সোমবার , ২৫ জুন ২০১৮
মূলপাতা » জাতীয় » বগুড়ায় প্রলয়ঙ্করী ঝড়ে প্রাণহানি ১৯ জনের

বগুড়ায় প্রলয়ঙ্করী ঝড়ে প্রাণহানি ১৯ জনের

গত শনিবারের ঘূর্ণিঝড়ে বগুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথায় দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া বিলবোর্ড

গত শনিবারের ঘূর্ণিঝড়ে বগুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথায় দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া বিলবোর্ড

প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় বগুড়া শহরসহ জেলার অধিকাংশ এলাকা লন্ডভন্ড করে দিয়েছে। সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী এতে ১৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। আহত হয়েছেন অন্তত ২শ’জন । গত শনিবার সন্ধ্যা ৬টা এক মিনিটে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় বগুড়ায় আঘাত হানে। ১৫ মিনিটের ঘূর্ণিঝড়ে জেলার ১২টি উপজেলার সবকিছু লন্ডভন্ড হয়ে যায়। জেলা আবহাওয়া অফিস জানায় ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘন্টায় ৯৭ কিলোমিটার থেকে ১২১ কিলোমিটার পর্যন্ত। ঘূর্ণিঝড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাও লন্ডভন্ড হয়ে পড়ে। গত রাত ১০টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শহরের কিছু এলাকায় সীমিত আকারে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও সারা জেলা ছিল অন্ধকারে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে ঘূর্ণিঝড়ে ঝড়ের ছোবলে জেলায় ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছে ১২৬ জন। ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা ৫১ হাজার ৮৯৪টি। ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ২৮ হাজার ৬৬৭টি এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়ির সংখ্যা ৭০ হাজার ৩০১টি। সূত্রটি আরও জানিয়েছে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ২৬টি এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ২২৮টি।
সূত্রটি জানায় বগুড়া সদরে ৭জন মারা গেছেন। এরা হলেন শহরের নাটাইপাড়া বউ বাজার এলাকায় বসবাসকারী আব্দুল ওয়াহেদ সরকারের স্ত্রী মোছাঃ আজিরুন বিবি (৪০) ও তার তিনমাস বয়সী নাতনী নজরুল ইসলামের মেয়ে নীলা (এদের স্থায়ী ঠিকানা গাইবান্ধা সদরের মালিবাড়ী দক্ষিণপাড়া), শহরদিঘী এলাকার খাজা মিয়ার ছেলে মোঃ রজব (১৫), শহরতলী পালশা এলাকার আইজলের ছেলে মোঃ পলাশ (১৮), গোকুল এলাকার আকালু (৫০), চাঁনপুর এলাকার লুৎফর রহমানের স্ত্রী গোলাপী (৪৫), পালশা এলাকার মোস্তাফিজ (৬০), শাজাহানপুর উপজেলার ক্ষুদ্রফুলকোর্ট গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে মোঃ আব্দুল মান্নান (৩৫), ঘাসিরা গ্রামের মৃত তালেব আলীর স্ত্রী রাবেয়া বেওয়া (৬৫), খোয়ারপাড়া গ্রামের বাবলু মিয়ার ছেলে মোঃ পায়েল ওরফে বুদা(১৬), সারিয়াকান্দি উপজেলার বিলপাড়া গ্রামের ইবাদ আলীর স্ত্রী শান্তা বেগম(৫০) ও ফুলবাড়ী পূর্বপাড়ার নুরু মিয়ার ছেলে মোঃ সুজন(৩০), কাহালু উপজেলার হারলতা গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে মোঃ আজিজুল(১৯) ও আবেদ আলীর ছেলে মোঃ ইসমাইল হোসেন(৩৮), ধুনট উপজেলার-জোড়শিমুল উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত ফয়েজ প্রামাণিকের ছেলে মোঃ আফজাল হোসেন(৬০), সোনাতলা উপজেলার লোহাগড়া গ্রামের মৃত মকো প্রামাণিকের স্ত্রী ফিরোজা বেওয়া(৫৫), নন্দীগ্রামের আব্দুস সাত্তার (৫৬) এবং গাবতলী উপজেলার -তেলিহাটা ফকিরপাড়া গ্রামের আছর উদ্দিনের স্ত্রী সামিয়া বেগম(৩২)।
