শনিবার , ২৩ জুন ২০১৮
মূলপাতা » প্রধান খবর » জাতীয় চার নেতা হত্যা : দণ্ডপ্রাপ্ত কিসমতের মৃত্যু

জাতীয় চার নেতা হত্যা : দণ্ডপ্রাপ্ত কিসমতের মৃত্যু

ক্যাপ্টেন কিসমত হাশেমকেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামী সেনাবাহিনীর বরখাস্তকৃত ক্যাপ্টেন কিসমত হাশেম (৬৫) মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে কানাডাতে তিনি ইন্তেকাল করেন।

কিসমত হাশেমের ছোট ভাই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও নগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শওকত হাশেম শকু জানান, বৃহস্পতিবার ভোর পৌনে ৬টায় কানাডার মন্ট্রিলে কিসমত হাশেম মারা যান। শুক্রবার জুমার নামাজের পর জানাজা শেষে তাকে মন্ট্রিলে দাফন করা হবে। কিসমতের স্ত্রীর নাম পারভীন হাসেম। তাদের কোনো সন্তান নেই।

২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায়ে কিসমত হাশেমকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ২০০৯ সালের নভেম্বর মাসে ওই মামলার চূড়ান্ত রায়ে তিনি খালাস পান।

১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর বাংলাদেশের ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনীর একাংশ। এরপর বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের চার নেতা- সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে গ্রেফতার করা হয়। ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় জাতীয় চার নেতাকে।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর চার নেতা হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু হয়। ২০০৪ সালের অক্টোবরে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত এ মামলায় তিন সেনা কর্মকর্তা রিসালদার (অব.) মুসলেমউদ্দিন, দফাদার (বহিষ্কৃত) মারফরত আলী শাহ ও দফাদার (বহিষ্কৃত) আব্দুল হাসেম মৃধাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। সেনাবাহিনী থেকে অব্যাহতি পাওয়া ক্যাপ্টেন কিসমত হাসেমসহ ১২ কর্মকর্তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত। তাদের তিনজনকে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় ফাঁসিতে ঝোলানো হয়।

চার নেতা হত্যার মামলাটি পরে হাইকোর্ট হয়ে আপিল বিভাগে আসে। আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়েও কিসমত হাসেমের দণ্ড বহাল থাকে।

কিসমত হাসেমেরবিরুদ্ধে জারি করা আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার (ইন্টারপোল) রেড ওয়ারেন্ট বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বহাল থাকে।

পাঁচত্তরের ৩ নভেম্বর চার নেতাকে হত্যার পরপরই দেশ ত্যাগ করেন কিসমত হাসেম। পরবর্তী সময়ে সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান ও এরশাদের শাসনামলে গোপনে কয়েকবার দেশে আসেন তিনি। তবে নব্বইয়ে সামরিক শাসনের অবসানের পর কিসমতকে আর দেশে দেখা যায়নি। তার বাবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ শহরের ডনচেম্বার এলাকায়।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print