রবিবার , ২২ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » প্রধান খবর » জেএসসির প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষ বলছে গুজব!

জেএসসির প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষ বলছে গুজব!

জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষার গণিত বিষয়ের কথিত প্রশ্নপত্রের ফটোকপি ঢাকার সাভারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বেচাবিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি, ইন্টারনেটে ফেসবুকেও সাজেশনের নামে এমন প্রশ্নমালা ছড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক দিলারা হাফিজ। তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি। যা ছড়ানো হচ্ছে, তা সবই গুজব এবং অর্থ আয়ের লক্ষ্যে অসাধু চক্রের অসৎ কর্ম।
গণিতের এই পরীক্ষা আজ সকাল ১০টায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। যুগান্তরের সাভার প্রতিনিধি জানান, শনিবার সাভার বাজার রোডে জেএসসির গণিতের (সৃজনশীল) প্রশ্নপত্রের নামে কথিত প্রশ্নপত্র বিক্রি হয়। এ সময় এক ব্যক্তি কৌশলে প্রশ্নপত্রের কপি সংগ্রহ করে রাতে এ প্রতিবেদকের কাছে পঠিয়ে দেন। তিনি জানান, সাভার বাজার রোডের একটি ফটোকপির দোকানে প্রশ্নপত্রটি কপি করার সময় ফেলে দেয়া কাগজ থেকে তিনি কৌশলে এটি সংগ্রহ করেন। তিনি বলেন, যিনি ফটোকপি করেছেন তাকে ছাত্র বলেই মনে হয়েছে। তিনি তার আশপাশে থাকা বেশ কিছু লোকজনের কাছে এ প্রশ্নপত্রটি বিক্রি করেন।
সাভার উপজেলা শিক্ষা অফিসার শাহরিয়ার মানজিস ও সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান মোল্যাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তারা বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন। শিক্ষা অফিসার শাহরিয়ার মানজিস জানান, যদি ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রটি সঠিক হয় তবে ঢাকা বোর্ডের আজকের গণিত পরীক্ষা বাতিল করা হবে। সাভার থানার ওসি মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ব্যাপারে তারা শুনেছেন। অভিযুক্তদের কাউকে পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
শনিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে অধ্যাপক দিলারা হাফিজের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগোযোগ করা হলে তিনি যুগান্তরকে আরও জানান, এমন অভিযোগ আমরাও পেয়েছি। আসলে একটি মহল অর্থ আয়ের লক্ষ্যে এমন কর্ম ঘটাতে পারে- এ ধারণা থেকে শুক্রবার দুপুরের পর থেকেই আমাদের টিম বিষয়টি মনিটরিং করতে থাকেন। বিকাল নাগাদ ফেসবুকেই এমন একাধিক গ্রুপ পাওয়া যায় যারা গুজব ছড়াচ্ছিল। তাদের ব্যাপারে ওইদিনই আমরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করিয়েছি। শনিবারও আরও কিছু গুজব পাওয়া যায়। সেগুলোর ভিত্তিতেও আরেকটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। তিনি জানান, গোটা বিষয়টি শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান মনিটরিং করছেন। আমরা আশা করছি, গুজব রটনাকারীরা ধরা পড়ে যাবে।
রাত ১১টার দিকে চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজিজুল হক যুগান্তরকে জানান, শুক্র ও শনিবার দুটি জিডি করা হয়েছে (নম্বর ২৯৭ ও ৩৩২)। জিডি করেছেন ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. শ্রীকান্ত কুমার চন্দ। জেএসসির প্রশ্নপত্রের নামে সাজেশন ও নমুনা প্রশ্ন ছড়ানোর ঘটনায় এই জিডি করা হয়েছে। একজন এসআইকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

#


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print