সোমবার , ১৬ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » জাতীয় » চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

মন্ত্রিসভা বৈঠকেচট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করবে সরকার। এ জন্য দুটি আইন অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সচিবালয়ে সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে ‘চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১৫’ ও ‘রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১৫’ এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

বৈঠকে শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘কিছু পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা দিয়ে আইনের খসড়া দুটি অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। দুটি আইন একই রকম।’

বর্তমানে দেশে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)’ একমাত্র মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। এ দুটি স্থাপন হলে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা হবে তিনটি।

‘চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও ওই অঞ্চলের অন্যান্য মেডিকেল কলেজ চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এফিলিয়েটেড (অধিভুক্ত) হবে। একইভাবে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও ওই অঞ্চলের অন্যান্য মেডিকেল কলেজ রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হবে। এতে কলেজগুলোর শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে’ বলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের বিশেষ লক্ষ্য হলো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরির মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরির জন্য উচ্চশিক্ষা ও আরও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয় হলে একদিকে উচ্চতর শিক্ষা দেওয়া সম্ভব হয়, অপরদিকে গবেষণা সুযোগ তৈরি হয়।’

সচিব বলেন, ‘বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্বাস্থ্য খাতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে পারছে না। আমাদের আরও দক্ষ জনবল, আরও চিকিৎসক দরকার। সে প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন। গত বছরের মার্চ মাসে জাতীয় স্বাস্থ্য কাউন্সিলের সভায় চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় আইনের খসড়া দুটি নিয়ে এসেছে।’

দুটি আইনের খসড়ায় ৫৭টি ধারা রয়েছে জানিয়ে মোশাররাফ হোসাইন বলেন, ‘তবে মন্ত্রিসভার নির্দেশনা অনুযায়ী পরিমার্জনের পর দু’একটি ধারা কম বেশি হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘আইনের খসড়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষমতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের গঠন ও ক্ষমতা, ইউজিসির (বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন) এখতিয়ার, পাঠদান পদ্ধতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবিধি, বিধিমালা এবং প্রবিধানমালার কথা বলা আছে আইনে।’

মোশাররাফ হোসাইন জানান, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সঙ্গে দুটি প্রস্তাবিত আইনের একটি তুলনামূলক চিত্রও তুল ধরেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

দুটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পাঠদান করা হবে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘সাধারণত ব্যাচেলর ডিগ্রি কলেজ পর্যায়ে পড়ানো হবে তবে নার্সিংয়ের ব্যাচেলর ডিগ্রি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হবে। এটি একটি ব্যতিক্রম। বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর (আচার্য) হবেন রাষ্ট্রপতি। চার বছরের জন্য ভিসি (উপাচার্য) নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে একজন সর্বোচ্চ পর পর দুই মেয়াদে ভিসি থাকতে পারবেন।’

দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি থাকবেন ২ জন। এ ছাড়া থাকবেন কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রার ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ হিসেবে থাকবে সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিল, ফ্যাকাল্টি, ডিনস কমিটি, কারিকুলাম কমিটি, ফাইন্যান্স কমিটি ইত্যাদি কমিটি থাকবে বলেও জানান মোশাররাফ হোসাইন।

তিনি আরও জানান, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো

সিন্ডিকেটের সভাপতি হবেন ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি)। এ ছাড়া সেখানে বিভিন্ন পেশার লোক থাকবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে তিনটি অধীন্যস্ত (সাবর্ডিনেট) আইন থাকতে হবে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এগুলো হচ্ছে- সংবিধি, বিধি ও প্রবিধান। এ বিষয়েও প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় দুটি হবে স্বতন্ত্র। আইনে বলা না থাকলেও মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে হাসপাতাল থাকতে হয়। তবে প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রাম ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজে তারা মেডিকেলের কাজ করতে পারে। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব হাসপাতাল হবে।’

আইন দুটির খসড়া এখন আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং (পরীক্ষা-নিরীক্ষা) নিয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পরবর্তী সময়ে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print