মঙ্গলবার , ১৭ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » প্রধান খবর » সাত জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১১

সাত জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১১

সড়ক দুর্ঘটনায়দেশের সাত জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ১১ জন নিহত হয়েছেন। বরিশাল, শেরপুর, যশোর, গোপালগঞ্জ, টাঙ্গাইল, সাতক্ষীরা ও সিরাজগঞ্জে সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে।

এর মধ্যে বরিশালের গৌরনদীতে বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে দু’জন, শেরপুরে যাত্রীবাহী শ্যালো ইঞ্জিনচালিত ভটভটি উল্টে দু’জন, যশোর জেলার শার্শায় বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের তিন আরোহী, গোপালগঞ্জে যাত্রীবাহী বাস নদীতে পড়ে এক শিশু, টাঙ্গাইলে ট্রাক চাপায় স্কুলছাত্র, সাতক্ষীরায় পিকআপ ভ্যান চাপায় এক নারী এবং সিরাজগঞ্জে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে এক পোস্টমাস্টার নিহত হন।

বরিশাল অফিস জানায়, জেলার গৌরনদী উপজেলার কাসেমাবাদে সোমবার বিকেলে সাকুরা পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মাইক্রেবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে দু’জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন সাত যাত্রী।

নিহতদের মধ্যে সালাহউদ্দিন (৩০) নামে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে।

গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ঢাকা থেকে বরিশালের উদ্দেশে ছেড়ে আসা সাকুরা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস গৌরনদীতে পৌঁছলে যাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে এক জন ও পরে হাসপতালে নেওয়ার পথে আরও এক জন মারা যান।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নিহার রঞ্জন বৈদ্য জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ৯ জনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে দু’জন মারা গেছেন। বাকি ৭ জনের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কানক। তাকে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শেরপুর প্রতিনিধি জানান, শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী শ্যালো ইঞ্জিনচালিত ভটভটি উল্টে দু’জন নিহত ও ১২ জন আহত হন। উপজেলার গজনী অবকাশ কেন্দ্রে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহতরা হলেন- শ্রীবরদী উপজেলার ভাঙ্গারপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুস সালামের ছেলে আজাহার আলী (৩৫) ও বালিয়াচণ্ডি গ্রামের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মৃত সেকান্দার আলীর ছেলে দুলাল মিয়া (৩০)।

আহতদের মধ্যে মাসুদ, রাসেল, শাহাবুদ্দিন, আবু রায়হান, আজাদ ও মাহাবুবকে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে এবং বাকিদের স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

ভটভটিযাত্রী সেকান্দার আলী জানান, সকাল ১১টার দিকে শ্রীবরদী উপজেলার বালিয়াচণ্ডি গ্রাম থেকে ভটভটিতে করে তারা পিকনিক করতে যান। অবকাশ কেন্দ্রের গেট দিয়ে প্রবেশ করে পাহাড়ের ঢালু রাস্তা দিয়ে নামার সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এতে ভটভটিটি উল্টে যায়।

ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফসিহুর রহমান জানান, লাশ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শেরপুর জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

বেনাপোল প্রতিনিধি জানান, যশোর জেলার শার্শা উপজেলায় বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী এক গৃহবধূসহ একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন।

তারা হলেন- গৃহবধূ রিক্তা খাতুন (৩৫), তার ভাই আব্দুল্লাহ (৩০) ও ভাইপো সাইদ হোসেন (২২)। তাদের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার সুলতানপুর গ্রামে।

দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন বাসের অন্তত ১২ যাত্রী। এ ঘটনার পর নাভারণ-সাতক্ষীরা সড়ক দিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।

যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের জামতলা বাজারের কাছে ওরিয়েন্টাল অয়েল কোম্পানির ফ্যাক্টরির সামনে সোমবার বিকেল ৪টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বাগআঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) সৈয়দ বায়েজীদ জানান, রিক্তাসহ তিনজন মোটরসাইকেলে করে আত্মীয়ের বাড়ি যাচ্ছিলেন। তারা ওরিয়েন্টাল অয়েল কোম্পানির ফ্যাক্টরির সামনে পৌঁছালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সাতক্ষীরাগামী সোহাগ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস (ঢাকা মেট্রো-চ-১১-০৩৭২) একটি ট্রাককে ওভারটেক করতে গিয়ে মোটরসাইকেলকে চাপা দিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেলের তিন আরোহীর মৃত্যু হয়। ওই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন বাসের ১২ যাত্রী।

খবর পেয়ে বাগআঁচড়া ফাঁড়ির পুলিশ ও আশপাশের লোকজন ছুটে এসে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। বাসটি নাভারণ হাইওয়ে পুলিশ জব্দ করলেও চালক ও তার সহকারীকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট সড়কের পদ্মবিলায় সোমবার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস মধুমতি নদীতে পড়ে এক শিশু নিহত হয়েছে। এ ছাড়া আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক যাত্রী। নিহত শিশুর নাম মেহেদী খালাসী (১০)। তাৎক্ষণিক আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

গোপালগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার নিয়ামুল হক জানান, বাসটির সামনের ডান পাশের টায়ার ফেঁটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বাসটি পানির নিচে রয়েছে।

গোপালগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম জানান, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা বাসটি উদ্ধারে কাজ করছে।

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, জেলার দেলদুয়ারে মাটির ট্রাকের চাপায় মনির হোসেন (১৩) নামে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। উপজেলার কান্দাপাড়ায় সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মনির হোসেন উপজেলার কান্দাপাড়া গ্রামের মোতালেব সরকারের ছেলে। সে জাঙ্গালীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র ছিল।

দেলদুয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চান মিয়া দ্য রিপোর্টকে জানান, স্কুল থেকে ফেরার পথে পিছন থেকে একটি মাটির ট্রাক এসে মনিরকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, সাতক্ষীরা-যশোর মহাসড়কের সদর উপজেলার ছয়ঘরিয়া মোড়ে সোমবার দুপুরে ওষুধবাহী পিকআপের চাপায় তাসলিমা খাতুন (২৭) নামে মোটরসাইকেলের এক আরোহী নিহত হয়েছেন। এ সময় তার স্বামী শরীফ আহসানও আহত হন।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমদাদ শেখ জানান, কলারোয়া উপজেলার তুলসীডাঙ্গা গ্রামের শরীফ আহসান মোটরসাইকেলে তার স্ত্রী ও মেয়ে পায়েলকে নিয়ে সাতক্ষীরায় যাচ্ছিলেন।

তিনি জানান, তারা ছয়ঘরিয়া মোড়ে পৌঁছলে এসিআই ওষুধ কোম্পানির একটি পিকআপ মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিলে তারা রাস্তায় পড়ে যায়। এ সময় স্বামী ও মেয়ের সামনেই চাকায় পিষ্ট হয়ে তসলিমার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় স্বামী শরীফও আহত হন।

ইমদাদ শেখ বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ পিকআপ ভ্যানটি আটক করলেও চালক পালিয়ে যায়।

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, জেলার তাড়াশে সোমবার ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে পোস্টমাস্টার সাইফুল ইসলাম আতু (৫৯) নিহত হয়েছেন। তিনি উপজেলার মাগুরা বিনোদ ইউনিয়নের দোবিলা গ্রামের বাসিন্দা।

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ বি এম ইমদাদুল হক জানান, বিকেল সাড়ে ৫টায় নাটোর-বনপাড়া মহাসড়কের তাড়াশ উপজেলার মহিষলুটিতে রাস্তা পারাপারের সময় পোস্টমাস্টার সাইফুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। বগুড়া হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। ট্রাকটি জব্দ করা সম্ভব হলেও চালক ও এর সহকারী পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে থানায় মামলা হয়েছে।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print