শনিবার , ২১ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » স্বাস্থ্য » জেনে নিন কিডনি সমস্যার গুরুত্বপূর্ণ ৭ টি লক্ষণ

জেনে নিন কিডনি সমস্যার গুরুত্বপূর্ণ ৭ টি লক্ষণ

kidney-stone-symptomsকিডনির সমস্যা জনিত রোগকে বলা হয় নীরব ঘাতক। কারণ অনেকেই কিডনি সমস্যার বিষয়টি ভালো করে বুঝতেই পারেন না। যখন বুঝে উঠেন তখন হাতে আর সময় থাকে না। তাই সতর্ক হতে হতে নিজেদেরকেই এই নীরব ঘাতক থেকে মুক্তি পেতে চাইলে। লক্ষ্য রাখতে হবে কিডনির স্বাভাবিক কর্মক্ষমতার উপরে। এবং জেনে নিতে হবে কিডনি সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণগুলো। এতে করে প্রাথমিক পর্যায়ে লক্ষণ দেখে সমস্যা ধরা পড়লে চিকিৎসার মাধ্যমে সারিয়ে তোলা সম্ভব। আজকে জেনে নিন মারাত্মক কিডনি সমস্যার গুরুত্বপূর্ণ ৭ টি লক্ষণ।

১) প্রস্রাবে সমস্যা

কিডনি সমস্যার প্রথম ও প্রধান লক্ষণ হচ্ছে প্রস্রাবে সমস্যা হওয়া। প্রস্রাবের পরিমাণ এবং সময়ে পরিবর্তন আসার সমস্যা দেখা দেয়, বিশেষ করে রাতের বেলা এই সমস্যা বেশি নজরে পড়ে। এবং গাঢ় রঙের প্রস্রাব হতে দেখা যায় বেশীরভাগ সময়। এছাড়াও প্রস্রাবের সময় ব্যথা হওয়া এবং প্রস্রাবের সাথে রক্ত যাওয়ার বিষয়টি অবহেলা করবেন না মোটেও।

২) হাত, পা ও মুখে পানি জমে ফুলে যাওয়া

কিডনির মূল কাজ হচ্ছে দেহের বাড়তি অপ্রয়োজনীয় পানি জাতীয় পদার্থ দূর করা। কিন্তু যখন কিডনির সমস্যা শুরু হয় তখন কিডনি তার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এতে করে এইসকল অপ্রয়োজনীয় পানি জাতীয় পদার্থ বের হতে পারে না এবং হাত, পা বা মুখে জমে ফুলে যায়।

৩) অতিরিক্ত শারীরিক দুর্বলতা

কিডনির আরেকটি কাজ হচ্ছে দেহে erythropoietin নামক হরমোন উৎপন্ন করা যা রক্তের লোহিত রক্ত কণিকা উৎপাদনে সহায়তা করে যা দেহে অক্সিজেন সঞ্চালন করে। কিডনি সমস্যা শুরু হলে এই হরমোন উৎপাদন একেবারেই কমে যায়। ফলে কমে যায় লোহিত রক্ত কণিকা এবং দেহে কম অক্সিজেন পৌছায়। এতে করে শরীর অতিরিক্ত দুর্বল হয়ে পড়ে।

৪) মাথা ঘোরানো এবং মনোযোগ দিতে না পারা

দেহে লোহিত রক্ত কণিকা কমে যাওয়ায় অক্সিজেন কম পৌছায় মস্তিষ্কেও। একারণে মাথা ঘোরানো এবং কোনো কিছুতে মনোযোগ দেয়ার ব্যাপারে বিঘ্ন ঘটতে থাকে অনেক বেশি।

৫) ত্বকে র্যাাশ উঠা এবং চুলকোনির সমস্যা

কিডনির সমস্যা হলে কিডনি তার কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। যার ফলে রক্তে অনেক বেশি দূষিত পদার্থ জমে যা দেহের ত্বকে র্যারশের সৃষ্টি করে এবং প্রচণ্ড চুলকোনি শুরু হয়।

৬) ছোটো ছোটো শ্বাস নেয়া

কিডনির সমস্যায় দেহের দূষিত পদার্থ দেহ থেকে বের হতে না পেরে দেহেই জমা থাকে এবং ফুসফুসে জমে যায়। এছাড়াও কিডনির সমস্যায় আরেকটি নতুন সমস্যা শুরু হয় যার নাম অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা। এই দুটি কারণে দেহে অক্সিজেনের অভাব হয়, যার ফলে রোগীকে ছোটো ছোটো শ্বাস নিতে দেখা যায়।

৭) পিঠের নিচের অংশে এবং একপাশে প্রচণ্ড ব্যথা হওয়া

অনেকের কিডনি সমস্যা শুরু হলে পিঠের নিচের অংশে এবং একপাশে ব্যথা শুরু হয়। এটি হতে পারে কিডনি স্টোনের জন্য, অথবা ব্লাডারের কোষে প্রদাহ জনিত ব্যথা কিংবা দূষিত পানি পূর্ণ কিডনি সিস্টের কারণে। সুতরাং একেবারেই অবহেলা না করে ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।

সূত্রঃ হেলথডাইজেস্ট


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print