বুধবার , ২৫ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » বেসরকারি » অভিজিৎ হত্যা: টুইটারে আনসারুল্লাহর দায় স্বীকার

অভিজিৎ হত্যা: টুইটারে আনসারুল্লাহর দায় স্বীকার

অভিজিৎ রায় চৌধুরীলেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায়ের হত্যার দায় স্বীকার করেছে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অভিজিৎয়ের হত্যাকাণ্ডের পর এর সঙ্গে জঙ্গি সংগঠনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি সন্দেহ করা হচ্ছিল। রাত দুইটার দিকে টুইটারে এই হত্যার দায় স্বীকার করে ‘আনসার বাংলা টিম ৭’ স্ট্যাটাস দেয়।

তবে র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, এ ঘটনার পেছনে ঐ জঙ্গি সংগঠনটির সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, এমনও হতে পারে অন্য কোনো জঙ্গি সংগঠন এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে আরেকটি জঙ্গি সংগঠনের ওপর দায় চাপাচ্ছে। এ ঘটনার পেছনে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমসহ হিজবুত তাহরী, জেএমবি, হরকাতুল জিহাদ এমনকি জামায়াত-শিবিরের সম্পৃক্ততা থাকবে পারে কী-না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে ঘটনার পরপর নিহত অভিজিৎ রায়ের বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অ্যধাপক অজয় রায় বাদী শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় তিনি অজ্ঞাত ৫-৭ জন দুর্বৃত্তের কথা উল্লেখ করেছেন।
পুলিশের রমনা জোনের সহাকারী কশিনার শিবলী নোমান জানিয়েছেন, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম ছাড়াও অন্য কোনো জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে এই হত্যার সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিজিৎ  রায়ের প্রতিষ্ঠিত ‘মুক্তমনা’ ব্লগে উগ্রধর্মী চেতনা ও সাম্প্রদায়িকবিরোধী লেখালেখিতে বিভিন্ন ব্লগ থেকে অভিজিৎকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছিল। ঐসব হুমকি দাতাদের ব্লগের ও ফেসবুকের আইডি তদন্ত করা হচ্ছে।
ঐ কর্মকর্তা আরো জানান, ‘সদালাপ’ নামের একটি ব্লগ থেকে অভিজিত রায়ের এসব লেখালেখির ব্যাপক প্রতিবাদ করা হয়েছিল। এমনকি ঐ ব্লগে অভিজিত রায়ের বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।
শাহবাগ থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি। তবে ঘটনাটি পুলিশের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ছায়া তদন্ত করছে।

গতকাল রাতে অভিজিৎ ও তার স্ত্রী ডা. রাফিদা আফরিন বন্যা বাংলা একাডেমিতে একুশে বই মেলায় ঘুরতে ডান। রাত সাড়ে সাড়ে নয়টার সময় তারা দুইজন টিএসসির সামনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সংলগ্ন ফুটপাত দিয়ে শাহবাগের দিকে হেঁটে যাওয়ার সময় অজ্ঞাত ৪/৫ জন সন্ত্রাসী তাদেরকে হঠাৎ করেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। আশেপাশের লোকজন কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুর্বৃত্তরা ভিড়ের মাঝে মিলিয়ে যায়। ঐ সময় আশেপাশের লোকজন এসে তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকরা অভিজিতকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়। আধা ঘণ্টা চেষ্টার পর সাড়ে ১০ টার দিকে অভিজিৎ রায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি বইমেলা থেকে বের হওয়ার পথে একইভাবে লেখক হুমায়ুন আজাদের ওপর হামলা হয়েছিল। ঐ হামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) জড়িত ছিল বলে পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে।
২০১৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন চলাকালে মিরপুরে ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দারকেও তার বাড়ির সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। ঐ হত্যাকান্ডে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীরের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যয়নরত হিযবুত তাহরীরের ঐসব সদস্য ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ায় বøগার রাজীবকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে বলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে জানিয়েছেন।
গত বছর ১৫ নভেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শফিউল ইসলাম লিলনকে তার বাড়ির সামনে কুপিয়ে হত্যা করে। এ হত্যার পরপরই একটি জঙ্গি সংগঠন ফেসবুকে দায় স্বীকার করে স্ট্যাটাস দেয়। ঐ হত্যার পেছনে উগ্র ধর্মীয় মৌলবাদী চক্র জড়িত বলে র‌্যাব ও পুলিশ ধারণা করছে।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print