শুক্রবার , ১৭ আগস্ট ২০১৮
মূলপাতা » রকমারি » রহস্যময় কাঠাঁলগাছ!

রহস্যময় কাঠাঁলগাছ!

কাঁঠাল-গাছসাটুরিয়া উপজেলার এক কাঁঠাল গাছ থেকে কয়েক দিন ধরে সন্ধ্যের পর থেকে রাতভর পানি ঝরছে। কেউ বলছে গাছটি কান্না করছে, আবার কেউ বলছে এটা অলৌকিক পানি।

এ নিয়ে চলছে এলাকায় নানা রকমের কথা। গাছ থেকে ঝড়া পানি খেলেই রোগ বালাই মুক্তি হয় বলে ইতোমধ্যে রটেছে নানা গুজব। এ বিষয়টি নিয়ে এলাকায় এক প্রকার তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাটুরিয়া উপজেলার দড়গ্রাম ইউনিয়নে পুনাইল গ্রামে মৃত ডিগো বেপারীর ছেলে কৃষক মো. ছায়েদ আলীর বসত বাড়িতে ৩ বছর বয়সী একটি কাঁঠাল গাছ থেকে কয়েক দিন ধরেই রাত হলেই ফোটা ফোটা পানি ঝরে। আর এ পানি পরা নিয়ে এলাকায় শুরু হয়েছে তুলকালাম কাণ্ড।

ওই গ্রামের অল্প শিক্ষিত একাধিক বয়স্ক ব্যক্তি পানি ঝরতে দেখে প্রচার করতে থাকে এটা অলৌকিক পানি। আর এ কথাকে বিশ্বাস করে স্থানীয় একাধিক অসুস্থ ব্যক্তি তা পান করে রোগব্যধি থেকে মুক্তি পেয়েছে বলে দ্রুত গুজব ছড়ায়। আর এতে ওই এলাকার যুবক-বৃদ্ধ-নারী সবাই গত কদিন ধরে কাঁঠাল গাছের ঝরা পানি সংগ্রহ করছে। এ পানি পান করতে তারা প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছে গাছের নিচে। আর বাড়ির লোকজন গ্রামের মারুব্বীদের কথায় গাছ থেকে ঝরা পানি সংগ্রহ করতে গাছের নিচে বড় পলিথিন টানিয়ে দিয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ছায়েদ আলীর বাড়িতে কাঁঠাল গাছের নিচে ঝরা পানি সংগ্রহ করতে বড় পলিথিন টানিয়ে দিয়েছে। গাছের গোড়ায় জ্বলছে একাধিক মোম ও আগর বাতি। চারপাশে দাঁড়িয়ে শত শত মানুষ। স্থানীয় কেউ কেউ ওই গাছের গোড়ায় ভক্তি আর মানত করে আগর বাতি আর মোমবাতি জালানোর প্রতিযোগীতায় নেমেছে। গাছ থেকে ঝরা পানি খেলেই রোগ-বালাই মুক্তি হয় বলে ইতোমধ্যে রটেছে গুজব। আর এ গুজবে কান দিয়ে এলাকার শতশত নারী পুরুষ তাদের রোগ বালাই থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিনি ওই কাঁঠাল গাছের গোড়ায় ভিড় জমাচ্ছে।

পুনাইল গ্রামের বৃদ্ধ মো. বাহার আলী বাংলামেইলকে জানান, ৪/৫দিন ধরে আমার জ্বর ছিল বৃহস্পতিবার কাঁঠাল গাছ থেকে ঝরা পানি পান করে তার জ্বর ভাল হয়ে গেছে।

গাছের মালিক কৃষক ছাহেদ আলী জানান, গাছ থেকে রাতব্যাপী পানি ঝরতে দেখে ভয় পেয়ে স্থানীয় মুরুব্বীদের জানাই। তারা আমাকে এটা অলৌকিক পানি বলে পলিথিন বিছিয়ে পানি সংগ্রহ করতে বলে। উৎসুক দর্শনার্থীরা তা পান করে নানা মতামত দিয়ে প্রচার করছে। গাছটি অলৌকিক ভেবে ভয়ে তার গোড়ায় আগর বাতি ও মোমবাতি জালাচ্ছি। তবে এ পানি খাওয়ার বিনিময়ে কোনো টাকা পয়সা নিচ্ছে না কেউ।

সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. এমদাদুল হক জানান, এটা গাছের কান্নাও নয়, অলৌকিক পানি ও ঝড়ছে না। আলোচিত কাঁঠাল গাছটি আসলে কোনো রোগ-বালাইয়ে আক্রান্ত হতে পারে। তবে কোনো পর্যবেক্ষণ না করে বলা মুসকিল গাছ থেকে কেন পানি ঝড়ছে।

#


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print