শনিবার , ২১ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » রকমারি » যে গ্রামে মানুষের চেয়ে বেশি কাকতাড়ুয়ার বাস

যে গ্রামে মানুষের চেয়ে বেশি কাকতাড়ুয়ার বাস

imrsReutersলন্ডনের মাদাম তুসো জাদুঘরে মোম দিয়ে যাদের বানানো হয়েছে, তাঁরা সবাই পৃথিবীতে সেলিব্রেটি বলেই পরিচিত। মোমের তৈরি মানুষগুলি দেখতে একদম জীবিত হলেও নকল মানুষের এই রাজ্যে ইতিহাসের নায়ক-ভিলেন সবাইকে খুঁজে পাওয়া যাবে। তাহলে ‘সাধারন’ মানুষদের জাদুঘর কি কোথাও নেই?

দক্ষিন জাপানের শিকোকু দ্বীপের ছোট্ট এই গ্রামেও অনেক নকল মানুষ দেখতে পাওয়া যায়। এখানে মাত্র ৩৫ জন গ্রামবাসী বসবাস করলেও ‘পুতুল মূর্তি’ রয়েছে ৩৫০ টির বেশি। গত এক যুগের বেশি সময় ধরে Tsukimi Ayano (৬৫) একাই এগুলি বানিয়েছেন। পুতুল মূর্তিগুলি জাদুঘরের মতো কৃত্রিম পরিবেশে রাখা হয়নি। তাদের রাখা হয়েছে প্রকৃতির রাজ্যে। মূলত চিরতরে হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের স্মৃতি ধরে রাখার জন্যেই গ্রামবাসীর সম্মতি এবং এই প্রচেষ্টা। পুতুল মূর্তির কারনে গ্রামটির নাম হয়ে গেছে ‘কাকতাড়ুয়া গ্রাম’। চিরতরে হারিয়ে যাওয়া প্রিয় মানুষদের পুতুল মূর্তির সাথে একই গ্রামে বসবাস করার অনূভূতি ঠিক কেমন, সেটি হয়তো গ্রামবাসীরাই বলতে পারবেন।

বৃটিশ নৃবিজ্ঞানী ব্রনিস্ল ম্যালিনোস্কি ট্রবিয়্যান্ড্র দ্বীপপুজ্ঞের যেখানে মাঠকর্ম করেছিলেন, ঠিক সেখানে পাশের আরেকটি গ্রামে মার্কিন নারীবাদী নৃবিজ্ঞানী এ্যানিটি বারবারা উইনার দীর্ঘ ১০টি মাস মাঠকর্ম করেন সেই ১৯৭৪ সালে। নৃবিজ্ঞানী উইনার ট্রবিয়্যান্ড্রের সেই গ্রামে মাঠকর্ম শুরু করার সাথে সাথেই স্থানীয় একটি শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দেবার আমন্ত্রণ পান। একই ধরনের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে ম্যালিনোস্কিও যোগ দিয়েছিলেন অর্ধ শতাব্দী পূর্বে। কিন্তু শবদেহকে কেন্দ্র করে যেসকল আচার অনুষ্ঠান পালন করা হয়, সেগুলি দেখে ম্যালিনোস্কি খুবই বিরক্ত হয়েছিলেন। কিন্তু একই ধরনের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দেবার পরও উইনারের অনুভূতিটি ম্যালিনোস্কির থেকে ছিল একেবারেই আলাদা। অনুষ্ঠানটি উইনারকে অনেকক্ষন আচ্ছন্ন করে রেখেছিল। এই শেষকৃত্যে উইনার এক ধরনের অদ্ভুত রকমের সৌন্দর্য খুঁজে পেয়েছিলেন। তিনি হাসপাতালের বদ্ধ কেবিনে ‘অমানবিকভাবে’ একলা মরতে চাননি। শেষ পর্যন্ত উইনার লিখতে বাধ্য হন:

“a feeling that to die in Kiriwina (‘name of the village island’) is much more humane than to die in a sterile hospital room.”

উইনারের মতো আমিও এই রকম একটি জাপানিজ গ্রামে মরতে চাই। জাপানিজ এই বুড়োর কাজে কি আমরা কোন অদ্ভূত ধরনের সৌন্দর্য খুঁজে পাই?? আপনি যদি আমাকে বলেন ‘তুমি কোথায় আগে যেতে চাও, মাদাম তুসো জাদুঘরে নাকি কাকতাড়ুয়া গ্রামে?’ আমি উত্তর হবে ‘কাকতাড়ুয়া গ্রামে’।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print