সোমবার , ১৬ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » ক্রিকেট » সবচেয়ে বেশি রানে জেতা সেরা পাঁচ ওয়ানডে

সবচেয়ে বেশি রানে জেতা সেরা পাঁচ ওয়ানডে

দক্ষিণ আফ্রিকাআয়ারল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড ম্যাচঃ ওয়ানডে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রানে জয়ের রেকর্ডটি এখনও নিজেদের করে রেখেছেন ক্রিকেট বিশ্বে ‘ব্লাক ক্যাপস’ হিসেবে পরিচিত নিউজিল্যান্ড। ২০০৮ সালের ১জুলাই স্কটল্যান্ডের আবেরদিন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে আয়ারল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচটিতে ২৯০ রানের বিশাল জয় পায় কালো জার্সিধারী দলটি। এদিন টসে জিতে নিউজিল্যান্ডকে প্রথমে ব্যাটে পাঠায় আয়ারল্যান্ড। দুই কিউই ওপেনার জেমস মার্শাল ও ব্রেনডন ম্যাককুলামের জোড়া শতকে নির্ধারিত ৫০ ওভার থেকে মাত্র দুই উইকেট খুঁইয়ে ৪০২ রানের বিশাল স্কোর গড়ে নিউজিল্যান্ড। মার্শাল(১৬১) ও ম্যাককুলাম(১৬৬) রান করেন। জবাবে ২৮.৪ ওভার ক্রিজে থেকে মাত্র ১১২ রানে গুটিয়ে যায় আইরিশরা। ফলে ২৯০ রানে ম্যাচ জিতে নেয় নিউজিল্যান্ড। এটিই ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসের এ যাবত কালের সবচেয়ে বড় রানে জেতার রেকর্ড।
জিম্বাবুয়ে-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচঃ ওয়ানডের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানে জেতার রেকর্ডটি প্রোটিয়াসদের দখলে। ২০১০ সালের ২২ অক্টোবর বেনোনির উইলোমোর পার্কে অনুষ্ঠিত দিবারাত্রির এ ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে তারা হারায় ২৭২ রানের ব্যবধানে। এদিন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টসে জিতে ব্যাটে নামে দক্ষিণ আফ্রিকা। জেপি ডুমিনি ও এবি ডি ভিলিয়ার্সের জোড়া সেঞ্চুরিতে নির্ধারিত ৫০ ওভার থেকে ছয় উইকেট হারিয়ে ৩৯৯ রান সংগ্রহ করে আফ্রিকানরা। ডুমিনি(১২৯) ও ভিলিয়ার্স (১০৯) রান করেন। জবাবে ২৯ ওভারে ১২৭ রানে অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে। ২৭২ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন দলটি।
শ্রীলংকা-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচঃ তৃতীয় সর্বোচ্চ রানে ম্যাচ জেতার রেকর্ডটিও বিশ্ব ক্রিকেটের ‘চোকার’ খ্যাত দক্ষিণ আফ্রিকার দখলে। ২০১২ সালের ১১ জানুয়ারি পার্লের বোল্যান্ড পার্কে পাঁচ ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে শ্রীলংকার বিপক্ষে দিবারাত্রির ম্যাচে তারা জয় পায় ২৫৮ রানে। এদিন টস জিতে প্রথমে ব্যাট করা দক্ষিণ আফ্রিকার ৩০১ রানের সংগ্রহটি তেমন বড় না হলেও টার্গেট তাড়া করতে নামা লংকানরা মাত্র ৪৩ রানে অলআউট হয়ে যাওয়ায় বিশাল এ জয় পায় প্রোটিয়াসরা। আফ্রিকানদের পক্ষে এদিন ব্যাট হাতে শতক হাঁকান ডানহাতি ড্যাশিং ওপেনার হাশিম আমলা। আর বল হাতে পাঁচ উইকেট শিকার করেন লংকান পেসার লাসিথ মালিঙ্গা।
ভারত-বারমুডা ম্যাচঃ বড় রানের ব্যবধানে ম্যাচ জয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ভারত। ২০০৭ বিশ্বকাপের ১৯ মার্চ মারমুডার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে তারা জয় পায় ২৫৭ রানের। ওভালের পোর্ট অব স্পেনে এদিন টসে জিতে ফিল্ডিং বেছে নেন বারমুডার অধিনায়ক ইরভিং রোমানী। ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে বিরেন্দ্রর শেওয়াগের(১১৪), সৌরভ গাঙ্গুলীর(৮৯), যুবরাজ সিংয়ের(৮৩) ও লিটল মাস্টার শচিন টেন্ডুলকারের অপরাজিত(৫৭) রানের সুবাদে নির্ধারিত ৫০ ওভারে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ৪১৩ রানের বিশাল স্কোর গড়ে তোলে ভারত। এটিই এ যাবত কালে বিশ্বকাপে কোন দলের সবচেয়ে বড় সংগ্রহ। জবাবে ৪৩.১ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৫৬ রানে গুটিয়ে যায় র‌্যাংকিংয়ের তলানীতে থাকা দল বারমুডা। ফলে ২৫৭ রানের জয় পায় ভারত।
দক্ষিণ আফ্রিকা-ওয়েস্টইন্ডিজ ম্যাচঃ মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই প্রোটিয়াসদের হাতছাড়া হয়ে গেল নিউজিল্যান্ডকে সরিয়ে সবচেয়ে বেশি রানে জয় পাওয়ার রেকর্ডটি নিজেদের করে নেয়ার। প্রথম থেকে সেই বার্তাই দিচ্ছিলেন স্টেইন-অ্যাবোটরা। কিন্তু ক্যারিবিয়ানদের নিচের সারির ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তায় সেটি আর হয়ে ওঠেনি। তারপরও আফ্রিকানরা জিতেছে ২৫৭ রানের বড় ব্যবধানে। ফলে বড় ব্যবধানে ম্যাচ জেতার দিক থেকে ভারতের সাথে যৌথভাবে চতুর্থ স্থানে আছেন এবি ডি ভিলিয়ার্সরা। ২০১৫ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে শুক্রবার ওয়েস্টইন্ডিজের বিপক্ষে টসে জিতে ব্যাটে নামে প্রোটিয়াসরা। অধিনায়ক ডি ভিলিয়ার্সের ঝড়ো শতকে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ৪০৮ রান তোলে আফ্রিকা। মাত্র ৬৬ বল মেকাবিলায় আট ছক্কা ও ১৭ চারে এদিন ১৬৬ রান করেন ভিলিয়ার্স। জবাবে দলীয় শত রানে পৌঁছানোর আগেই অলআউটের শঙ্কায় পড়লেও শেষ পর্যন্ত ১৫১ রানে থামে ক্রিস গেইলদের ইনিংস। ফলে ২৫৭ রানের বড় ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নেয় আফ্রিকা। বল হাতে এদিন পাঁচ উইকেট নেন প্রোটিয়াস স্পিনার ইমরান তাহির।

আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print