বুধবার , ১৮ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » সরকারি » ‘সম্পর্ক মেরামতের’ জন্য মমতার ঢাকা সফর

‘সম্পর্ক মেরামতের’ জন্য মমতার ঢাকা সফর

HASINA-1424326430সম্পর্ক মেরামতেই মমতা আজ ঢাকা সফরে আসছেন- মন্তব্য করা হয়েছে আজকের আনন্দবাজার পত্রিকায়। এ সম্পর্কে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, তিস্তার জলে গত চার বছর ক্রমশই ঘোলা হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঢাকার সম্পর্ক। তাতে আরও ইন্ধন জুগিয়েছে বর্ধমানের খাগড়াগড়ের বিস্ফোরণ। ভাষা দিবসের ঐতিহাসিক আবেগকে কাজে লাগিয়ে প্রায় তলানিতে পৌঁছে যাওয়া সম্পর্ক চাঙ্গা করার লক্ষ্যে সন্ধ্যায় ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পা রাখবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। সঙ্গে পাত্র-মিত্র-অমাত্যদের বিরাট দল।

প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়, তিস্তার পানিবণ্টনের বিরোধিতা করেই ২০১১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের সঙ্গে ঢাকা সফর শেষ প্রহরে বাতিল করেছিলেন মমতা। পদ্মাপারে তার প্রতি বিরূপ মনোভাবের সেটাই সূত্রপাত। খাগড়াগড়ের বিস্ফোরণ এবং জামাতের সন্ত্রাসে তৃণমূল সাংসদের যুক্ত থাকার অভিযোগ যাকে আরও তীব্র করেছে। এ খবর অনিবার্য ভাবেই পৌঁছেছে মমতার কানে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তাই বারে বারে ঢাকা সফরে আসতে চেয়েছেন তিনি। কখনও ফিরোজা বেগমকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে, কখনও অন্য কোনও উপলক্ষে। কিন্তু কী দিল্লি, কী ঢাকা কোনও তরফেই সাড়া মেলেনি।

প্রতিবেদনে ছিটমহল প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়, প্রায় আচমকাই ছিটমহল হস্তান্তর নিয়ে আপত্তি প্রত্যাহার করে নেন মমতা। তার এই বদলে যাওয়া মনোভাব দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পক্ষে সহায়ক হবে বুঝেই এ বার ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে মোদি সরকার। তাই মমতার এই সফরে ঢাকার পাশাপাশি দিল্লির অবদানও কম নয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে আরো বলা হয়,  গত বছর বাংলাদেশ সফরে যাওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করেছিলেন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। ঢাকার পাশাপাশি বিদেশ মন্ত্রকেরও আশা, এই সফরকে স্মরণীয় করে রাখতে সক্রিয়তা থাকবে মমতার তরফেও। তিস্তার জলবণ্টন চুক্তিতে সায় দেওয়া নিয়ে একেবারে পাকাপাকি কোনও ঘোষণা করুন বা না-করুন, একটু নমনীয়তার ইঙ্গিতও যদি দেন মমতা, সেটাকেই বড় প্রাপ্তি বলে মনে করা হবে। কারণ, লোকসভা ভোটের আগে উত্তরবঙ্গে প্রচারে গিয়ে তিস্তা চুক্তির বিরুদ্ধেই কথা বলেছিলেন তিনি।

প্রতিবেদনে উল্লেখ,  খাগড়াগড়ের বিস্ফোরণে বাংলাদেশি জঙ্গি সংগঠনের হাত প্রকাশ্যে আসায় আরও অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে মমতাকে। পশ্চিমবঙ্গে ক্রমশ শক্তি বাড়ানো বিজেপি যে গোটা বিষয়টিকে ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রচারে ব্যবহার করবে, এটা টের পেয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। সেই কারণে হাসিনা সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার মমতার কাছে জরুরি হয়ে পড়েছে বলে অনেক রাজনীতিকের মত।

