বুধবার , ২৫ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » প্রধান খবর » কামারুজ্জামানের আইনজীবীর খালাসের আশা

কামারুজ্জামানের আইনজীবীর খালাসের আশা

imagesমানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে পাওয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে পুনর্বিবেচনার আবেদন করবেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান। এতে তিনি ন্যায়বিচার ও খালাস পাবেন বলে বিশ্বাস করেন।
আজ শনিবার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে কামারুজ্জামানের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবীরা।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে কামারুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করতে যান তাঁর পাঁচ আইনজীবী। তাঁরা ভেতরে ৫৫ মিনিট অবস্থান করেন। তবে কামারুজ্জামানের সঙ্গে কথা বলেন ৩০ মিনিট।
পরে কামারুজ্জামানের আইনজীবী তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, তাঁরা রিভিউ আবেদন করবেন।
কবে নাগাদ আবেদন করা হবে—জানতে চাইলে তাজুল ইসলাম বলেন, মৃত্যু পরোয়ানা যেদিন পড়ে শোনানো হয়েছে, সেদিন থেকে ১৫ দিন সময় আছে। এর মধ্যে রিভিউ আবেদন করা হবে।
রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে কামারুজ্জামানের এই আইনজীবী বলেন, রিভিউয়ে ন্যায়বিচার পাবেন বলে কামারুজ্জামান ও তাঁদের বিশ্বাস। রিভিউ নিষ্পত্তি হওয়ার এক ঘণ্টা আগেও রায় কার্যকর করা যাবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।
কারাগারে কামারুজ্জামান কেমন আছেন—জানতে চাইলে তাঁর আরেক আইনজীবী শিশির মনির দিনক্ষণকে বলেন, ‘উনি ভালো আছেন। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস তিনি নির্দোষ। যেসব ঘটনায় তাঁকে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়েছে, এর সঙ্গে তাঁর কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই। তাঁর (কামারুজ্জামান) বিশ্বাস, তিনি রিভিউয়ে ন্যায়বিচার ও খালাস পাবেন।’
কারাগারে প্রবেশের আগে আইনজীবী শিশির মনির প্রথম আলোকে বলেন, রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে কথা বলতে তাঁরা কামারুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন। আজ কামারুজ্জামানের পরিবারের কেউ তাঁর সঙ্গে দেখা করছেন না।
কামারুজ্জামানের ছেলে হাসান ইকবাল ওয়ামি গতকাল শুক্রবার বলেন, তাঁর বাবার সঙ্গে আইনজীবীরা সাক্ষাৎ করবেন। এরপর আইনজীবীরাই জানাবেন, পরিবার কবে দেখা করবে।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক ফরমান আলী গতকাল সন্ধ্যায় বলেন, কামারুজ্জামানের পরিবারের কেউ দেখা করার আবেদন করেননি। আইনজীবীরা দেখা করার আবেদন করেছেন। সকালে তাঁদের দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখে আপিল বিভাগের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় গত বুধবার প্রকাশিত হয়। ওই দিন রাতেই ওই রায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে পাঠানো হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার তাঁর মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে তা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, পুনর্বিবেচনার আবেদন করার জন্য আসামির হাতে ১৫ দিন সময় আছে। বৃহস্পতিবার থেকে এদিন গণনা শুরু হয়েছে।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print