রবিবার , ২২ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » শিক্ষাঙ্গণ » ২ মাসে লোকসান ১০ হাজার কোটি টাকা!

২ মাসে লোকসান ১০ হাজার কোটি টাকা!

DSE-1425789496টানা দুই মাসের রাজনৈতিক অস্থিরতায় দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচক পতনের বৃত্তেই আবদ্ধ।

ধারাবাহিকভাবেই কমেছে বাজার মূলধন। এ বাজার থেকে কমেছে সরকারের রাজস্ব আদায়।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুই মাসে ডিএসই সূচক হারিয়েছে ৩০০ পয়েন্ট। বাজার মূলধন হারিয়েছে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি। চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি ডিএসই বাজার মূলধন ছিল ৩ লাখ ২৮ হাজার ৮০০ কোটি টাকার বেশি। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার তা কমে ৩ লাখ ১৭ হাজার ৩০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

এদিকে চলমান অস্থিরতার কারণে পুঁজিবাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা গেছে, ধারাবাহিকভাবে দরপতনের কারণে ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে তাদের শেয়ার কেনার পরিমাণ। ডিএসইতে ফেব্রুয়ারি মাসে জানুয়ারির তুলনায় নিট বিনিয়োগ কমেছে ৮৬ শতাংশ।

বর্তমান বাজার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, ২০১০ সালে ভয়াবহ ধসের পর বাজার স্থিতিশীল হয়ে উঠেছিল। ২০১৩ সালে রাজনৈতিক সহিংসতার কারণেও শেয়ারবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখন আবার রাজনৈতিক সংঘাত বাজারকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি ব্রোকার মালিকদের পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক।

বাজার বিশ্লেষণে আরো দেখা যায়, ডিসেম্বর মাসে যেখানে গড় লেনদেন ছিল প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। বর্তমানে গড় লেনদেন হচ্ছে ২০০ কোটি টাকা।

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন যা চলছে তাতে পুঁজিবাজার ভালো পারফর্ম করার কোনো সুযোগ নেই বলে মনে করেন প্রাক্তন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, দেশের সব কটি উৎপাদন খাত এখন বড় ধরনের সংকটে আছে।

সংকট চলছে সেবা খাতেও। এসব খাত ঠিকমতো কাজ করতে না পারলে কোনোভাবেই তারা বিনিয়োগকারীদের ভালো লভ্যাংশ দিতে পারবে না। এ আশঙ্কা থেকেই পুঁজিবাজারে অব্যাহত দরপতন হচ্ছে।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার ফলে দেশের উৎপাদন ও সেবা খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। আর এ দুই খাত নিয়েই পুঁজিবাজার। এখন বিনিয়োগকারীরা লোকসান দিচ্ছেন। কদিন পর ব্রোকার হাউসগুলোও সক্ষমতা হারাবে।

এদিকে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে সরকারের রাজস্ব আয় কমেছে। ফেব্রুয়ারিতে ডিএসই থেকে মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ৮ কোটি ৬৯ লাখ ৬৯ হাজার টাকার।

জানুয়ারি মাসে এই রাজস্বের পরিমাণ ছিল ৯ কোটি ৪৫ লাখ ১৫ হাজার টাকা। এই হিসাবে ফেব্রুয়ারি মাসে সরকারের রাজস্ব আদায় কমেছে ৭৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।

ফেব্রুয়ারিতে সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ডিএসই ৫ কোটি ৩৬ লাখ ৩ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় করেছে, যা জানুয়ারিতে ৫ কোটি ৫৬ লাখ ৯৮ হাজার টাকা ছিল। গত মাসে জানুয়ারির তুলনায় ৪ শতাংশ বা ২০ লাখ ৯৫ হাজার টাকা কম রাজস্ব আদায় হয়েছে।

উদ্যোক্তা পরিচালক ও প্লেসমেন্ট শেয়ারধারীদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায়ও কমেছে। এই মাসে ৩ কোটি ৩৩ লাখ ৬৬ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় করেছে ডিএসই। যা জানুয়ারি মাসের তুলনায় ৫৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা বা ১৪ শতাংশ কম।

জানুয়ারি মাসে ডিএসই উদ্যোক্তা পরিচালক ও প্লেসমেন্ট শেয়ারধারীদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায় করেছিল ৩ কোটি ৮৮ লাখ ১৬ হাজার টাকা।

বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলমান পরিস্থিতির জন্য রাজনৈতিক দলগুলোই দায়ী। সংলাপের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করা না গেলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব হবে না। আর পতন বৃত্তেই থাকবে দেশের পুঁজিবাজার। নিঃস্ব হবে সাধারণ বিনিয়োগকারীরাই।

 #


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print