বুধবার , ২৫ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » অন্যান্য » ‘গ্রেফতারি পরোয়ানা থানায় পৌঁছামাত্র আটক’

‘গ্রেফতারি পরোয়ানা থানায় পৌঁছামাত্র আটক’

জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  বিএনপির চেয়ারপারসন ও ২০ দলীয় জোট নেত্রী খালেদা জিয়ার গ্রেফতারি পরোয়ানা যখনই থানায় পৌঁছাবে সেই মুহূর্তেই গ্রেফতারের ব্যবস্থা করা হবে।

বুধবার দশম জাতীয় সংসদের পঞ্চম অধিবেশনে এম এ আউয়ালের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, যেই মূহূর্তে তল্লাশির আদেশ থানায় পৌঁছাব, সেই মূহূর্তে ওখানে তল্লাশির ব্যবস্থা করা হবে এবং ওনার ওয়ারেন্ট যখনই ওখানে (থানায়) পৌঁছাবে, সেই মূহূর্তেই তাকে গ্রেফতারের ব্যবস্থাও করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আদালত নির্দেশ দিয়েছেন গুলশানের অফিস তল্লাশি করতে। এই নির্দেশনামা যখনই গুলশান থানায় পৌঁছাবে তখনই পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এটা করা একান্ত প্রয়োজন । কারণ উনি বাড়ি ছেড়ে কেন অফিসে বসে আছেন, এটা এখন রহস্য।’

শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘তিনি (খালেদা জিয়া) যে কাজটা করছেন, সেটা সম্পূর্ণ জঙ্গিবাদী কাজ। তিনি এখন জঙ্গিবাদী নেতা হয়ে গেছেন। মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়া, মানুষকে পুড়িয়ে মারা ও দেশের ক্ষতি করা- এটাই তার এখন একমাত্র কাজ।’

এর আগে লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোটের চলমান অবরোধ-হরতালের নাশকতা প্রতিহত করতে প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আরো কঠোর হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ৫ জানুয়ারি থেকে এই ৬৪ দিন ধরে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট চলমান অবরোধ-হরতালের নামে দেশে এক চরম নৈরাজ্যের সৃষ্টি করেছে। ক্ষমতার লিপ্সায় অন্ধ হয়ে তারা দরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষ, দেশের নিরপরাধ সাধারণ নারী-পুরুষ থেকে শুরু করে এমনকি নিষ্পাপ শিশুদেরও আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করছে।

তিনি বলেন, পৃথিবীর নিষ্ঠুরতম হত্যা প্রক্রিয়া হলো আগুনে পুড়িয়ে মানুষ মারা। আর সেই প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা আরোহরণের চেষ্টা কোনো রাজনৈতিক দলের মতাদর্শ হতে পারে না। পেটের তাগিদে কাজ করতে বেরিয়ে বিগত ৬৪ দিনে ১১৯ জন মানুষ মারা গেছে। যার অধিকাংশই আগুনে পুড়ে মারা গেছে।

পেট্রোল বোমাসহ নানা ধরনের নাশকতামূলক কাজে সহস্রাধিক ব্যক্তি মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে। ২ হাজারের অধিক যানবাহন আগুনে পুড়ে গেছে ও ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ছাড়াও ছয়টি লঞ্চে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। ৩৪ দফায় ট্রেনে নাশকতা হয়েছে।

‘এই নৈরাজ্য দীর্ঘদিন চলতে দেওয়া যায় না’- এমন মন্তব্য করে তিনি আরো জানান, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ বিষয়ে তৎপর আছে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে তারা আরো কঠোর হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দেশের মানুষ শান্তিপ্রিয়। তারা শান্তিতে বসবাস করতে চায়। জনগণের এই নিষ্পাপ আকাঙ্ক্ষাকে আরো কার্যকর করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো আধুনিক করা হয়েছে এবং তার কলেবর বৃদ্ধি করা হয়েছে।

এ লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উন্নয়নে বর্তমান সরকার ২০০৯-২০১৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোতে ৩১ হাজার ৭৪৪টি নতুন পদ সৃজন করা হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ পুলিশের আরো ৫০ হাজার জনবল বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বিএনপি নেত্রী আন্দোলনের নামে অফিসে বসে নাশকতামূলক কাজ করছেন। সারা বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে হেয় প্রতিপন্ন করছেন। দেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্র করছেন।

বিএনপি-জামায়াত নেত্রী যে দাবিদাওয়া দিয়েছেন, তা সবই তার নিজের এবং তার পুত্রের জন্য বলে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা আরো বলেন, দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য তার কোনো চিন্তাও নাই, দাবিও নাই। তাই জনগণ এখন তাকে একেবারেই সমর্থন করে না বরং জনগণ তার প্রতি ক্ষুব্ধ।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথার্থ পদক্ষেপ না নিলে বহু আগেই জনগণ তাকে গুলশান কার্যালয় থেকে বের করে দিত বলেও জানান তিনি।

তিনি দেশের আইন মানেন না। কোর্ট থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলে দেশের যেকোনো নাগরিকের দায়িত্ব হচ্ছে কোর্টে আত্মসমর্পণ করা। আর দায়িত্বশীল নাগরিক অতি দ্রুততার সঙ্গে কোর্টের আদেশ মান্য করবেন, এটাই সারা বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু খালেদা জিয়া কোর্টের আদেশ অমান্য করে একটি অত্যন্ত খারাপ উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন।

আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে, আর আইনকে সমুন্নত রাখা সরকারের দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print