বুধবার , ২০ জুন ২০১৮
মূলপাতা » অন্যান্য » কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায়ের কপি ট্রাইব্যুনালে

কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায়ের কপি ট্রাইব্যুনালে

কামারুজ্জামানের ফাঁসিজামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মাদ কামারুজ্জামানের আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি মৃত্যু পরোয়ানা হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার রাত ৮টায় ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার বরাবর আপিলের পূর্ণাঙ্গ এ রায়ের কপি পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে জানাতে চাইলে ট্রাইব্যুনাল রেজিস্ট্রার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা রাত ৮টার দিকে কামারুজ্জামানের পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি হাতে পেয়েছি। এখন রায়ের কপিটি বিশ্লেষণ করে দেখছি। আগামীকাল ট্রাইব্যুনাল বসার সঙ্গে সঙ্গেই এ রায়ের কপি বিচারপতিদের কাছে হস্তান্তর করবো। তারপর বিচারপতিরা এ রায়ের কপি দেখে পরবর্তী আদেশ দেবেন।’

পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘আগামী রবিবারের মধ্যে কামারুজ্জামানের পূর্ণাঙ্গ রায়ের সার্টিফাইড কপি তৈরি হয়ে যাবে।  পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে রিভিউ আবেদন করা যাবে। এরপর রায় কার্যকরের বিষয়টি আসবে।‘ গত ৩ নভেম্বর বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ  কামারুজ্জামানের আপিলের চূড়ান্ত রায় দেন। বেঞ্চের অন্য বিচারপতিরা হলেন বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিয়া, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী।
তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকের মতামতের ভিত্তিতে কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় বহাল রাখা হয়েছে বলে সংক্ষিপ্ত রায়ে উল্লেখ করা হয়। রায়ে বলা হয়, ৩ নম্বর অভিযোগে শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে সাজা হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে।
এর মধ্যে তিন বিচারপতি আগেই রায় লিখে জমা দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রারের কাছে। কিন্তু ওয়াহাব মিয়া এতোদিন জমা দেননি রায়। সম্প্রতি তিনিও তা জমা দিয়েছেন।
জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ঢাকাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় আজ বুধবার প্রকাশ হয়েছে।’
আপিল বিভাগের চার বিচারপতির মধ্যে তিনজনই কামারুজ্জামানের ফাঁসির আদেশ দেন। তবে বিচারপতি ওয়াহাব মিয়া কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
২০১৩ সালের ৯ মে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের ফাঁসির আদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তিনি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আল বদর বাহিনীর ময়মনসিংহ শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বলেও প্রমাণ হয় রায়ে। এই বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলাকালে ব্যাপক নৃশংসতার অভিযোগ আছে। বুদ্ধিজীবী হত্যায়ও মূল দায়ী করা হয় আলবদর বাহিনীকে। জামায়াতের সে সময়ের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘের নেতা-কর্মীরাই ছিলেন এই বাহিনীর নেতৃত্বে।

আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print