রবিবার , ২২ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » টেনিস » অভিজিৎ হত্যা বিএনপির জঙ্গি তৎপরতার ফল : তোফায়েল

অভিজিৎ হত্যা বিএনপির জঙ্গি তৎপরতার ফল : তোফায়েল

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ‘মুক্তমনা লেখক অভিজিৎকে পরিকল্পিতভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হত্যা করে তারা প্রমাণ করতে চেয়েছে এদেশে এখনো জঙ্গি আছে।’ এমনটাই মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিকভাবে জঙ্গি দমনে প্রসংশিত হয়েছেন। অথচ পরিকল্পিতভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তমনা লেখক অভিজিৎকে হত্যা করে তারা প্রমাণ করতে চেয়েছে এদেশে এখনো জঙ্গি আছে। স্বাধীনতার পরও এই রকম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল অনেকেই। কিন্তু তারা টিকতে পারেনি। আশা করি বর্তমানের এই বিশৃঙ্খলাকারীরাও টিকতে পারবে না।’

রোববার দুপুরে রাজধানীর সোনাগাঁও হোটেলে চীনের রাষ্ট্রদূত মা মিংকইয়ানকে সাম্যবাদী দলের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তোফায়েল এ কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ছাত্র রজানীতি করেছি। তখন হরতালের আগে শ্লোগান দিতাম গাড়ি ঘোড়া চলবে না, দোকান পাট খুলবে না। অথচ এখন হরতালে গাড়ি চলে। বরং স্বাভাবিক দিনের তুলুনায় আরো বেশি।’

তিনি বলেন, ‘কোথাও কোনো হরতাল হচ্ছে না। শুধু আন্তর্জাতিক বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের ভাবমুর্তি নষ্ট করার জন্যই খালেদা জিয়া আজকের হরতাল দিচ্ছেন।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ‘এদেশে কোনো আন্দলোনই জনগণ ছাড়া সফল হয়নি। আশা করি আগামীতেও হবে না।’

নাসিম বলেন, ‘দেশে চলমান সহিংসতার বিরুদ্ধে আমরা ১৪ দলের পক্ষ থেকে সারাদেশে শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন করেছি। সমাবেশ ও মিছিল করেছি। কোথাও কোনো সহিংসতা করিনি। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দলোন করেছি।’

তিনি বলেন, ‘কয়েকদিন আগে যে মোবাইল কথোপকথন ফাঁস হলো। এটা আমরা বলতে চাইনি। পত্রিকায় এসেছে। মাহমুদুর রহমান মান্না ঘোষণা দিয়ে বলেছেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লাশ চাই। যে কি না একসময় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি ছিলেন। তারা এমন চক্রান্ত করেছে। এর ফলশ্রুতিতে দুঃখজনকভাবে লাশ পড়লো।’ যোগ করেন তিনি।

আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, ‘খুনিদের ধরার চেষ্টা চলছে। এদের কোনো ছাড় নেই। এদের সঙ্গে কোনো আলোচনাও হবে না।’

তিনি বলেন, ‘এখন মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কার সঙ্গে আছে। যারা আমার কন্যাকে হত্যা করছে, মানুষকে পুড়িয়ে মারছে তাদের সঙ্গে, নাকি যারা শান্তির পক্ষে তাদের সঙ্গে? মাঝখানে থাকার কোনো সুযোগ নেই।’

এসময় তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো বিদেশির দিকে তাকিয়ে থাকি না। বিদেশিদের দিকে তাকিয়ে আছে অন্য একটি গোষ্ঠী। এই গোষ্ঠীর সঙ্গে কোনো সংলাপ হবে না। হওয়ার সম্ভাবনাও নেই।’

বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের হাজার বছরের সম্পর্ক উল্লেখ করে অনুষ্ঠানে দেশটির রাষ্ট্রদূত মা মিংকুইয়ান বলেন, ‘চীনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু অংশীদার বাংলাদেশ। চীন সব সময় উন্নয়নশীল বন্ধু দেশগুলোর পাশে আছে। অনেক আগে থেকেই এই দেশের সঙ্গে চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। আমি থাকালীন এদেশের উন্নয়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার জন্য আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, ছাত্রলীগের সভাপতি এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ প্রমুখ।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print