বগুড়া আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গেছে সন্ধ্যা ৬টা এক মিনিটে ঘন্টায় ৯৯ দশমিক ৯৯ কিলোমিটার বেগে ঘূর্ণিঝড়টি প্রথম আঘাত হানে। এরপর তা ৯৬.০৭ কিলোমিটার থেকে ১২১ কিলোমিটারে ওঠানামা করে। এভাবে ১২ মিনিট ধরে এই ঝড় তান্ডব চালায়।
গতকাল উপদ্রুত এলাকায় গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের আহাজারি দেখা গেছে। টিনের চাল উড়ে যাওয়ায় এবং ঘর ভেঙে পড়ায় অসংখ্য মানুষকে খোলা আকাশের নিচে দেখা গেছে। এদিকে বিদ্যুতের অভাবে শহরাঞ্চলে পানির জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে।
১৫ মিনিটের এই ঘূর্ণিঝড়ে বগুড়া শহর ছাড়াও জেলার অধিকাংশ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে প্রায় ২৫ ঘন্টা বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় কাটানোর পর গতকাল রাত পৌন ৮টায় বগুড়ার মাত্র কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম হয় বিদ্যুৎ বিভাগ। গত শনিবার রাত ৬টায় কালবৈশাখী ঝড়ের পর জেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর থেকে শহর জুড়ে ভূতুড়ে অবস্থা বিরাজ করতে থাকে। শহর জনমানবশূন্য থাকলেও এক শ্রেণীর মানুষকে রিক্সা ভ্যান ভর্তি করে ঝড়ে পড়ে থাকা গাছের ডাল ও টিন কুড়িয়ে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
সকাল হতে শুরু হয় পানির জন্য হাহাকার। আকস্মিকভাবে ঝড় শুরু হওয়ায় বেশিরভাগ মানুষ মেশিন দিয়ে পানি উঠাতে পারেনি ট্যাংকিতে। গোসল করার পানি দূরের কথা খাবার পানিসহ দৈনন্দিন অপরিহার্য কাজে ব্যবহারের পানির সংকট দেখা দেয়। যাদের বাড়িতে হস্ত চালিত নলকুপ আছে তাদের বাড়িতে পানি সংগ্রহের জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ে মানুষ। বেড়ে যায় মিনারেল ওয়াটার বিক্রি। এক শ্রেণীর অসাধূ ব্যবসায়ী এই সুযোগে মিনারেল ওয়াটারের দাম বাড়িয়ে দেয়। শনিবার রাতে বিদ্যুৎ চলে যাবার পর মোমবাতি কেনার হিড়িক পড়ে যায়। সুযোগ বুঝে দোকানীরাও মোমবাতির দাম বাড়িয়ে দেয়। এদিকে এই সূযোগে বিভিন্ন ডেকোরেটরের লোকজন জেনারেটর নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ৩শ’ থেকে ৫ শ’ টাকায় পানির ট্যাংকি ভর্তি করিয়ে দেয়।
গতকাল রাত পৌনে ৮টায় শহরের ঠনঠনিয়া এলাকায় বিদ্যুৎ আসে। নির্বাহী প্রকৌশলী বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্র-১ সূত্রে গতরাতে হাসপাতাল ও নিউমার্কেট ফিডারে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার কথা হয়েছে। এ দিকে বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্র-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, সীমিত আকারে রাজাবাজার ও ফুলবাড়ির কিছু অংশে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়। পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার চেষ্ট চলছে।
গত শনিবার সন্ধ্যায় প্রলয়ঙ্করী কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর বগুড়া ভূতুড়ে শহরে পরিণত হয়।
