মঙ্গলবার , ১৭ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » প্রধান খবর » রহস্যজনক কারণে স্থগিত তুরাগে সীমানা পুনর্নির্ধারণের কাজ

রহস্যজনক কারণে স্থগিত তুরাগে সীমানা পুনর্নির্ধারণের কাজ

অজানা কারণে থেমে গেছে তুরাগ নদীর সীমানা পুনর্নির্ধারণের কাজ। বরং অবাধে চলছে নদীর তীর ও নদীবক্ষের জমি দখল। হাইকোর্ট ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অমান্য করে অবৈধভাবে নদীর মাঝখানে ও তীরবর্তী এলাকায় চলছে কারখানা, বাজার, দোকান, গ্যারেজ এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মাণের কাজ।

বাংলাদেশ আভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা খন্দকার গত ফেব্রুয়ারি মাসে সংবাদমাধ্যমে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, নদীবক্ষের ভূমি দখলের হার কমেছে। সীমানা পুনর্নির্ধারণের জন্য নদীবক্ষে খুঁটি লাগানোর সিদ্ধান্ত একটি ভুল পদক্ষেপ ছিল এবং সীমা নির্ধারণ প্রক্রিয়া চালু থাকবে বলেও জানান তিনি।

এর আগে গাজীপুরের জেলা প্রশাসন ২০১১ সালের এপ্রিল মাসের শুষ্ক মৌসুমে পানি যখন তালানিতে তখন নদীর সীমা নির্ধারণকারী খুঁটি স্থাপন করে। এর ফলে নদীবক্ষের একটি বড় অংশ সীমানার বাইরে রয়ে যায়।

বাংলাদেশ আভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ জানায়, টঙ্গী থেকে আমিনবাজার পর্যন্ত প্রায় ৬০০ একর জমি ভূমিদস্যুদের কবলে চলে গেছে। গাবতলী, বড়বাজার, কোটবাড়ী, হরিরামপুর, জাহানবাদ, গলারটেক, লালপাড়া, দিয়াবাড়ি, সিন্নিরটেক, জগন্নাথবাদ, মিরপুরের পূর্বদিকের কিছু অংশ, এস্কাবাদ, গোলবাড়ি, কানুনদিয়া, হরিরামপুর ইউনিয়নের অধীনে নদীর পশ্চিম পাশের অংশে প্রচুর পরিমাণ অবকাঠামো নির্মিত হয়েছে।

হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, নদীবক্ষ, উপকূল ও তীরএই তিনটি অংশ নিয়েই একটি নদীর সীমানা নির্ধারিত হবে।

ভুলক্রমে নদীবক্ষের মধ্যে সীমা নির্ধারণী খুঁটি স্থাপন করার পর নতুন করে সীমা নির্ধারণের সময় ভূমিদস্যুদের প্রতি কঠোর না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফলে শিগগিরই এ সমস্ত স্থাপনা উচ্ছেদ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানায় বিআইডব্লিউটিএ সূত্র।

এ ছাড়াও ভূমিদস্যুদের উচ্ছেদ করে জমি পুনরুদ্ধার করার পদক্ষেপ নিয়েছে জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ আভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সরকারের অন্যান্য সংস্থা। কিন্তু ভূমিদস্যুদের বিভিন্ন মহলে জোরালো প্রভাব থাকায় এই চেষ্টায় ফল হয়েছে খুবই সামান্য।

এ বছর ১৪ জুলাই ঢাকার চারদিক ঘিরে থাকা চারটি নদী–শীতলক্ষ্যা, বালু, তুরাগ ও বুড়িগঙ্গার তীরবর্তী সকল স্থাপনা উচ্ছেদ করার নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। কেবলমাত্র জনকল্যাণে ব্যবহৃত সরকারি ভবনগুলো এই নির্দেশের আওতার বাইরে থাকবে।

পাঁচটি রিভিউ আবেদনের পর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পূর্ববর্তী নির্দেশই বহাল রাখেন। হাইকোর্ট এর আগেও এমন নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু সেসব মানা হয়নি।

গত ১৩ অক্টোবর গাজীপুর জেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ আভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চালানো শুরু করে। সে সময় নদীর সীমানা পুনর্নির্ধারণ কার্যক্রমও চলে। কিন্তু নির্দিষ্ট কোনও কারণ না দেখিয়েই এক সপ্তাহ পরে সে অভিযান স্থগিত হয়ে যায়।

বাংলাদেশ আভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ড মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা খন্দকার বলেন, নদীর সীমানা নির্ধারণ করার জন্য একটি জরিপ চলছে। জরিপটি শেষ হলে সীমা নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, পুরো নদীতে সীমানা নির্ধারণ করা হবে না। কেবল যে সব স্থানে ভুলক্রমে নদীবক্ষের ভেতরে সীমা নির্ধারণী খুঁটি পোতা হয়েছিল, সে সমস্ত স্থানেই সীমা পুনর্নির্ধারণ করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে হাইকোর্ট নদীর ওপর থেকে সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। নদীর ঢালু অংশ থেকে ১৫০ ফুট দূরে নদীর সীমানা খুঁটি লাগানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়।

২০১২ সালে রাজধানীর আশপাশের নদীগুলো থেকে বালু ব্যবসা বন্ধ করতে সরকারকে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print