রবিবার , ২৪ জুন ২০১৮
মূলপাতা » সাম্প্রতিক খবর » র‌্যাডিসন ব্লু’র উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

র‌্যাডিসন ব্লু’র উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

Redison-1425199512দেশের প্রধান বাণিজ্য ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামে প্রথম পাঁচ তারকা মানের হোটেল র‌্যাডিসনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার দুপুর সোয়া ২টার দিকে র‌্যাডিসন ব্লু হোটেলের নামফলক উন্মোচন করে হোটেলের আনুষ্ঠানিক যাত্রার সূচনা করেন তিনি।

বাংলাদেশ সেনাকল্যাণ সংস্থার অর্থায়নে প্রায় পাঁচশ’ কোটি টাকা ব্যয়ে এই হোটেলের নির্মাণ করা হয়। চট্টগ্রাম মহানগরীর লালখান বাজার ও কাজীর দেউড়ি এলাকার মাঝামাঝি এবং চট্টগ্রাম এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের উল্টোদিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চার দশমিক ১৮ একর জমির ওপর এই পাঁচ তারকা মানের হোটেলটি নির্মাণ করেছে সেনা হোটেল ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড।

সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে প্রথমে কক্সবাজারের রামু পৌঁছান। সেখানে নির্ধারিত কর্মসূচি শেষ করে পুনরায় হেলিকপ্টারে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তিনি চট্টগ্রাম সেনানিবাসের হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী সেনানিবাস থেকে সড়ক পথে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরত্বে নবনির্মিত হোটেল রেডিসন ব্লু’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

এ দিকে প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম আগমন উপলক্ষে ব্যাপক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।

মহানগর পুলিশ কমিশনার আব্দুল জলিল মন্ডলের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধানে নগরীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে স্টেডিয়াম সংলগ্ন হোটেল র‌্যাডিসন পর্যন্ত তিন কিলোমিটার সড়কে প্রায় এক হাজার পুলিশ দায়িত্ব পালন করে।  র‌্যাডিসন ব্লু’র উদ্বোধন উপলক্ষে বর্ণিল সাজে সাজানো হয় হোটেল এবং এর আশপাশের এলাকা। হোটেল র‌্যাডিসনের উদ্বোধনের প্রাক্কালে চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানায় প্রায় পাঁচ শতাধিক শিশু-কিশোর ও তরুণ-তরুণী। পতাকা উচিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানায় তারা।

র‌্যাডিসন বে ভিউ হোটেল চিটাগাং প্রকল্পের মেজর এস এম গোলাম কাওসার বলেন, ‘দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত বন্দরনগরী চট্টগ্রামে এটিই প্রথম পাঁচ তারকা মানের হোটেল। ভিস্তারা আর্কিটেক্টসের স্থপতি মুস্তাসিম পলাশ খালিদের নকশায় এবং প্রকৌশলী মো. রফিকের স্ট্রাকচারাল ডিজাইনে ২২ তলা বিশিষ্ট চট্টগ্রাম র‌্যাডিসন হোটেলের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।’

মেজর গোলাম কাওসার আরো জানান, প্রাচ্যের রাণী খ্যাত চট্টগ্রামের পাহাড়-নদী-সমুদ্রের অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে মিল রেখে সবুজবান্ধব নানা আয়োজনে হোটেলটি নির্মাণ করা হয়েছে। এই হোটেলে রয়েছে দুটি বেইজমেন্টসহ ২২টি ফ্লোর। প্রথম পাঁচ তলা পর্যন্ত প্রতিটি ফ্লোরের আয়তন ৮৬ হাজার বর্গফুট। এরপরের ফ্লোরগুলো প্রতিটি ২০ হাজার বর্গফুটের। দেশি-বিদেশি অতিথিদের রাত্রিযাপনের জন্য এখানে রয়েছে ২৪৯টি কক্ষ। এর বাইরে একটি প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুট ও একটি রয়েল স্যুট রয়েছে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর মতো অতিথিদের থাকার জন্য।

হোটেলে ষষ্ঠ তলা পর্যন্ত  বিশেষ র‌্যাম্পের মাধ্যমে ঘুরে ঘুরে উঠতে পারবে গাড়ি। ষষ্ঠ তলাতেই থাকছে সার্কুলার কার পার্কিং ও সুইমিং পুল। পাঁচ তারকা এই হোটেলে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যকে ধারন করে মেজবান হল নামে পরিচিত দুটি ব্যাংকুইট হল করা হয়েছে। প্রতিটিতে একসঙ্গে মেজবানে অংশ নিতে পারবেন এক হাজার অতিথি। হোটেলের ভেতরে বাইরে মিলে এক হাজার অতিথির গাড়ি পার্কিংয়ের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া সাতটি লিফট, দুটি লং টেনিস কোর্ট, একটি ডিসকো থিক, মিনি শপিং মার্ট, ব্যাংকসহ পাঁচ তারকা হোটেলের যাবতীয় সব সুযোগ-সুবিধা এই হোটেলে পরিপূর্ণভাবে বিদ্যমান থাকবে।

সেনাকল্যাণ সংস্থা সূত্র জানায়, ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নির্ধারিত স্থানে মাটি কাটার মাধ্যমে র‌্যাডিসন হোটেলের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল। ২০১১ সালের ১৭ জুলাই ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। মাত্র তিন বছরের মধ্যেই এই বিশাল প্রকল্পের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়।

 #


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print