সোমবার , ২৩ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » টেনিস » বিএনপির সমর্থন চাইলেন মাহী বি চৌধুরী

বিএনপির সমর্থন চাইলেন মাহী বি চৌধুরী

মাহী বি চৌধুরী২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সমর্থন চেয়েছেন বিকল্পধারার যুগ্ম-মহাসচিব ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী মাহী বি চৌধুরী। একই সঙ্গে নির্বাচনী স্লোগান ‘প্রজন্ম ভাবনা’র তিনটি অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন এবং মেয়র নির্বাচিত হলে আলোকিত ঢাকা গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়ার সমর্থন চেয়ে মাহী বি চৌধুরী বলেন, ‘আমি বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা করি। কিন্তু আমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী আদর্শের চেতনায় বিশ্বাসী। আমি জাতীয়তাবাদী চেতনার মানুষ। সে কারণে সব জাতীয়তাবাদী শক্তির সমর্থন চাই। জাতীয়তাবাদী আদর্শ ও চেতনার প্রতীক হলেন বেগম খালেদা জিয়া। আমি খালেদা জিয়ার সমর্থন চাই। বিএনপির সমর্থন চাই।’

তিনি বলেন, ‘আমি ১৯৯৯ সালে সক্রিয়ভাবে রাজনীতি শুরু করি। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব আমার বাবা (বদরুদ্দোজা চৌধুরী)। যেহেতু আমি মেয়র প্রার্থী হয়েছি তাই সবার দোয়া ও সমর্থন চাই।’

প্রজন্ম শহর গড়ার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বিকল্পধারা এই যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, ‘এটা শুধু তরুণ প্রজন্মের শহর নয়, সব প্রজন্মের মানুষই বাস করেন। তারা শান্তিপূর্ণ ও অহিংস রাজনীতি দেখতে চায়। আবেগ নয়, কর্মসূচিভিত্তিক রাজনীতি দেখতে চায়। তারা বিভক্তির বাংলাদেশ দেখতে চায় না। ঐকমত্যের রাজনীতি দেখতে চায়।’

মেয়র নির্বাচিত হলে প্রজন্মের এই ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।

ঢাকা উত্তরের তিনটি মূল সমস্যা চিহ্নিত করে মাহী বি চৌধুরী বলেন, ‘এখানে ৫০ ভাগ মধ্যবিত্ত, ২০ ভাগ উচ্চবিত্ত, ১৩ ভাগ নিম্নবিত্ত ও ৩ ভাগ বাস্তুহারা মানুষ বাস করেন। তারা মানুষের কাছে বিক্রি হয় না। এখানে তিনটি মূল সমস্যা রয়েছে-নিরাপত্তাহীনতা, স্থবিরতা, অন্ধকার। তাই তারা নিরাপদ ঢাকা চায়, চলমান ঢাকা চায়, আলোকিত ঢাকা চায়। আমি মেয়র হলে সাত ধাপে একটি পরিকল্পনা করব পরিবর্তনের জন্য। প্রথম একশ’ দিনের একটি প্লান থাকবে। তারপরে আড়াই বছর। প্রত্যেক মেয়াদের পরে একটি রিপোর্ট পেশ করব। প্রয়োজন অনুযায়ী করণীয় ঠিক করবো।’

তিনটি ভাবনা পূরণের জন্য রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও বিজয়ের কথা তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে আগামী ১৩ এপ্রিল সুনির্দিষ্ট নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করবেন বলেও জানান মাহী।

উত্তর সিটির মেয়র প্রার্থীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘উত্তরে যারা আছেন তারা সবাই যোগ্যতাসম্পন্ন, রুচিশীল মানুষ। আনিসুল হক অত্যন্ত সংস্কৃতিমনা ও ভালো মানুষ। আমি তাকে অনেক শ্রদ্ধা করি। তাবিথ আওয়াল অত্যন্ত ভদ্র ছেলে। অনেক ধনসম্পদের মধ্যে বড় হলেও তার আচরণে এমনটি প্রকাশ পায়নি। তাবিথ আমাদের ব্লু ব্যান্ড কলের একজন নীতিনির্ধারণী সদস্য। আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি।’

