সোমবার , ১৬ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » ক্রিকেট » মাহমুদউল্লাহর প্রথম সেঞ্চুরি

মাহমুদউল্লাহর প্রথম সেঞ্চুরি

mahবাংলাদেশ দলের সহ অধিকায়ক। টেস্ট ক্যারিয়ারের শুরুতে ক্রিকেটে সাত নম্বরে নেমে অসাধারণ কিছু ইনিংস খেলার পর ব্যাটিং কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার বলেছিলেন, পৃথিবীর সেরা সাত নম্বর ব্যাটসম্যান মাহমুদুল্লাহ। ওয়ানডে ক্রিকেটে অবশ্য এতো নীচে নামেন না মাহমুদউল্লাহ। তিন বা চার নম্বরে তাকেই ভরসা মানছে বাংলাদেশ।

খুব একটা মেরে খেলেন না তিনি, টাইমিংয়ের ওপর নির্ভর করে ক্লাসিক্যাল ব্যাটিই পছন্দ মাহমুদউল্লাহর। ইংল্যান্ডের সঙ্গে ম্যাচের আগে ১১৩টি ওয়ানডে খেলেছেন মাহমুদউল্লাহ। ৩২ দশমিক ৪০ গড়ে করেছেন দুই হাজার ২৩৬ রান। এর মধ্যে সেঞ্চুরি করতে না পারলেও ৫০ রানের ইনিংস আছে ১২টি। সেই আক্ষেপ তিনি মেটালেন বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার চ্যালেঞ্জের ম্যাচে। কেবল নিজের প্রথম নয় বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরিয়ানও এখন মাহমুদউল্লাহই।

মাহমুদউল্লাহর দলে জায়গা নিয়ে তেমন সমস্যা হয়নি কখনও। তবে ধারাবাহিকতার অভাব ছিলো বরাবর। চলতি বিশ্বকাপে যাদেরকে ঘিরে স্বপ্ন দেখেছিলো টাইগার ফ্যানরা তাদের মধ্যে বাংলাদেশের এই চার নম্বরের নাম ছিলো-সেটা বলা যাবে না কোনোভাবেই। কিন্তু বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সবচেয়ে ধারাবাহিক ব্যাটসম্যানদের একজন যে তিনিই।

আগের ম্যাচে ৩১৯ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুতেই সৌম্য সরকারকে হারানোর পর ওপেনার তামিম ইকবালকে নিয়ে পাল্টা আঘাত হানেন মাহমুদউল্লাহ। ৬২ রানে দুর্ভাগ্যজনকভাবে একটি ওয়াইড বল পেছনের পায়ে লেগে স্ট্যাম্পে আছড়ে না পড়লে ইনিংসটি আরও বড় হতে পারতো।

ইংল্যান্ডের ম্যাচে আরও চওড়া মাহমুদউল্লাহর ব্যাট। ম্যাচ জিতলে কোয়ার্টার ফাইনালে-এমন সমীকরণে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ফিরে গেলেন দুই ওপেনার ইমরুল কায়েস ও তামিম ইকবাল। তিন নম্বরে নামা সৌম্য সরকারকে নিয়ে শুরু করলেন পাল্টা আঘাত। রান নিয়ে গেলের একশর কাছাকাছি। এরপর একটি বাউন্সার এড়াতে না পেরে গ্লাভসে ছোঁয়া লেগে উইকেট কিপারের হাতে ক্যাচ চলে গেলো, আউট হলেন সৌম্য। বাংলাদেশের সবচেয়ে ভরসা সাকিব আল হাসানের আউটটা ছিলো দৃষ্টিকটু। মইন আলীর নির্বিষ একটি অফ স্পিনারে ব্যাট ছুঁইয়ে স্লিপে যেন ক্যাচিং প্র্যাকটিস করালেন সাকিব।

অপর প্রান্তে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করলেন মাহমুদউল্লাহ। তখন তার ইনিংসে চারটি চার ও একটি ছয়ের মার। তার ব্যাটেই তখন বাংলাদেশের স্বপ্ন। ক্রিজে এলেন ক্যাপ্টেন মুশফিকুর রহিম। রান তুললেন দ্রুত লয়ে। অপর প্রান্তে ধীরস্থির কিন্তু ঝুঁকিহীন ব্যাটিং চালিয়ে যেতে লাগলেন মাহমুদউল্লাহ। ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি করতে বল তুলনামূলক একটু বেশিই খেললেন তিনি। ১০০ পূরণ করতে ১৩১ বল লেগে যায় তার। কিন্তু মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ বলে বলে রান তুলে ম্যাচটাকে যে জমিয়ে তুলেছেন।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print