সোমবার , ২৩ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » প্রধান খবর » মংলায় উদ্ধার কাজ সমাপ্ত ঘোষণা

মংলায় উদ্ধার কাজ সমাপ্ত ঘোষণা

Bagerhat-News-BMমংলায় সেনা কল্যাণ সংস্থার সিমেন্ট কারখানার নির্মাণাধীন ভবনের ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার কাজ সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ওই ধ্বংসস্তূপ থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ৭ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

মংলা সিমেন্ট কারখানার উপ মহাপরিচালক (ডিডিজি) ক্যাপ্টেন সৈয়দ হেলাল হোসেন শুক্রবার ১টার সময় বলেন, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আর কেউ নেই। সব মিলে সাতজন নিহত ও ৪৬ জন আহত হয়েছেন।

তবে স্থানীয়রা আশংকা করছেন মংলা সিমেন্ট ফ্যাক্টরি নামের ওই কারখানার ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অনেক শ্রমিক আটকা পড়ে আছেন।

নিহত শ্রমিকদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন রামপাল উপজেলার রাজনগর গ্রামের মাহারুফ হাওলাদার, গৌরম্ভা গ্রামের আমির আকন্দ ও খুলনা মহানগরের বাগমারা এলাকার আল আমিন। অন্য চার শ্রমিকের পরিচয় পাওয়া এখনো যায়নি। সাতজনের লাশ মংলা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। তাদের মধ্যে ২৩ জনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে নির্মাণাধীন ওই কারখানাটি দুর্ঘটনার সময় ১৮০ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা অর্ধশতাধিক শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করে।

মংলা বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুফল শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ৭ শ্রমিকের লাশ উদ্ধারের বিষয়টি দ্য রিপোর্টকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ধসে পড়া ভবনের মধ্যে আটকা পড়েছেন অসংখ্য শ্রমিক। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

এসআই সুফল আরও জানান, স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর সহায়তায় উদ্ধার তৎপরতা চলছে।

ঘটনা তদন্তে সেনা কল্যাণ সংস্থার পক্ষ থেকে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এদিকে সেনাকল্যাণ সিমেন্ট ফ্যাক্টরির উপ-পরিচালক ক্যাপ্টেন হেলাল উদ্দিন জানান, নিহত শ্রমিকদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১ লাখ টাকা করে সহায়তার ঘোষণা দেন। আহতদের চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ারও ঘোষণা দেন তিনি।

স্থানীয় সংসদ সদস্য তালুকদার আব্দুল খালেক, নিহতদের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা ও আহতদের ১০ হাজার টাকা সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক এস এম নাসির হোসেন জানান, এখানে ২৩ রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অধিকাংশের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের মধ্যে দুই শ্রমিককে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা অথবা যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন।

আশঙ্কাজনক দুই শ্রমিক হলেন- শিহাব ও ফিরোজ। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফিরোজকে যশোর সিএমএইচে নিয়ে যাওয়া হলেও শিহাব অচেতন অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পড়ে আছেন।

আহতদের অজ্ঞাত রোগী হিসেবে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। যাদের নাম জানা গেছে তারা হলেন- দেবাশিষ (৩৫), তরুন (৪০), সাহেব আলী (৫০), ইমদাদ (৩৫), মিজানুর রহমান (২২), মাসুদ (৫০), মোজাফফর গাজী (৩২), মশিউর রহমান (৩৫), আল-আমিন (২৫), মাসুদ মিয়া (২৮), হৃদয় (১৮), ছোটন (২৪), ইউনুস শেখ (৪০), শহিদুল (৩৫), রাজু (৩৩), লিয়াকত শেখ (৩৫), আনিস (৩০), মাহবুব-উর রহমান (৩০), নাজিম (২৭), মানসুর (৪৩), মোমিনুল (২৩) ও শিহাব (৪০)।

স্থানীয় ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুর রাজ্জাক ধসে পড়া ভবন ঘুরে এসে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে দ্য রিপোর্টকে জানান, নির্মাণাধীন ওই ভবনের নিচে আটকা পড়েছেন প্রায় দেড়শ’ শ্রমিক। এর মধ্যে অর্ধশতাধিক শ্রমিকের নিস্তেজ শরীর তিনি দেখতে পেয়েছেন।

তিনি আরও জানান, ভবন ধসের পর স্থানীয়রা সেখান থেকে ৫০ শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করেন। তাদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালসহ খুলনায় নেওয়া হয়।

উদ্ধার হওয়া শ্রমিকরা জানান, সেনা কল্যাণ ভবনের নির্মাণাধীন ১০ নম্বর ভবনের চতুর্থ তলার ছাদের ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। এ সময় ভবনটিতে ১৮০ শ্রমিক কাজ করছিলেন। হঠাৎ ভবনটি ধসে পড়ে।

খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও কোস্টগার্ড কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছেন। নৌবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছেন।

সেনা কল্যাণ সংস্থার মালিকানায় ১৯৯৪ সালে পশুর নদীর তীরে প্রতিষ্ঠিত মংলা সিমেন্ট ফ্যাক্টরি এলিফ্যান্ট ব্র্যান্ড নামে সিমেন্ট বাজারজাত করে আসছে।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print