শুক্রবার , ২০ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » জাতীয় » ‘জামায়াতের বিচার বিল আগামী মন্ত্রিসভায়’

‘জামায়াতের বিচার বিল আগামী মন্ত্রিসভায়’

1407420344আইনমন্ত্রী আনিসুল হকমুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য সংগঠনের বিচার ও শাস্তির বিধান রেখে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩ সংশোধনের খসড়া আগামী সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে উঠতে পারে।

 

বুধবার সচিবালয়ে নিজ দফতরে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘মন্ত্রিসভার আগামী সোমবারের বৈঠকে না হলেও পরের বৈঠকে আইনটি উঠবে।’

 

কার্যত জামায়াতে ইসলামীকে বিচারের আওতায় আনার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে এ সংশোধনীর খসড়া চূড়ান্ত করেছে আইন মন্ত্রণালয়।

 

মন্ত্রিসভা খসড়াটি অনুমোদন করলে তা সংসদে তোলা হবে। সংসদে পাস হওয়ার পর সংশোধনী কার্যকর হতে সময় লাগতে পারে আরো এক থেকে দুই মাস। এসব প্রক্রিয়া শেষে জামায়াতকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের মুখোমুখি করতে আরো কয়েক মাস লাগতে পারে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

 

আইন সংশোধনীর খসড়ায় অপরাধী সংগঠনের শাস্তি হিসেবে সংগঠন নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধী সংগঠনের নেতারা যাতে অন্য কোনো নামে সংগঠন করতে না পারেন, সে বিষয়েও ট্রাইব্যুনালকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

 

মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জামায়াতের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের আগস্ট মাসে তদন্ত শুরু হয়। গত বছরের ২৫ মার্চ তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে মানবতাবিরোধী অপরাধ তদন্ত সংস্থা। এরপর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ প্রস্তুতির কাজ শুরু করে রাষ্ট্রপক্ষ।

 

গত বছরের ২৯ মে আইনমন্ত্রী আনিসুলক হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালের বিদ্যমান আইনে সংগঠনের বিচার ও শাস্তির বিধান নেই।’ তার এ বক্তব্যের পর জামায়াতের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রস্তুতিতে ছেদ পড়ে। জামায়াতের বিচারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, সরকার জামায়াতের বিচার করতে চায় না। এই অবস্থায় আইন মন্ত্রণালয় সংগঠনেরও শাস্তির বিধান রেখে আইনটি সংশোধনের কাজ শুরু করে।

 

মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, এই সংশোধনীতে ট্রাইব্যুনালস আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় ‘ব্যক্তি’ শব্দটির পর ‘অথবা সংগঠন’ শব্দ সন্নিবেশ করা হচ্ছে। আরেকটি ধারায় ‘দায়’ শব্দটির পরিবর্তে ‘অথবা সাংগঠনিক দায়’ শব্দ এবং অপর ধারায় ‘অভিযুক্ত ব্যক্তি’ শব্দের পরিবর্তে ‘অভিযুক্ত ব্যক্তি বা সংগঠন’ শব্দ প্রতিস্থাপনের চিন্তা করা হচ্ছে। এ ছাড়া সংগঠন হিসেবে দোষী প্রমাণিত হলে ওই সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার বিধান রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

 

আইন মন্ত্রণালয় সূত্র আরো জানায়, বিদ্যমান আইনে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিচার করার বিধান থাকলেও সংগঠনের বিচার ও শাস্তির বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই। তাই ওই শব্দগুলো সন্নিবেশ ও প্রতিস্থাপন করা হলে ব্যক্তির পাশাপাশি সংগঠনেরও বিচার করতে আইনি বাধা থাকবে না।

 

এই সংশোধন হলে তা হবে মুক্তিযুদ্ধকালের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকাজ চলাকালে দ্বিতীয় দফায় আইন সংশোধন।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print