শুক্রবার , ২০ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » প্রধান খবর » বিপন্ন প্রায় লাউডগা সাপ

বিপন্ন প্রায় লাউডগা সাপ

লাউডগা সাপকে বাংলাদেশের প্রায় সব এলাকায় পাওয়া যায়। লম্বা চিকন এ সাপের দেহে টিয়া পাখির পালকের সবুজ রঙের মতো মসৃণ আঁইশ দিয়ে ঢাকা থাকে। পিঠের আঁইশগুলো তীর্যকভাবে একটার সঙ্গে আর একটা সজ্জিত থাকে। দেহের নিচের অংশের রঙ হালকা হলদেটে বা সাদাটে এবং শেষ অংশের আঁইশগুলো আঁকাবাঁকা। মাথা লম্বা এবং চ্যাপ্টা, মুখের দিকে লম্বা। এদের চোখ ডিম্বাকার এবং মণি আণুভূমিক। লেজ লম্বা, পাতলা এবং শেষাংশ সূচাল। লাউডগা সাপকে গ্রাম্য এলাকা থেকে শুরু করে ঘন সবুজ অরণ্যের নিচের বা মাঝারি অংশে, পাহাড়ি জঙ্গলে, মিশ্র চিরসবুজ, পত্রঝরা এবং চিরসবুজ অরণ্যে পাওয়া যায়। এরা দিবাচর সাপ, দিনের বেলায় শিকারের খোঁজে সক্রিয় থাকে।
গাছে থাকলেও কখনও কখনও মাটিতে নামতেও দেখা যায়। তবে গাছের ওপর এরা যত দ্রুত চলাচল করতে পারে মাটিতে তত দ্রুত পারে না। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১ হাজার ৩০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত এদের বিচরণ করতে দেখা গেছে। এরা শান্ত এবং লাজুক প্রকৃতির সাপ, সহজে আক্রমণ করে না। ভয় পেলে শরীরের সামনের অংশ চক্রাকারে বাঁকিয়ে ফেলে এবং শরীর ফুলাতে থাকে তখন আকারে এদের বড় দেখায়। দেহের দৈর্ঘ্য ১৯৭ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়। লাউডগা সাপের ইংরেজি নাম Short-nosed Vine Snake বৈজ্ঞানিক নাম Ahaetulla prasina.এরা Colubridaeগোত্রের সদস্য। এদের খাদ্য তালিকায় রয়েছে- টিকটিকি, ছোট পাখি, ব্যাঙ এবং ইঁদুর। বাংলাদেশ ছাড়াও এদের ভারত, শ্রীলংকা, ভুটান, চীন, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমারে পাওয়া যায়। অন্যান্য সরীসৃপ প্রাণীদের মতো এদের বাসস্থলগুলোও প্রতিনিয়ত ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। প্রকৃতির খাদ্যশৃংখলের উপাদান হিসেবে এদের প্রকৃতিতে টিকে থাকা অত্যন্ত জরুরি।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print