বৃহস্পতিবার , ২৬ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » শিক্ষাঙ্গণ » কথায় খরচ ৬০ কোটি টাকা!

কথায় খরচ ৬০ কোটি টাকা!

mobile_device_handyMD1বাংলাদেশের মানুষ প্রতিদিন মোবাইল ফোনে কথা বলেন প্রায় ৬০ কোটি টাকার! মাসে এটার পরিমাণ এক হাজার ৭৮৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকার মতো। আর বছরে এটা ২১ হাজার ৪২৫ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। তবে এটা শুধু কথা নয়, সঙ্গে ইন্টারনেটও আছে। ইন্টারনেটের খরচ এখনও তুলনামূলক অনেক কম। গত ফেব্রুয়ারির শেষ নাগাদ হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের গ্রাহক ১২ কোটি ২৬ লাখ ৫৬ হাজার। আর ইন্টারনেটের গ্রাহক ৪ কোটি ২৭ লাখ ৬৬ হাজার। এর মধ্যে মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন ৪ কোটি ১৩ লাখ মানুষ।
মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন এমটবের সেক্রেটারি নুরুল কবির ইত্তেফাককে বলেন, ‘মোবাইল ফোনে কথা বলা মানেই অপচয় নয়। মানুষ অনেক দরকারি কাজও টেলিফোনে সারছেন। আর এখন তো মোবাইল ফোন শুধু কথা বলার যন্ত্র নয়। এখানে বহুমাত্রিক সেবা পাওয়া যাচ্ছে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও পরিচালিত হচ্ছে মোবাইল ফোনে। ফলে প্রতিদিন ৬০ কোটি টাকার কথা বলা এমন বড় কিছু নয়। আমাদের দেশে এখন মোবাইল ফোনের গ্রাহক সোয়া ১২ কোটি। কিন্তু এর মধ্যে ৮ কোটি মানুষের হাতে ফোন আছে। কারও কারও কাছে দু’টি তিনটি করেও ফোন রয়েছে। ফলে এখনও আমাদের দেশে ৮ কোটি মানুষ মোবাইল ফোন সেবার বাইরে। তাদেরও এই সেবার মধ্যে আনা গেলে তখন পরিমাণটা আরো বাড়বে। মানুষের কাজও সহজ হয়ে যাবে।’
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) বাত্সরিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত বছর ৬টি মোবাইল ফোন অপারেটর মোট আয় করেছে ২১ হাজার ৪২৫ কোটি ৪৮ লাখ ৭৫ হাজার ৯৮৭ টাকা। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের আয় সর্বোচ্চ ১০ হাজার ৪৩ কোটি টাকা। এছাড়া বাংলালিংক ৪ হাজার ১৩২ কোটি ৬৪ লাখ, রবি ৪ হাজার ৬৭২ কোটি ২৫ লাখ, এয়ারটেল এক হাজার ৭১৩ কোটি ৮২ লাখ, রাষ্ট্রীয় মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটক ৬৬০ কোটি ২৭ লাখ টাকা এবং সিটিসেল ২৩০ কোটি ৫২ লাখ টাকা আয় করেছে। মোবাইল ফোন অপারেটরদের কাছ থেকেও পৃথকভাবে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে এই হিসেবের মিল পাওয়া গেছে।
এর আগের বছর অর্থাত্ ২০১৩ সালের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রতিদিন মানুষ কথা বলেছেন ৬৮ কোটি ৬৯ লাখ ২১ হাজার ১০২ টাকার। মাসে যেটার পরিমাণ ২ হাজার ৬০ কোটি ৭৬ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। আর বছরে এর পরিমাণ ২৪ হাজার ৭২৯ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের আয় ১৩ হাজার ৯৩৩ কোটি, বাংলালিংকের ৪ হাজার ৫৩৬ কোটি, রবির ৪ হাজার ২৭৮ কোটি, এয়ারটেলের এক হাজার ৩৫৪ কোটি, টেলিটকের ৩৫৭ কোটি ও সিটিসেলের আয় ২৬৭ কোটি টাকা। এর আগের বছর ২০১২ সালে ৬টি মোবাইল ফোন অপারেটরের আয় ছিল ১৮ হাজার ২০৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। ওই বছর প্রতিদিন মানুষ কথা বলেছেন প্রায় ৫১ কোটি টাকার। আর প্রতি মাসে যেটার পরিমাণ দেড় হাজার কোটি টাকারও বেশি।
প্রসঙ্গত, মোবাইল ফোন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর এই আয় থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড পায় ১৫% ভ্যাট। আর বিটিআরসি পায় ৫.৫% রেভিনিউ শেয়ারিং।
গ্রামীণফোনের চীফ কর্পোরেট এফেয়ার্স অফিসার মাহমুদ হোসাইন বলেন, ‘হঠাত্ করে ৬০ কোটি টাকা শুনলে অনেক মনে হবে। কিন্তু উন্নত দেশগুলোর তুলনায় আমরা টেলিফোনে কমই কথা বলি। ১৬ কোটি মানুষের দেশে প্রতিদিন ৬০ কোটি টাকা মানে গড়ে প্রতিদিন একজন মানুষ ৪ টাকারও কম কথা বলেন। মাসে যেটার পরিমাণ ১২০ টাকার মতো। যা গোটা জীবনযাপনের খরচের এক শতাংশেরও কম। কিন্তু উন্নত দেশে একজন মানুষ তার জীবনযাপনের মোট খরচের ৩ থেকে ৫ শতাংশ ব্যয় করে টেলিফোনে কথা বলে। তাই আমাদের দেশে খরচ তুলনামূলক কম। আর এটা সম্ভব হয়েছে জনসংখ্যার ঘনত্বের কারণে। এই কারণে মোবাইল ফোন অপারেটররাও তুলনামূলক অনেক কম খরচে কথা বলার সুযোগ দিতে পারছেন।
এদিকে গত ২৪ মার্চ জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদকার্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বর্তমানে মোবাইলে গ্রাহক সংখ্যা ১২ কোটি ২৬ লাখ ৫৬ হাজার ৬৬২ জন। এর মধ্যে গ্রামীণফোন ৫ কোটি ১৫ লাখ ৯৮ হাজার ৫৬০ জন। বাংলালিংকের ৩ কোটি ১৫ লাখ ১৫ হাজার ৬৫ জন। এবং অন্যদের মধ্যে রবি’র ২ কোটি ৬৪ লাখ ১৪ হাজার ১৯৭ জন, এয়ারটেলের ৭৯ লাখ ৪৩ হাজার ৬১৫ জন, টেলিটকের ৩৯ লাখ ২২ হাজার ৫৪ এবং সিটিসেলের গ্রাহক সংখ্যা ১২ লাখ ৬৩ হাজার ১৭১ জন।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print