বুধবার , ২৫ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » টেনিস » আন্দোলন শিথিল করার চিন্তা বিএনপির

আন্দোলন শিথিল করার চিন্তা বিএনপির

imagesসংবাদ সম্মেলনে কী বলবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া? তিনি কি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাই বলবেন? নাকি এ পর্যায়ে কর্মসূচি কিছুটা ‘শিথিল’ করে আনার ঘোষণা অপেক্ষা করছে? অবরোধ কর্মসূচির ৬৬ তম দিনে বিএনপি নেত্রীর ডাকা সংবাদ সম্মেলন ঘিরে এমন কৌতুহল দানা বেঁধেছে। আজ  বিকাল চারটার রাজধানীর গুলশানে বেগম জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে হবে এই সংবাদ সম্মেলন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সংবাদ সম্মেলনের ব্যাপারে আগাম কেউ কিছু নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। তবে দলের যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদের ‘নিখোঁজ’ হওয়ার বিষয়টি সংবাদ সম্মেলনে বেশি প্রাধান্য পাবে বলে জানা গেছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘নেত্রী কী নিয়ে কথা বলবেন তা আগাম বলা যাবে না। তবে অবরোধ কর্মসূচি চলছে দুই মাসের বেশি সময় হতে চললো। এই পরিস্থিতিতে সার্বিক আন্দোলনের দিক গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরতেই হয়তো এই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে।’
দলের স্থায়ী কমিটির আরেক প্রবীণ সদস্য জমির উদ্দিন সরকারও সংবাদ সম্মেলন নিয়ে আগেভাগে কিছু বলতে চাননি। তিনি বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন কী বলবেন এটা তার মুখ থেকেই শুনন। এত তাড়াহুড়োর কি আছে।’ আন্দোলন থেকে সরে আসার কোনো চিন্তা বিএনপির আছে কি-না জানতে চাইলে এই নেতা বলেন, ‘দাবি আদায়ের আগে আন্দোলন শিথিলের কথা আসছে কেন? একটা দল অন্যায়ভাবে ক্ষমতা আকড়ে থাকবে, গণতন্ত্রকে জিম্মি করবে তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শিথিল করার সুযোগ কোথায়?’
বিএনপির দলীয় একটি সূত্রে জানা গেছে, দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ২০ দলের অবস্থান নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও জোটের শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়া। সংবাদ সম্মেলন থেকে চলমান আন্দোলনের কর্মসূচিতে বৈচিত্র্য আনার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেই নতুন কর্মসূচি যোগ হতে পারে। এছাড়া চলমান আন্দোলনে বিরোধী জোটের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন ও ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপারসহ সার্বিক পরিস্থিতি সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরতে পারেন জোট নেত্রী।
বিএনপির ডাকা অবরোধ কর্মসূচি পা দিয়েছে ৬৬ দিনে। এর মধ্যেই দফায় দফায় ডাকা হচ্ছে হরতাল। এতে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়ছে সাধারণ মানুষ। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ‘একতরফা’ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগের দাবিতে গত ৬ জানুয়ারি থেকে চলছে এই অবরোধ। তবে এর দুদিন আগেই শুরু হয় সহিংসতা। ‘ক্রসফায়ারে’ ৩৩ জনসহ সহিংসতায় এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ১২০ জন; আহত মানুষের সংখ্যা সহস্রাধিক। আগুন দেওয়া হয়েছে সাত শতাধিক যানবাহনে এবং ভাঙচুর করা ছয় শতাধিক।

আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print