২০ দলীয় জোটের সমর্থন চাইবেন কী না সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মাহী বি চৌধুরী বলেন, ‘আমি বিএনপি বা ২০ দলীয় জোটের কেউ নই। অনেক আগে থেকেই জাতীয়তাবাদের আদর্শের সঙ্গে আমি পরিচিত এবং জাতীয়তাবাদের আদর্শকে লালন করি। আমি জাতীয়তাবাদের অনুসারী হয়ে তাদের সমর্থন প্রত্যাশা করতে পারি। তাবিথকেও যদি বিএনপি সমর্থন দেয় তারপরও জাতীয়তাবাদী অদর্শের সমর্থন চাইবো।’

তিনি বলেন, ‘মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়তো আমি জানতাম না যে আবদুল আওয়াল মিন্টু এমন ভুল করবেন। এখনও তার মনোনয়ন বাতিল হয়নি। শনিবারে একটি আপিল শুনানি আছে। তারপরেও এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় আমার সমর্থন চাওয়ার একটি সুযোগ হয়েছে। তাই আমি জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রতিটি ঘরে ঘরে যেতে চাই এবং সমর্থন চাই।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের এ ভাবনা বাস্তবে রূপ দিতে হলে মূলধারার রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে হবে। বিএনপি চেয়ারপারসন যদি সেই ভাবনার সঙ্গে সম্পৃক্ত হন, তাহলে নতুনধারার রাজনীতির উপহার দেওয়া সম্ভব হবে। তারুণ্যের ভাবনাকে যদি তিনি গুরুত্ব দেন তাহলে এটা মাইলফলক হবে।’

সমর্থন পেতে খালেদা জিয়ার কাছে গিয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নে জবাবে মাহী বলেন, ‘এখনও যাইনি। তবে তিনি যেহেতু উত্তরের ভোটার তার কাছে তো যেতেই হবে। তা ছাড়া সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, হচ্ছে। কেউ আমার পক্ষে আবার অনেকে বলেছেন আমি তো জোটের কেউ নই। আশা করি, আমি সমর্থন পাবো।’

মাহী বি চৌধুরী বলেন, ‘রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচন করা, দায়িত্ব গ্রহণের পর সময়মতো অঙ্গীকারগুলো পূরণ করলেই আমরা প্রজন্ম শহর পাবো।’

সম্পদ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মাহী বলেন, ‘ঢাকা উত্তর সিটিতে সবাই বড় বড় ব্যবসায়ী। আমি তাদের মতো বড় ব্যবসায়ী নই। সম্পদ যাই আছে আমার বাবা ও মায়ের নামে। আমার নামে, জমি ও গাড়ি রয়েছে। ওয়ারিশ হিসেবে বাবা মায়ের সম্পদ আমারই প্রাপ্য। ওই হিসেবে অন্য দুই প্রার্থীর চেয়ে আমার সম্পদ বেশি।’

তিনি বলেন, এক-এগারোসহ কয়েকবার বিরোধীদলে ছিলাম, কেউ আমার ও আমার পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলতে পারেনি। এটা আমাদের ঐতিহ্য। দুর্নীতির সঙ্গে কখনোই আপোস করিনি, করবো না। সৎ আছি, সৎ থাকবো। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করব।’

‘বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আপনার একটা দূরত্ব ছিল, তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেছেন কী না’- জানতে চাইলে মাহী বলেন, ‘আমার পক্ষ থেকে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি। যদি আমাকে তারা নির্বাচনে সমর্থন দিতে চায় সে অধিকার তাদের। তবে তারা যদি তাবিথ আওয়ালকেও সমর্থন দেয় তাহলেও আমি জাতীয়তাবাদী চেতনার সব শক্তির সমর্থন চাইবো।’

সংবাদ সস্মেলনে এ সময় ব্লু ব্যান্ড কলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print