গাছ কাটার ধুম ঃ গত শনিবার সন্ধ্যায় ঝড়ে বিধ্বস্ত এলাকায় ভেঙে পড়া ও উপড়ে যাওয়া গাছ কাটার ধুম লেগে যায়। ঝড় থেমে যাওয়ার পরপরই কিছু মানুষ দা, কুড়াল নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ে। এই মানুষগুলো রাস্তায় ভেঙে পড়া গাছ কেটে ভ্যানে করে নিয়ে যায়। এক জনের দেখে আরেকজন এভাবেই কিছুক্ষণের মধ্যে বগুড়ার লোক ঝড়ে পড়া গাছ কাটতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। রাস্তার গাছগুলো লুট হলেও রাস্তাগুলো পরিষ্কার হয়ে যায় কিছুক্ষণের মধ্যে।
শ্রমিক সংকট ঃ আগের রাতে প্রয়লংকরি ঝড় হওয়ায় অনেক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাতে ক্ষয়ক্ষতি বোঝা না গেলেও সকালে বুঝতে পেরে গৃহস্থরা বাড়ি ঘর মেরামতের জন্য শ্রমিক খুঁজতে গিয়ে বিপাকে পড়ে। শহরের নামাজগড় ও কলোনীতে নিয়মিত শ্রমিকের বাজার হলেও গতকাল শ্রমিক সংকট ছিল। শ্রমিকের মজুরি ৪’শ টাকা হলেও গতকাল ৬’শ টাকাতেও শ্রমিক মেলেনি।
বাঁশের দাম বৃদ্ধি ঃ ঝড়ের কারণে বাড়ি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গতকাল আকষ্মিক বাঁশের দাম বেড়ে যায়। আগের দিন যে বাঁশ দেড়’শ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গতকাল তা বিক্রি হয়েছে ২’শ টাকায়। ভোর থেকেই শাহ সুলতান কলেজের সামনের বাঁশের বাজারে প্রচন্ড ভীড় ছিল। ভীড় বুঝে বাঁশ ব্যবসায়ীরা হঠাৎ করে দাম বাড়িয়ে দেয়।
টিন কুড়ানীর দল ঃ শনিবার রাতে ঝড় থেমে যাওয়ার পর পরই এক শ্রেণির লোক রাস্তায় নেমে পড়ে উড়ে যাওয়া টিন কুড়াতে। রাতেই এই দলটি উড়ে যাওয়া টিন কুড়িয়ে জমা করতে থাকে। দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া টিন শহরের ১নং রেল গেট সংলগ্ন ভাংড়িপট্টিতে এবং অপেক্ষাকৃত ভালগুলো টিনপট্টির পুরাতন টিন কেনা বেচার দোকানে বিক্রি করে। কুড়ানী দলের কর্মকান্ড দেখে অনেকেই বলে কারো সর্বনাশ, কারো পৌষ মাস ।
টিন ব্যবসায়ীদের পোয়া বারো ঃ হঠাৎ কাল বৈশাখী ঝড়ে বেড়ে গেছে টিনের বেচা বিক্রি। গতকাল রোববার সারাদিন ব্যস্ত সময় পার করেছে শহরের টিনপট্টির ব্যবসায়ীরা। আগের রাতে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তরা ঘর সারাতে টিন কিনতে ছোটে টিনপট্টিতে। শহরের খুচরা ক্রেতাদের সাথে পাল্লা দিয়ে টিন কিনেছেন আশে পাশের ব্যবসায়ীরা। উপজেলা এবং বিভিন্ন বন্দরের ব্যবসায়ীরা বগুড়া থেকে টিন কিনে স্থানীয়দের মাঝে একটু চড়া দামে বিক্রি করবেন। বাবলু নামের এক ক্রেতা জানালেন তার এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তাই গতকাল ৫০ বান্ডিল টিন কিনেছেন। বাকিতেই বিক্রি করতে হবে। কারণ অনেকের হাতে টাকা নেই।
এদিকে আমাদের উপজেলা প্রতিনিধিরাও তাদের এলাকার ঝড়ের তান্ডবের খবর পাঠিয়েছেন।
সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি জানান বগুড়া সারিয়াকান্দি উপজেলার উপর দিয়ে গত শনিবার সন্ধ্যায় বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে দেয়াল চাপা পড়ে দুইজন নিহত হয়েছে। ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকা ডুবিতে ২ যাত্রী নিখোঁজ রয়েছে।
