মঙ্গলবার , ১৭ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » প্রধান খবর » মংলায় সিমেন্ট কারখানার নির্মাণাধীন ভবন ধসে নিহত ৬

মংলায় সিমেন্ট কারখানার নির্মাণাধীন ভবন ধসে নিহত ৬

Bagerhat-News-BM

 জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ৫০ জন শ্রমিককে। এখনও বিধ্বস্ত ভবনে অর্ধশতাধিক শ্রমিক আটকা রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মংলা বন্দর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. এনামুল কবির পাঁচজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহতদের মধ্যে তিনজন হলেন- মাহাফুজ হাওলাদার, আমির আকন্দি ও আল-আমিন। তারা রামপাল উপজেলার বাসিন্দা বলে জানিয়েছেন আহত শ্রমিকরা। বাকিদের নাম পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

এদিকে, উদ্ধার হওয়া আহত শ্রমিকদের খুলনা শেখ আবু নাসের বিষেশায়িত হাসপাতাল, মংলা বন্দর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।

ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযানের তদারকিতে থাকা বাগেরহাটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. শাহ আলম সরদার হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আটকা পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে মংলার নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, বাগেরহাট-মংলার ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট।

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে ছাদ ঢালাই করার সময় আকস্মিকভাবে ধসে পড়ে এলিফ্যান্ট ব্র্যান্ড সিমেন্ট ফ্যাক্টরির ভবন। ধসের পর পরই বন্ধ করে দেয়া হয় ফ্যাক্টরির প্রধান ফটক। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী, নৌবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা।

বিকেল পর্যন্ত বিধ্বস্ত ভবন থেকে চার শ্রমিকের মৃতদেহ উদ্ধার করে কর্মীরা। রাত সাতটা অবধি আরেক মৃতদেহসহ ৫০ জন শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ১২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এদিকে, ভবন ধসের খবর মুহূর্তের মধ্যেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে নিহত ও আহত শ্রমিকদের স্বজনেরা ফ্যাক্টরির সামনে এসে আহাজারি করতে থাকে।

কোস্টগার্ডের পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার মেহেদি মাসুদ বাংলামেইলকে জানান, ধসে যাওয়া ভবনটিতে ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। এ সময় হঠাৎ ভবনটি ধসে পড়ে।

উদ্ধার তৎপরতার তদারকি করতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( সার্বিক) আরিফ নাজমুল হাসান বলেন, ছাদ ঢালাই কাজের সময় দুপুরে আকস্মিকভাবে এলিফ্যান্ট ব্র্যান্ড সিমেন্ট ফ্যাক্টরির নির্মাণাধীন বহুতল ভবনে ধসের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানা যায়নি।

ভবন ধসে হতাহতদের তালিকা তৈরির কাজে নিয়োজিত উপপরিদর্শক (এসআই) সুফল জানান, প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে নির্মাণ ত্রুটির কারণেই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি আরো জানান, সকাল থেকে ওই ভবনে দেড়শ’ জনের মতো শ্রমিক কাজ করছিলো।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ২০১৩ সালে ১০ নভেম্বর মংলা সেনাকল্যাণ সংস্থার এলিফ্যান্ট ব্র্যান্ড সিমেন্ট ফ্যাক্টরির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সিএনবিএম ইন্টারন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড ভবনের কাজ করছিল। ২০১৫ সালের ১০ নভেম্বর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ২ কোটি ৮৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. শাহ আলম সরদার ঘটনাস্থল থেকে আরো জানান, নিহতদের মরদেহ মংলা বন্দর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। আটকা পড়াদের উদ্ধার না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print