শনিবার , ২৩ জুন ২০১৮
মূলপাতা » ক্রিকেট » সহজ জয়ে সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়া

সহজ জয়ে সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়া

austr222বিশ্বকাপের তৃতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছে সহ-আয়োজক অস্ট্রেলিয়া ও এশিয়ার পরাশক্তি পাকিস্তান।  শুক্রবার অ্যাডিলেড ওভালে পাকিস্তানের দেওয়া ২১৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামে অস্ট্রেলিয়া। ৩৩.৫ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় তারা। পাকিস্তানকে ৬ উইকেটে হারিয়ে তৃতীয় দল হিসেবে সেমিফাইনালের টিকিট পেয়েছে তারা।

ব্যাট হাতে অস্ট্রেলিয়ার স্টিভেন স্মিথ সর্বোচ্চ ৬৫ রান করেন। ৬৪ রানে ওয়াটসন ও ৪৪ রানে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল অপরাজিত থাকেন।

ইনিংসের তৃতীয় ওভারে দলীয় ১৫ রানে অ্যারন ফিঞ্চকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলে বিদায় করেন পাকিস্তানের পেসার সোহেল খান। মাত্র ২ রান করেন ফিঞ্চ। এরপর দলীয় ৪৯ রানে বিদায় নেন ডেভিড ওয়ার্নার। ওয়াহাব রিয়াজের বলে রাহাত আলীর হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ২৪ রান করেন তিনি।

চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্রিজে এসে নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি মাইকেল ক্লার্ক। দলীয় ৫৯ রানে রিয়াজের বলে শোয়েব মাকসুদের তালুবন্দি হন অসি অধিনায়ক (৮)।

এরপর চতুর্থ উইকেটে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন স্টিভেন স্মিথ ও শেন ওয়াটসন। ব্যক্তিগত ৪ রানে জীবন ফিরে পান ওয়াটসন। রিয়াজের বলে থার্ড-ম্যান পজিশনে দাঁড়ানো রাহাত ক্যাচ ফেলে দেন। ফিফটি তুলে নেন স্মিথ। দলীয় ১৪৯ রানে স্মিথকে ফিরিয়ে ৮৯ রানের বড় জুটি ভাঙেন এহসান আদিল। স্মিথকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন তিনি। ৬৯ বলে ৭টি চারসহ ৬৫ রান করেন স্মিথ। এরপর অবশ্য আর কোনো উইকেট না হারিয়েই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় সাবেক চ্যাম্পিয়নরা।

এর আগে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ৪৯.৫ ওভারে ২১৩ রানে ইনিংস গুটিয়ে যায় পাকিস্তানের। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪১ রান করেন হারিস সোহেল। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৪ রান আসে অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হকের ব্যাট থেকে। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন জশ হ্যাজেলউড।

ব্যাট করতে নেমে নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান। ইনিংসের পঞ্চম ওভারের চতুর্থ বলে দলীয় ২০ রানে সরফরাজ আহমেদকে সাজঘরে ফেরান মিচেল স্টার্ক। সরফরাজকে প্রথম স্লিপে দাঁড়ানো শেন ওয়াটসনের ক্যাচে পরিণত করেন এই অসি পেসার। ১৬ বলে এক চারে ১০ রান করেন সরফরাজ।

এরপর স্কোরবোর্ডে আরো ৪ রান জমা হতেই বিদায় নেন আরেক ওপেনার আহমেদ শেহজাদ। জশ হ্যাজেলউডের বলে দ্বিতীয় স্লিপে মাইকেল ক্লার্কের হাতে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। শেহজাদের সংগ্রহ ১৩ বলে ৫ রান।

ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে আউট হতে গিয়েও বেঁচে যান মিসবাহ। হ্যাজেলউডের বল মিসবাহর পেছন দিয়ে লেগ স্ট্যাম্প ছুঁয়ে যায়, স্ট্যাম্পের এলইডি আলোও জ্বলে ওঠে। কিন্তু বেল পড়েনি। ফলে বেঁচে যান পাক অধিনায়ক।

জীবন ফিরে পেয়ে তৃতীয় উইকেটে হারিস সোহেলের সঙ্গে দলের হাল ধরেন মিসবাহ। ফিফটি রানের জুটি গড়ে দলকে ভালোই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন দুজন। কিন্তু ইনিংসের ২৪তম ওভারে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের বলে মিড উইকেটে ছক্কা মারতে গিয়ে অ্যারন ফিঞ্চের তালুবন্দি হন মিসবাহ। ৫৯ বলে একটি চার ও ২টি ছক্কায় ৩৪ রান করেন তিনি। হারিসের সঙ্গে তার জুটিতে আসে ৭৩ রান।

মিসবাহর বিদায়ের পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি হারিস। দলীয় ১১২ রানে মিচেল জনসনের বলে উইকেটরক্ষক ব্র্যাড হাডিনের গ্লাভসে বন্দি হন তিনি। ৫৭ বলে ৪টি চারের সাহায্যে ৪১ রান করেন হারিস। এরপর দ্রুতই সাজঘরে ফেরেন উমর আকমল (২০)। দলীয় ১২৪ রানে ম্যাক্সওয়েলের বলে ফিঞ্চের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।

এরপর সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে শহিদ আফ্রিদি ক্রিজে এসে ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিং শুরু করলেও বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারেননি। দলীয় ১৫৮ রানে হ্যাজেলউডের বলে ফিঞ্চের তালুবন্দি হন আফ্রিদি। ১৫ বলে ৩ চার ও এক ছক্কায় ২৩ রান করেন তিনি।

সপ্তম উইকেটে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন শোয়েব মাকসুদ ও ওয়াহাব রিয়াজ। তবে মাকসুদকে বিদায় করে তাদের ৩০ রানের জুটি ভাঙেন হ্যাজেলউড। ২৯ রান করা মাকসুদকে জনসনের ক্যাচে পরিণত করেন এই অসি পেসার। পরের ওভারে রিয়াজকে (১৬) ব্র্যাড হাডিনের গ্লাভস-বন্দি করান মিচেল স্টার্ক।

দলীয় ১৯৫ রানে সোহেল খানকে ফিরিয়ে পাকিস্তানের নবম উইকেটের পতন ঘটান হ্যাজেলউড। ফলে ২০০ রানের আগেই অলআউট হওয়ার শঙ্কায় পড়ে পাকিস্তান। তবে শেষ উইকেটে রাহাত আলী ও এহসান আদিলের ১৮ রানের জুটিতে ২০০ রানের কোটা পার করে তারা। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন আদিল। জেমস ফকনারের বলে স্টার্কের তালুবন্দি হওয়ার আগে ১৫ রানে করেন তিনি। আর ৬ রানে অপরাজিত থাকেন রাহাত।

এই ম্যাচের জয়ী দল দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে খেলবে।

২০১১ সাল থেকে অ্যাডিলেডে ছয়টি ওয়ানডে খেলে চারটিতেই হেরেছে অস্ট্রেলিয়া। জিতেছে বাকি দুই ম্যাচে।

বিশ্বকাপে এর আগে আটবার মুখোমুখি হয়েছে পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়া। জয়ের পাল্লা অবশ্য স্থির রয়েছে। আট ম্যাচের চারটিতে জিতেছে পাকিস্তান, বাকি চারটিতে অস্ট্রেলিয়া। সবশেষ ২০১১ বিশ্বকাপে কলম্বোতে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল । সে ম্যাচে অবশ্য পাকিস্তান জিতেছিল।  এবার পাকিস্তানকে হারিয়ে বিশ্বকাপে জয়ের পাল্লাটা ভারী করল অসিরা।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print