ঝড়ে উপজেলার হাজার হাজার ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। গাছপালা ভেঙে পড়েছে। ভূট্টা শাক-সবজিসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। স্কুল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উড়ে গেছে। ঝড়ে ঘর চাপায় পড়ে দুই জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অর্ধ-শতাধিক ব্যক্তি। নিহতরা হলো নারচী ইউনিয়নের বিলপাড়া গ্রামের ইয়াদ আলীর স্ত্রী শান্তা বেগম (২৫)। ফুলবাড়ী বাজারের নুরুল ইসলামের পুত্র সুজন মিয়া (৩০)। এছাড়া উপজেলার বোহাইল ইউনিয়নের ধারাবর্ষা চর হতে আসার পথে ঝড়ের কবলে পড়ে একটি শ্যালো চালিত নৌকা ডুবে যায়। নৌকার যাত্রী ধারা বর্ষা চরের বিনাত হোসেনের পুত্র হজরত আলী (৩৫) এবং খোকা মন্ডলের পুত্র মোজাম (৪০) নিখোঁজ রয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে বোহাইল ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা টুকু জানান।
আব্দুল মান্নান এমপি ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের মাঝে প্রত্যেককে ২০ হাজার করে টাকা প্রদান করেন। ঝড়ের পর হতেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় বিদ্যুৎ বন্ধ রয়েছে।
সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি জানান বগুড়ার সোনাতলায় কাল বৈশাখী ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়েছে শত শত বাড়ি ঘর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি ফসল ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ সময় ফিরোজা বেওয়া (৭৫) নামের এক বৃদ্ধা মারা গেছে। উপজেলার ৩২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অধিকাংশই শিক্ষার্থীদের আজ সোমবার থেকে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান ও গ্রহণ করতে হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য লুৎফর রহমান বালিকা বিদ্যালয়।
বগুড়ার সোনাতলায় গত শনিবারের কালবৈশাখী ঝড়ে উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়নের শত শত বাড়ি ঘর, গাছপালা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
অপরদিকে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ে ২৫শ’ হেক্টর জমির ধান, ৩০ হেক্টর জমির ভুট্টা, ১০ হেক্টর জমির শাক সব্জি, ২০ হেক্টর জমির কলা এবং ১৯ হেক্টর জমির অন্যান্য ফসল নষ্ট হয়েছে। এতে করে ৬৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন হয়েছে বলে সূত্রটি জানায়। ঝড়ের তান্ডব দেখে উপজেলার লোহাগাড়া এলাকার মৃত মকু’র স্ত্রী ফিরোজা বেওয়া (৭৫) নামের এক বৃদ্ধা মারা গেছে। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন সরদার জানান, কাল বৈশাখী ঝড়ে ইরিবোরো ধানের পাশাপাশি আমের মুকুলের ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়েছে। যা টাকার অংকে এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, কালবৈশাখী ঝড়ে সোনাতলা উপজেলার আনাচে কানাচে ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে বয়ড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ফারাজুল ইসলাম জানান, ঝড়ে তার প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি সাধন হয়েছে। ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম পুটু, সিহিপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু বকর, বয়ড়া কারিগরি স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল ওয়াহেদ, বয়ড়া টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ নিলুফা ইয়াসমিন ও বয়ড়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুল হালিম জানান, ঝড়ে তাদের প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়েছে।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print