শুক্রবার , ১৭ আগস্ট ২০১৮
মূলপাতা » বেসরকারি » ১০ হাজার টাকার জন্য বোনকে জবাই

১০ হাজার টাকার জন্য বোনকে জবাই

১০ হাজার টাকার জন্য বোনকে জবাইরাজধানীর উত্তর যাত্রাবাড়ীর ৫৬ নম্বর বাসায় প্রাক্তন পুলিশ কর্মকর্তার বিধবা স্ত্রী রওশন আরাসহ জোড়া খুনের ঘটনায় পুলিশ সাঈদ হাওলাদার (১৮) নামের একজনকে গ্রেফতার করেছে। ১০ হাজার টাকার জন্য পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীসহ নিজের বোনকেও জবাই করে হত্যা করে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন সাঈদ।

 

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে একথা  জানিয়েছেন যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম।

 

তিনি বলেন, নগদ টাকা হাতিয়ে নিতেই পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী যাত্রাবাড়ীস্থ কলাপট্টি ‘বাবা প্রাসাদ’ এর মালিক রওশন আরাকে খুন করে সাঈদ হাওলাদার। কিন্তু ওই বাড়ির গৃহপরিচারিকা আপন বোন কল্পনা আক্তার খুনের দৃশ্য দেখে ফেলায় তাকেও খুন করে সাঈদ।

 

ডিবি পুলিশের হাতে আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব কথা স্বীকার করেছেন সাঈদ হাওলাদার। গত বুধবার রাতে শাহজাহানপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় নাজিম সিএনজি গ্যারেজ থেকে সাঈদকে গ্রেফতার করে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সাঈদের বন্ধু রিয়াজ পলাতক রয়েছেন।

 

তিনি বলেন, নিহত রওশন আরা প্রাক্তন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মৃত আব্দুল কুদ্দুসের স্ত্রী। তাদের তিন ছেলে দুই মেয়ে সবাই দেশের বাইরে থাকেন। কিছু দিন আগে তিনি ছেলে মেয়েদের সঙ্গে দেখা করে দেশে আসেন।

 

সাঈদ হাওলাদারের মা লাকি আক্তার ওই বাসাতে কাজের গৃহ পরিচারিকা হিসেবে কাজ করেন। ছোট বোন কল্পনা আক্তারও কাজ করেন সেখানে। মা বোনের কারণে ওই বাসায় যাতায়াত ছিল সাঈদের।

 

কিছুদিন আগে সাঈদ পরিকল্পনা করে নগদ টাকা হাতিয়ে নেবে। গত ২৪ মার্চ সাঈদের মা কাজ শেষে অসুস্থতার কথা বলে হাসপাতালে চলে গেলে সাঈদ ও তার বন্ধু রিয়াজ গৃহকর্ত্রী রওশন আরার কাছে সবজি ব্যবসার জন্য টাকা চায়।

 

টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বাকবিতণ্ডা হয়।  এরপর কুপিয়ে ও জবাই করে তাকে হত্যা করে সাঈদ। কিন্তু আপন বোন কল্পনা আক্তার খুনের দৃশ্য দেখে ফেলায় বিপাকে পড়ে যান সাঈদ। এসময় কল্পনা চিৎকার চেচামেচি শুরু করলে খুনের দায় থেকে বাঁচতে বন্ধু রিয়াজের কুপরামর্শে সাঈদ নিজের হাতে বোন কল্পনাকে পাশের ড্রয়িং রুমে গলা কেটে খুন করে।

 

খুন করার পর সাঈদ ও রিয়াজ ল্যাপটপ মোবাইল ও নগদ ১০ হাজার টাকা লুট করে পালিয়ে যায়।

 

এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, এই খুনের ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত। এর সঙ্গে মা লাকি আক্তারের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আর পলাতক রিয়াজকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলেও জানান তিনি।

 

উল্লেখ্য, গত ২৪ মার্চ বিকেল ৪টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে দিকে উত্তর যাত্রাবাড়ীর ৫৬ নম্বর বাসার ৩য় তলা থেকে গৃহকর্ত্রী রওশন আরা (৬০) ও গৃহপরিচারিকা কল্পনা আক্তারের (১৪) গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print