এ প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে রাজনীতিকদের মত হিসাবে বলা হয়,  তারা বলছেন, মমতা জানেন, তার বিরুদ্ধে এই প্রচার ভোটারদের মধ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। দেশভাগের ফলে চলে আসা রাজ্যের একটা বড় অংশের মানুষের মননে এখনও বাংলাদেশ নিয়ে একটি আবেগ কাজ করে। ঢাকার সঙ্গে সদা সংঘর্ষের পথে চললে, সেই আবেগও বিরুদ্ধে যেতে পারে। মমতার অবস্থান বদলের মূল কারণ এটাই, বলছেন ওই রাজনীতিকরা।

অন্যদিকে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দলের উদ্ধৃতি টেনে বলা হয়, আওয়ামী লীগ নেতারাও বলছেন, মমতার ঢাকা আসার আগ্রহটাই প্রমাণ করে যে তিনি তিস্তা নিয়ে আলোচনায় প্রস্তুত। কারণ, পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ মমতা ভালই জানেন যে, এই মুহূর্তে ভারত-বাংলাদেশের রাজনৈতিক ক্লাইম্যাক্স হল তিস্তা।

আগামীকাল ২০ তারিখ মমতার সঙ্গে বৈঠক করবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ। এই আলোচনার টেবিলে পদ্মার ইলিশ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানাবেন মমতা। আর ঢাকার তরফে যে তিস্তা চুক্তির কথাই বলা হবে সে ব্যাপারে সচেতন তিনি। ঢাকা চায়, এই আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তিস্তার জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে ইতিবাচক কোনও ঘোষণা করুন মমতা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তিস্তা নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে দু’টি বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছে হাসিনা সরকার। এক, নদী বিশেষজ্ঞ কল্যাণ রুদ্রের রিপোর্ট। সমস্ত মরসুমের তিস্তার প্রবাহ খতিয়ে দেখে তাকে রিপোর্ট প্রস্তুত করতে বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেটি তিনি জমা দিয়ে দিয়েছেন। দুই, সম্প্রতি ভারতীয় হাই কমিশনার পঙ্কজ শরন কলকাতা গিয়ে কল্যাণ রুদ্রের সঙ্গে গোটা বিষয়টি নিয়ে কথা বলে এসেছেন। এই রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে পানিবণ্টনের ব্যাপারে একটা ইতিবাচক পথ বেরিয়ে আসবে বলেই ঢাকা আশাবাদী। পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সফরটিকে বিজ্ঞাপন করে বাংলাদেশ জুড়ে তান্ডব চালানো মৌলবাদী জামায়াতে ইসলামির বিরুদ্ধে বার্তা দিতে চায় তারা।

ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রের উদ্ধৃতি টেনে বলা হয়,  গত তিন মাস ধরেই বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ দেখিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করেছিলেন মমতা। নভেম্বরে বাংলাদেশ থেকে আসা সংসদীয় প্রতিনিধি দলের কাছেও তিনি এ বিষয়ে উৎসাহ দেখান। ডিসেম্বরে দিল্লি ও কলকাতা সফরে আসা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদকেও মমতা জানিয়েছিলেন তিনি ঢাকা যেতে চান। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে এই সময়েই বাংলাদেশের সঙ্গে স্থলসীমান্ত চুক্তিটি নিয়ে আপত্তি তুলে নেন মুখ্যমন্ত্রী। এই সফরের আগে তিন দিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলে বন্দি বাংলাদেশিদের মুক্তি দিয়েছে রাজ্য সরকার। এটিও অবশ্যই একটি মৈত্রীর সঙ্কেত!

বাংলাদেশে মমতার সফরসূচী প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়, শহিদ মিনারে শ্রদ্ধার্ঘ্য এবং শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক ছাড়াও ঢাকা বইমেলা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর যাওয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রীর। রিকশা করে শহর ঘোরারও ইচ্ছা রয়েছে তার।

এ ছাড়া শেখ মুজিবর রহমানের নামে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি চেয়ার চালু করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ওই চেয়ারটির উদ্বোধনে হাজির থাকতে কলকাতায় আমন্ত্রণ জানাবেন মমতা।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print