রবিবার , ২২ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » বেসরকারি » জব্বারের আমৃত্যু কারাদণ্ড

জব্বারের আমৃত্যু কারাদণ্ড

index_70284পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার রাজাকার নেতা থেকে স্বাধীন বাংলাদেশের আইনপ্রণেতা বনে গিয়েছিলেন তিনি; একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের দায়ে সেই আবদুল জব্বারকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

 

যুদ্ধাপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম মঙ্গলবার পলাতক এই যুদ্ধাপরাধীর  সাজা ঘোষণা করেন। রায়ে বলা হয়েছে, জব্বারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা পাঁচটি অভিযোগই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। চারটি অভিযোগে তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং একটিতে ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একাত্তরে হত্যা, গণহত্যা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর ও দেশান্তরে বাধ্য করার মতো যেসব মানবতাবিরোধী অপরাধ তিনি করেছেন তাতে তার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডই প্রাপ্য হলেও বয়স বিবেচনায় আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে আদালত বলেছে।

এর আগে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী দল জামায়াতের ইসলামীর ‘গুরু’ গোলাম আযমকেও বয়স বিবেচনায় ৯০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, যিনি রায় ঘোষণার এক বছরের মধ্যেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আনুমানিক ৮০ বছর বয়সী জব্বার বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থান করছেন বলে প্রসিকিউশনের তদন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।যুদ্ধাপরাধে জব্বারকেই প্রথম কারাদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পলাতক এই যুদ্ধাপরাধীকে দেশে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

রায় ঘোষণার সময় এ ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল হকও উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় পার্টির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার একাত্তরে ছিলেন মুসলিম লীগের নেতা। পিরোজপুর জেলার মঠবাড়ীয়ায় রাজাকার বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে তিনি যে সব অপরাধ ঘটিয়েছিলেন, তা উঠে এসেছে এই রায়ে।

প্রসিকিউশনের আনা ১ নম্বর অভিযোগ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার ফুলঝুড়িতে দুইজন মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা, নাথপাড়া ও কুলুপাড়ার শতাধিক বাড়িতে লুট ও অগ্নিসংযোগ; ২ নম্বর অভিযোগ ফুলঝুড়িতে একজনকে হত্যা এবং ৩৬০টি বাড়িঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ; ৩ নম্বর অভিযোগ

নলীতে ১১ জনকে হত্যা, ৬০টি বাড়ির মালামাল লুট ও অগ্নিসংযোগ এবং পঞ্চম অভিযোগ আঙ্গুলকাটা এবং মঠবাড়ীয়া থেকে ৩৭ জনকে আটক, মালামাল লুট, অপহরণ, নির্যাতন, ১৫ জনকে গুরুতর জখম এবং ২২ জনকে হত্যার জন্য জব্বারকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আর চতুর্থ অভিযোগ- ফুলঝুড়িতে প্রায় দু’শ নিরস্ত্র হিন্দু সম্প্রদায়ের লোককে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করার জন্য জব্বারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ না দিলে আরো দুই বছর কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালের এই রায়ের বিরুদ্ধে এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করা যাবে। তবে সেই সুযোগ নিতে হলে জব্বারকে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত আসা ১৭টি রায়ের মধ্যে চারটি মামলায় মোট পাঁচজন পলাতক আসামির সাজার আদেশ হলো।

ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায়ে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক রুকন আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার এবং নবম রায়ে একাত্তরের দুই বদর নেতা আশরাফুজ্জামান খান ও চৌধুরী মুঈনুদ্দীনের ফাঁসির আদেশ আসে।

আর  দ্বাদশ রায়ে ফরিদপুরের বিএনপি নেতা জাহিদ হোসেন খোকন ওরফে খোকন রাজাকারেরও সর্বোচ্চ সাজার আদেশ হয়। পলাতক থাকায় এই চারজনের কেউ আপিলের সুযোগ পাননি।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print