রবিবার , ২২ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » টেনিস » খালেদার গুলশান কার্যালয়ে চিকিৎসক প্রতিনিধিদল

খালেদার গুলশান কার্যালয়ে চিকিৎসক প্রতিনিধিদল

khaleda-1-1424684135বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য তার গুলশানের কার্যালয়ে প্রবেশ করেছেন চিকিৎসকদের একটি প্রতিনিধি দল। তারা কার্যালয়ে অবস্থান করা অন্যদেরও শারীরিক অবস্থা চেক-আপ করবেন বলে জানিয়েছেন।

সোমবার বিকেল ৩টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো তাহিরের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় তার সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থোপেডিক বিভাগের প্রাক্তন চেয়ারম্যান অধ্যাপক সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ মেডিক্যালের কার্ডোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক তৌহিদুল হক, এমান মেডিক্যাল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, অ্যাপোলো হাসপাতালের সেবিকা লাবনী।

বেলা আড়াইটার দিকে চিকিৎসকদের এই প্রতিনিধি দল ঢাকা মেট্রো-ছ (৭১-০৮৯২) নম্বরের একটি অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে আসেন। পরে একটি ইসিজি মেশিন নিয়ে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।

কার্যালয়ে প্রবেশের কারণ জানতে চাইলে ডা. মো. তাহির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বলেন, ‘আমি কোনো রাজনীতি করি না। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা আমাকে তার (খালেদা জিয়া) শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে অনুরোধ করেছেন। তারা আরো বলেছেন, কার্যালয়ে অবস্থান করা দলের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমানসহ অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য এসেছি।’

ডা. তাহির জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১/১১ এর সময়ে বন্দি থাকা অবস্থায়ও তিনি তার চিকিৎসার দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসনেরও চিকিৎসা করেছেন। এ ছাড়া প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদসহ আরো রাজনীতিবিদের চিকিৎসা করেছেন তিনি।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার গুলশান কার্যালয়ে অবস্থানকারীদের অনেকেরই দিন দিন শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। টানা ৫১ দিন কার্যালয়ে অবস্থান করায় এখন তারা সুস্থ বোধ করছেন না। এরই মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন সেখানে অবস্থান করা দুজন স্টাফ।

গত শুক্রবার ল্যাবএইড হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের সুশীল চন্দ্র বাছার তাদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেন।

এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসনের গণমাধ্যম শাখার সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছিলেন, কার্যালয়ে অবস্থানকারী অনেকেই শারীরিকভাবে অসুস্থ।

তিনি জানান, দোতলা একটি বাড়িতে স্বল্প পরিসরে প্রায় দেড় মাসেরও বেশি সময় অবস্থান করার পর বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, খালেদা জিয়ার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল এবং নিরাপত্তা সমন্বয়ক কর্নেল (অব.) আবদুল মজিদ শারীরিকভাবে সুস্থ বোধ করছেন না।

শুক্রবার মারুফ কামাল জানান, তিনি নিজের শরীরে বেশ ব্যাথা অনুভব করছেন। শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তির ঠিক দুদিন আগে অর্থাৎ ৩ জানুয়ারি রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে পুলিশ বেষ্টনীতে নিজ কার্যালয়ে ‘অবরুদ্ধ’ হয়ে পড়েন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এ সময় তার সঙ্গে দলের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল কাইয়ুম, প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান, বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, মাহবুব আলম ডিউ, নিরাপত্তা সমন্বয়ক অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আবদুল মজিদ, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, কিছু অফিস স্টাফ, কর্মকর্তা-কর্মচারীও অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। ৫ জানুয়ারি কার্যালয় থেকে বের হতে চাইলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাধায় তা পারেননি খালেদা জিয়া। পরে কার্যালয়ের ভেতর থেকেই অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দেন তিনি। তখন থেকে বিএনপি প্রধানের সঙ্গে বাকিরাও কার্যালয়ে অবস্থান করছেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাড়তি নিরাপত্তা সরিয়ে নেওয়া হলেও বিএনপি চেয়ারপারসন কার্যালয়ের বাইরে যাননি।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print