সোমবার , ২৩ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » প্রধান খবর » অভিজিৎ হত্যা মামলা যুক্তরাষ্ট্রে!

অভিজিৎ হত্যা মামলা যুক্তরাষ্ট্রে!

fbi-1425814125লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায়কে সৃজনশীল লেখালেখির কারণে উগ্রপন্থি একটি গ্রুপ হত্যা করেছে। এমনটি জানিয়েছেন বাংলাদেশে সফররত মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই প্রতিনিধিদল।

রোববার বেলা ৩টার দিকে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে গোয়েন্দা পুলিশের মুখপাত্র যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে আসা এফবিআই প্রতিনিধিদলের সঙ্গে গত কয়েক দিনে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক একাধিক বৈঠক হয়েছে। সামনে তারা যে কয়েক দিন থাকবেন, এরকম বৈঠক আরো অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে তারা অভিজিৎ হত্যার বিস্তারিত শুনেছেন। গোয়েন্দাদের পাশাপাশি সিআইডি এবং অভিজিতের বাবা অজয় রায়ের সঙ্গেও কথা বলেছেন তারা। এ ছাড়া তারা অভিজিৎ হত্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সবকিছু মিলে এ পর্যন্ত তারা তদন্তকাজে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

মনিরুল ইসলাম বলেন, অভিজিৎ হত্যার তদন্তকাজ শেষ করতে এফবিআই প্রতিনিধিদল আরো কয়েক দিন থাকবে। তারা গোয়েন্দা পুলিশকে পূর্ণ সহযোগিতা করার কথা বলেছেন। তারা মূলত প্রযুক্তিগত সহযোগিতা করবেন।

এক প্রশ্নের জবাবে যুগ্ম কমিশনার বলেন, ‘রিমান্ডে থাকা ফারাবী একাধিক তথ্য দিয়েছে। কয়েকজন সহযোগীর নামও বলেছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে। অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ফারাবী জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া না গেলেও সে ফেসবুকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল, সেটা স্পষ্ট। এটা সে স্বীকারও করেছে। তবে যাদের ব্যাপারে তথ্য দিয়েছে, তাদের গ্রেফতার করতে পারলেই আসল রহস্য বের হয়ে আসবে।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, অভিজিৎকে ফেসবুকে যারা হুমকি দিয়েছিল তাদের সংখ্যা ১০ জনের মতো। তাদেরও খোঁজা হচ্ছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এফবিআই প্রতিনিধিদল ফারাবীর সঙ্গে এখনো কথা বলেননি। তবে ভবিষ্যতে তার সঙ্গে কথা বলতে পারেন।

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী ফারাবীবর সঙ্গে আরো একজনকে আটক করা হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, অভিজিৎ হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ফারাবীর সঙ্গে আরো একজনকে আটক করা হয়েছিল। তবে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে তাকে বলা হয়েছে, যেকোনো প্রয়োজনে তাকে আবার ডাকা হতে পারে।

তিনি জানান, গত কয়েক দিনের তদন্তকাজ শেষে এটুকু নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, আনসার বাংলা ৭-এর সঙ্গে আইএস ও অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা মিশে গিয়ে অভিজিৎ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এফবিআই প্রতিনিধিদলের সদস্যদের আমাদের গোয়েন্দারা জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আপনারা তো এ ধরনের তদন্তকাজ এর আগেও অনেক করেছেন। আপনারা কী ভাবছেন এ ব্যাপারে? এমন প্রশ্নের উত্তরে তারা জানিয়েছেন, এ হত্যাকাণ্ড কোনো একক ব্যক্তির কাজ নয়। এটা একটা গ্রুপ-ভিত্তিক সংগঠনের কাজ। কারণ তারা অভিজিৎকে অনেক আগে থেকেই ফলো করেছে। নজর রেখেছে। পেছনে পেছনে ঘুরেছে। এরপর সুযোগমতো তারা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

এফবিআই কোনো আসামি শনাক্ত করেছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত তারা কোনো আসামিকে শনাক্ত করেনি। তবে কাউকে শনাক্ত করলে গোয়েন্দা পুলিশ তাদের গ্রেফতারে আগ্রহ দেখাবে।
অপর এক প্র্রশ্নের জবাবে মনিরুল বলেন, অভিজিৎ মার্কিন নাগরিক হওয়ায় এফবিআই তাদের দেশে মামলা করবে। সেই মামলায় আদালতের নির্দেশে কোনো আলামত পাঠানোর প্রয়োজন হলে তা পাঠানো হবে। এমনকি কোনো আসামিকেও যদি আদালত পাঠাতে বলে, তাও করা হবে। তবে সেটা হবে  ‘মিউচুয়াল অ্যান্ড লিগ্যাল এগ্রিমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স ট্রিটি’র আওতায়।

মনিরুল ইসলাম আরো বলেন, অভিজিৎ হত্যার ঘটনাস্থল থেকে আলামত হিসেবে উদ্ধারকৃত চাপাতি থেকে আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করা হয়েছে। কোনো আসামি গ্রেফতার হলেই তা মেলানো হবে।

উল্লেখ্য, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত সোয়া ৯টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের কাছে বটতলায় অভিজিৎ ও তার স্ত্রীর ওপর হামলা হয়। অমর একুশে গ্রন্থমেলা থেকে বাসায় ফেরার পথে তারা এ হামলার শিকার হন। এ সময় দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের কোপে তারা গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান অভিজিৎ।

এরপর ঘটনাটি নিয়ে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় হলে অভিজিৎ হত্যাকাণ্ড তদন্তে এফবিআই আসার আগ্রহ প্রকাশ করে।  সেই অনুযায়ী গত ৫ মার্চ বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের প্রতিনিধিদলের চার সদস্য ঢাকায় আসেন। এরপর তারা ওই দিনই দুপুরে গোয়েন্দা কার্যালয়ে অভিজিৎ হত্যা-সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে চার ঘণ্টা বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে প্রতিনিধিদল ওই দিনই মাঠে নামেন অভিজিৎ হত্যার তদন্তকাজে। এরপর তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সবশেষ শনিবার অভিজিতের বাবা অজয় রায়ের সঙ্গে কথা বলেন তারা।

তদন্তের অংশ হিসেবে রোববার সকাল থেকে তাদের কার্যক্রম চোখে পড়ে। প্রথমে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা কার্যালয়ে প্রবেশ করে নির্ধারিত বৈঠক না করেই ফেরত গিয়ে এফবিআইয়ের প্রতিনিধিদল বৈঠক করলেন সিআইডি কর্মকর্তাদের সঙ্গে। তারা সেখানে ৪৫ মিনিট বৈঠক করেন। এরপর তারা সিআইডির ক্যাপাবিলিটি সম্পর্কে ঘুরে দেখেন। দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে তারা ডিবি কার্যালয়ের উদ্দেশে সেখান থেকে বের হন।

সিআইডির ডিআইজি সাইফুল ইসলাম রাইজিংবিডিকে জানান, দুপুর ১২টার দিকে এফবিআইয়ের প্রতিনিধিদল সিআইডি কার্যালয়ে প্রবেশ করার পর তারা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর তারা অভিজিৎ হত্যার সংগৃহীত বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন। বৈঠকে মূল আলোচনা শেষে তারা সিআইডি কার্যালয় ঘুরে দেখেন। এরপর তারা বেরিয়ে ডিবি কার্যালয়ে যান। এখন সেখানেই তারা অবস্থান করছেন।

 

 


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print