শুক্রবার , ১৭ আগস্ট ২০১৮
মূলপাতা » রকমারি » ভিন্নধর্মী প্রতিবাদ: স্যানিটারি প্যাডে বার্তা

ভিন্নধর্মী প্রতিবাদ: স্যানিটারি প্যাডে বার্তা

padsss‘পুরুষ যেমন রজ:স্রাবের রক্তকে ঘৃণা করে – ঠিক তেমনই ধর্ষণকেও যেন তারা ঘৃণা করে।’ অসংখ্য স্যানিটারি প্যাডে এ কথা লিখে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে ‘প্যাডস অ্যাগেইনস্ট সেক্সিজম’ নামে জার্মানিতে যে ক্যাম্পেইনের সূচনা হয়; সেই প্রতিবাদের ভাষাকেই আজ উপজীব্য করেছে ভারত। দেশটিতে বেড়ে চলা লিঙ্গ বৈষম্য আর ধর্ষণ সংস্কৃতির বিরুদ্ধে স্যানিটারি প্যাডেই চলছে প্রতিবাদ। প্রথমে সামিল হন দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার শিক্ষার্থীরা। পরে প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে।

কি কি লেখা ছিলো সেই স্যানিটারি প্যাডগুলির উপর:

জার্মানির আদলেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় আর তার চারপাশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া প্যাডগুলোতে লেখা হয়:

‘মাসিকের রক্ত নয়, অশুদ্ধ তোমার ভাবনা।’
‘মেন্সট্রুয়েসন স্বাভাবিক, ধর্ষণ নয়।’
‘দিল্লির রাস্তার উপর মেয়েদেরও সমান অধিকার আছে।’
‘ধর্ষকরা মানুষকে ধর্ষণ করে, তার পোশাককে নয়।’
‘কন্যা কুমারি, নোংরা ভাবনা তোমারই।’

জার্মানি থেকে জামিয়া
সপ্তাহ তিনেক আগে ৮মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে ‘প্যাডস অ্যাগেইনস্ট সেক্সিজম’ নামে একটি ক্যাম্পেইনের সূচনা করেন ইলোন কাস্ট্রাশিয়া নামে একজন জার্মান। ধর্ষণ এবং পুরুষতান্ত্রিক অবদমনের বিরুদ্ধে নিজের বক্তব্য তুলে ধরতে শহরময় স্যানিটারি প্যাড সেঁটে স্লোগান লেখেন ওই নারী। আর তার ঠিক চারদিনের মাথায় একই ছবি দেখা যায় দিল্লির অভিজাত বিশ্ববিদ্যালয় জামিয়া মিলিয়ার ক্যাম্পাসেও। তবে জামিয়ার দেওয়ালে স্যানিটারি প্যাড সেঁটে কর্তৃপক্ষর শো-কজের মুখে পড়তে হয়েছে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের জনাচারেক শিক্ষার্থীকে।

জামিয়া থেকে কলকাতা
জামিয়ার ওই শিক্ষার্থীদের মাথার ওপর যখন শাস্তির খাঁড়া ঝুলছে, তখন শনিবার কলকাতার যাদবপুর ক্যাম্পাসেও দেখা গেছে স্যানিটারি প্যাডে আঁকা পোস্টার। তার কোনওটায় লেখা, ‘ধর্ষিতাকে দোষ-দেওয়াটাও কিন্তু লিঙ্গ-সহিংসতা’। কোনওটায় আবার লেখা হয়েছে, ‘ধর্ষিতার নাম প্রকাশ করে তাকে লজ্জায় ফেলাটা যৌন সহিংসতা’।

প্রতিবাদের পদ্ধতি নিয়ে বিভক্ত যাদবপুর
যে শিক্ষার্থীরা এই সব পোস্টার সেঁটেছেন বা সেটাকে সমর্থন করছেন তারা প্রায় কেউই নাম প্রকাশ করতে চান না – তবে তাদের প্রতিবাদের এই পদ্ধতি ক্যাম্পাসকেও কিন্তু কার্যত দুভাগ করে দিয়েছে। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাবিভাগের অধ্যাপিকা সুচরিতা চ্যাটার্জি বলছিলেন এই ধরনের প্রতিবাদ কিন্তু অনেককে অস্বস্তিতেও ফেলতে পারে। তাঁর বক্তব্য, ‘প্রতিবাদের পদ্ধতি কাউকে আহত করছে কি না বা অস্বস্তিতে ফেলছে কি না সেটাও দেখা দরকার।’ তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁরই সহকর্মী ও ইতিহাসের অধ্যাপক অমিত ভট্টাচার্যের আবার এটাকে ন্যায্য প্রতিবাদের পথ হিসেবে মানতে আপত্তি নেই। তিনি বলছিলেন, ‘সব প্রতিবাদের পদ্ধতি সবার মনোমত হতে নাও পারে, কিন্তু মানুষের ভাবনাকে একটা ধাক্কা দিতে বা নাড়া দিতে এধরনের পদ্ধতি কিন্তু প্রয়োগ করা হতেই পারে। আর ছাত্ররাই তো তাদের প্রতিবাদে উদ্ভাবনী শক্তি দেখাবে, তাই না?’

সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের জেরে খবরের শিরোনামে থাকা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ এই স্যানিটারি প্যাড পোস্টারিংয়ের বিরুদ্ধে এখনও কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে খবর নেই। কিন্তু ষাটের দশকে আমেরিকায় নারীবাদীদের ব্রা পোড়ানোর আন্দোলনের মতোই ভারতের নানা ক্যাম্পাসে যে স্যানিটারি প্যাড প্রতিবাদের হাতিয়ার হিসেবে সাড়া ফেলছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই! আন্দোলনকারীদের আশা, এড়িয়ে চলার বদলে যদি শুধুমাত্র কৌতূহলের বশেও কিছু মানুষ প্যাডের উপর লেখা বক্তব্যগুলি পড়েন, তাহলে অন্তত কয়েক জনের মধ্যে বক্তব্যটা পৌছাবে। হয়ত কিছুটা হলেও কয়েক জনের ভাবনায় বদল আসবে।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print