রবিবার , ২২ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » অন্যান্য » জামিন পেলেন খালেদা জিয়া

জামিন পেলেন খালেদা জিয়া

b75দুদকের দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় জামিন পেলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। ঢাকার বকশীবাজার এলাকার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অবস্থিত তৃতীয় বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদারের আদালত রোববার এ জামিন আদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলা দুটির পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য শুনানির দিন আগামী ৫ মে ধার্য করেছেন আদালত।

এর আগে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে আদালতে উপস্থিত হয়ে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন খালেদা জিয়া। বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে তার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া ও জয়নুল আবেদীন মেজবা আত্মসমর্পণপূর্বক জামিনের আবেদন করেন। শুনানি করেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল

সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে আদালতের উদ্দেশে রওয়ানা করেন বেগম জিয়া। জমিন নেয়ার উদ্দেশ্যে দীর্ঘ ৯২ দিন পর গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে বের হলেন তিনি । এরপর সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে রাজধানী ঢাকার বকশিবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত পৌঁছান তিনি। এসময় গাড়ি থেকে নেমে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে হাত নেড়ে অভিনন্দন জানিয়ে আদালত কক্ষে প্রবেশ করেন খালেদা জিয়া।

২৫ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক আবু আহমেদ জমাদার এ দুটি দুর্নীতি মামলার সাক্ষ্য গ্রহণকালে হাজির না থাকায় খালেদা জিয়াসহ মামলার তিন আসামির জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। এরপর ওই গ্রেফতারি পরোয়ানা বাতিলের আবেদন জানালে ৪ মার্চ আদালত আবেদনটি নথিভুক্ত করে রাখেন। ওই দিন গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রত্যাহারের আবেদন নাকচ করে ৫ এপ্রিল শুনানির পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন বিচারক আবু আহমেদ জমাদার।

এদিকে বকশিবাজার আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে খালেদা জিয়া বিশেষ আদালতে হাজিরা দিতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করে পুলিশ। চকবাজার থানার ওসি আজিজুল হক যুগান্তরকে জানান, বিশেষ আদালত ও আশপাশের এলাকায় সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়। ইতিপূর্বে আদালতে হাজিরা দিতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতি মাথায় রেখে নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বকশিবাজারে সাদা পোশাকে ডিবি পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) মোতায়েন করা হয়। তাছাড়া এপিসি, জলকামানসহ অন্যান্য প্রস্তুতিও নেয় পুলিশ। খালেদা জিয়া আসা-যাওয়ার পথেও পুলিশের বিশেষ পাহারা বসানো হয়।

দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, জামিন নিয়ে গুলশান ২-এর এক নম্বরে অবস্থিত ‘ফিরোজা ভবনে’ নিজ বাসায় ফিরে যাওয়ার ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন খালেদা জিয়া। তবে আদালত থেকে বের হওয়ার পর তিনি যদি দেখেন গুলশান কার্যালয়কে আইনশৃংখলা বাহিনী অবরুদ্ধ করে রেখেছে, সে ক্ষেত্রে কার্যালয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন তিনি। কোনো ধরনের বাধার সম্মুখীন না হলে বাসায় যাওয়ার পর তিনি আজ আবার কার্যালয়ে অফিস করবেন।

অপর একটি সূত্রে জানা গেছে, সরকার তার চলাফেরায় বাধার সৃষ্টি না করলে শিগগিরই তিনি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচারে নামতে পারেন। আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা ও তারা যাতে প্রকাশ্যে কর্মকাণ্ড চালাতে পারেন সে জন্যই এ কৌশল নেয়া হয়েছে।

দলটির নীতিনির্ধারকদের মতে, খালেদা জিয়া রাজপথে নির্বাচনী প্রচারে নামলে তিন সিটি নির্বাচনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ ভোটাররাও উজ্জীবিত হতে পারেন। নির্বাচনী প্রচারের সুযোগে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যাওয়ারও চিন্তাভাবনা রয়েছে তার।

৩ জানুয়ারি রাত থেকে খালেদা জিয়া গুলশান কার্যালয়ে অবস্থান করেন। এরপর সামনে ইট-বালুর ট্রাক রেখে অবরুদ্ধ করে রাখা হয় কার্যালয়। মূল গেটেও তালা লাগিয়ে দেয়া হয়। খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছিলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল কাইয়ুম, প্রেসসচিব মারুফ কামাল খান, বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, মাহবুব আলম ডিউ, নিরাপত্তা সমন্বয়কারী আবদুল মজিদ, প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার, শায়রুল কবির খানসহ প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী ও অফিস কর্মকর্তা-কর্মচারী। প্রায় এক মাস আগে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

৩০ জানুয়ারি ভোররাতে কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরেরদিন পর্যায়ক্রমে ডিশলাইন, ইন্টারন্টে, টেলিফোন, ফ্যাক্স লাইনও কেটে দেয়া হয়। দুর্বল করে দেয়া হয় দুটি ছাড়া অন্য সব মোবাইল কোম্পানির নেটওয়ার্ক। ১৯ ঘণ্টা পর ৩১ জানুয়ারি রাত ১০টার দিকে বিদ্যুতের সংযোগ পুনরায় দেয়া হয়। কার্যালয়ে প্রবেশে আরোপ করা হয় কড়াকড়ি। ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে খালেদা জিয়া ছাড়া কারও খাবার ঢুকতে দেয়া হয়নি। চলমান অবরোধ-হরতালের বিরোধিতা করে সরকার সমর্থক বিভিন্ন পেশাজীবী গুলশান কার্যালয় ঘেরাও-বিক্ষোভ সমাবেশ করে।

কার্যালয়ে অবস্থানকালে মালয়েশিয়ায় মারা যান ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো। ২৭ জানুয়ারি কোকোর লাশ দেশে আনা হয়। ছেলে মারা যাওয়ায় তাকে সমবেদনা জানাতে ছুটে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু কার্যালয়ের তালা না খোলায় মূল গেটে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে ফিরে যান তিনি। অবরুদ্ধ থাকাবস্থায় বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এছাড়া ড. কামাল হোসেন ও রাজনৈতিক নেতাসহ নানা পেশাজীবীরাও দেখা করেন তার সঙ্গে।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print