বুধবার , ২০ জুন ২০১৮
মূলপাতা » প্রধান খবর » পদ্মায় লঞ্চডুবি : ৪৩ লাশ উদ্ধার

পদ্মায় লঞ্চডুবি : ৪৩ লাশ উদ্ধার

rajbariপদ্মায় কার্গোর ধাক্কায় এমভি মোস্তফা নামের যাত্রীবাহী লঞ্চ ডুবির ঘটনায় ৪৩ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার দুপুরে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথের মাঝপথে লঞ্চডুবির ঘটনা ঘটে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৮ শিশু, ১৭জন নারী ও ১৮ জন পুরুষের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া অর্ধশত লঞ্চ যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

লঞ্চটি পাটুরিয়া থেকে দৌলতদিয়া যাচ্ছিল। লঞ্চটিতে প্রায় দুই শতাধিক যাত্রী ছিল বলে জানা গেছে।

এদিকে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী কার্গো জাহাজ এমভি নার্গিস-১ চালকসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মানিকগঞ্জের শিবালয় থানার ওসি রকিবুজ্জামান।

তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম পরিচয় জানাতে পারেননি তিনি।

এ ঘটনায় নিহত ও নিখোঁজ হওয়া যাত্রীদের স্বজনদের কান্নায় ভারি হয়ে উঠেছে পদ্মা পাড়ের উভয় তীর।

এদিকে ধাক্কা দেয়া কার্গো এমভি নার্গিসের মাস্টারসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে নৌমন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিবকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ডুবে যাওয়া লঞ্চ এমভি মোস্তফার নিহত যাত্রীদের এক লাখ ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান ড. খন্দকার শামসুজ্জোহা জানান, নিহতদের পরিবারকে এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা দেয়া হবে। এর মধ্যে পাঁচ হাজার দাফন বাবদ দেয়া হবে।

এছাড়া মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসকের তহবিল থেকে আরো ২০ হাজার টাকা করে দেয়া হবে।

পাটুরিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আবদুল মুকতাদির জানান, বেলা ১২টার দিকে একটি সারবোঝাই কার্গো লঞ্চটিতে ধাক্কা দিলে এটি ডুবে যায়। লঞ্চটিতে দুই শতাধিক যাত্রী ছিল বলে তিনি প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেন।

আবদুল মুকতাদির আরো জানান, যাত্রীদের উদ্ধারে নৌপুলিশের পাশাপাশি নৌবাহিনী ও রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এবং উদ্ধারকারী জাহাজ (আইটি-৮৩৮৯) কাজ করছে। লঞ্চটি সনাক্ত করা গেছে। এটি টেনে তীরের দিকে নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি জানান, উদ্ধার করার পর এক শিশুকে উপজেলা হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায়। এছাড়া এক শিশু, চার নারী ও তিন পুরুষের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।

রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম খান ও পুলিশ সুপার তাপতুন নাসরিন ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। লঞ্চডুবির ঘটনায় দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাটে স্ব স্ব জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে দুটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক।

এছাড়া মানিকগঞ্জের শিবালয় ‍উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে একটি মেডিকেল সেন্টার খোলা হয়েছে পাটুরিয়া ঘাটে।

পাটুরিয়া ঘাটের বিআইডব্লিউটিসি’র সহকারি ম্যানেজার (বাণিজ্য) জিল্লুর রহমান জানান, রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় এমভি মোস্তফা নামে একটি লঞ্চ পাটুরিয়া ঘাট থেকে দৌলতদিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। মাঝ পদ্মায় এ লঞ্চটিকে নার্গিস নামে একটি কার্গো ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর ডুবুরি দল উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে এ দুর্ঘটনায় দায়ী কার্গোর মাস্টার ইকবাল ও সারেং শহিদুলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঢাকা থেকে বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গেছেন। এ ছাড়া স্থানীয় প্রশাসনও উদ্ধার তৎপরতা তদারক করছেন।

লঞ্চ এমভি মোস্তফার ডুবে যাওয়া যাত্রীদের লাশের উদ্ধারের জন্য  নদী পাড়ে বসে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন স্বজনরা। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পদ্মা পাড়ের উভয় তীর। দৌলতদিয়া নৌরুট এবং পাটুরিয়া নৌঘাট উভয় ঘাটেই অপেক্ষা করছে লঞ্চে নিখোঁজ হওয়া যাত্রীদের স্বজনরা। স্বজনদের এখন একটাই চাওয়া অন্তত তারা যেন লাশটি পায়।

উদ্ধারকাজ তদারকিতে নৌমন্ত্রী: লঞ্চডুবির ঘটনার পরই নৌমন্ত্রী ঘটনাস্থলে যান এবং সেখানে উদ্ধার কাজ তদারকি করেন। তিনি উদ্ধার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। এসময় অন্যান্যের মধ্যে বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান ড. মোঃ শামছুদ্দোহা খন্দকার উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print