ গেইটে এক উন্মুক্ত সমাবেশে অংশ নেবেন জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেল। তিনি মনে করেন, ২৫ বছর আগে শান্তিপূর্ণ বিপ্লবে বার্লিন প্রাচীরের পতন ছিল এক ‘অলৌকিক’ ঘটনা।
বার্লিন প্রাচীরের পতনের রজতজয়ন্তীতে তিন দিন ধরে চলছে উৎসব। বালিনজুড়ে এখন কনসার্ট আর প্রদর্শনীতে ইতিহাসের স্মরণ।
বোর্নহোলমার স্ট্রাসে (স্ট্রিট) থেকে ব্রানডেনবুর্গ গেইট, চেকপয়েন্ট চার্লি হয়ে ইস্ট সাইড গ্যালারি পর্যন্ত যে রেখায় এক সময় বার্লিন প্রাচীর দাঁড়িয়েছিল, সেই ১৫ কিলোমিটার পথ ধরে এখন জ্বলছে আট হাজার হিলিয়াম বেলুন। এসব বেলুন উড়ে গিয়ে মনে করিয়ে দেবে, সেই দেয়াল এখন অস্তিত্বহীন।
এ উৎসবে যোগ দিতে বার্লিনে এসেছেন সোভিয়েত ইউনিয়নের শেষ নেতা মিখাইল গর্বাচেভ (৮৩), যার গ্লাসনস্ত নীতিই স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের পথ করে দেয়, জার্মানির পুনর্মিলন ঘটে।
শনিবার এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ইউক্রেইনের ঘটনাপ্রবাহের সূত্র ধরে বিশ্বকে সতর্ক করে গর্বাচেভ বলেছেন, পৃথিবী আরেকটি স্নায়ুযুদ্ধের দ্বার প্রান্তে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের পর মিত্রশক্তির চার পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র , যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও সোভিয়েত ইউনিয়ন দেশটিকে ভাগ করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। যুক্তরাষ্ট্র , যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের অংশ নিয়ে গঠিত হয় ফেডারেল রিপাবলিক অব জার্মানি, যা পশ্চিম জার্মানি নামে পরিচিতি পায়। আর সোভিয়েত নিয়ন্ত্রিত পূর্ব অংশের নাম হয় ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব জার্মানি।
কমিউনিস্ট পূর্ব জার্মানির জনগণের পালিয়ে পশ্চিমে যাওয়ার পথ বন্ধ করতে ১৯৬১ সালে নির্মাণ করা হয় ১৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বার্লিন প্রাচীর। পাঁচ মিটার উঁচু আর পাঁচ ফুট চওড়া সেই দেয়ালের কোথাও কোথাও কাঁটাতারও ছিল।
বিভাজনের সেই ২৮ বছরে দেয়াল ডিঙাতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন অন্তত ১২৫ জন, এর মধ্যে ৩০ জনের মৃত্যু হয় বার্লিনেই।
পূর্বের মানুষের পুনর্মিলনের আকুতি ১৯৮৯ সালের সেপ্টেম্বরে জার্মান ঐক্যের আন্দোলনের রূপ নেয়। ৪ নভেম্বর আলেকজান্দরপ্লাৎসে জড়ো হন কয়েক লাখ বিক্ষোভকারী।
কয়েক দিনের টানা বিক্ষোভের পর ৯ নভেম্বর পূর্বের সরকার পশ্চিমে যাওয়ার পথ খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ঘোষণা আসে, “এখন থেকে সবার চলাচলের স্বাধীনতা থাকবে।”
আর সেই ঘোষণায় জার্মানিজুড়ে আনন্দের ঢল নামে; পূর্বের হাজার হাজার জনতার চাপে পতন ঘটে বার্লিন প্রাচীরের। মিলনকে তরান্বিত করতে হাতুড়ি-শাবল নিয়ে এগিয়ে যায় পশ্চিমের মানুষ। এর এক বছরের মাথায় আবারো একীভূত হয় দুই জার্মানি।
সেই প্রাচীরের তিন কিলোমিটার এখনো অবশিষ্ট আছে; সংরক্ষণ করা হয়েছে ইতিহাসের স্মারক হিসাবে। নানা রকম গ্রাফিতি আঁকা এই টুকরো টুকরো ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে ক্যামেরার সামনে পোজ দেন ট্যুরিস্টরা, স্যুভেনির শপে বিক্রি হয় সেই দেয়ালের টুকরো অংশ।
জার্মানির আজকের চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেল নিজেও বড় হয়েছেন কমিউনিস্ট পূর্ব জার্মানিতে। সেই বিপ্লবের রজত জয়ন্তীতে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “স্বাধীনতার স্বাদ পেতে ৩৫ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে আমাদের। সেই ঘটনা আমাদের জীবন বদলে দিয়েছে।”
কেবল মের্কেল বা জার্মানির ভাগ্য নয়, পূর্ব ইউরোপের ইতিহাস বদলেরও সূচনা সেই সময়টিতে।
সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print