মঙ্গলবার , ১৭ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » ফুটবল » ঠোঁটে ঠোঁট রেখে অভিনব প্রতিবাদ!

ঠোঁটে ঠোঁট রেখে অভিনব প্রতিবাদ!

প্রচলিত নীতি নৈতিকতাকে কাঁচকলা দেখিয়ে কলকাতার উঠতি বয়সী ছেলে-মেয়েরা প্রকাশ্য রাজপথে ঠোঁটে ঠোঁট রেখে অভিনব প্রতিবাদ রচনা করলো। নিমিষেই তা  ছড়িয়ে পড়ে কোচি থেকে কলকাতা। কফিহাউস থেকে এইট-বি বাস স্ট্যান্ডের মোড় পর্যন্ত  ‍যুগলরা ঠোঁটে ঠোঁট রেখে এক অভিনব ব্যারিকেড তৈরি করল।

কেরলের আহ্বানে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া দেয় মাইকেল মধূসুদন দত্তের গুরু ক্ষণজন্মা অকাল প্রয়াত দার্শনিক সাহিত্যিক ডিরোজিওর শহর কলকাতা। হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও (জন্ম: ১৮ এপ্রিল, ১৮০৯ – মৃত্যু: ২৬ ডিসেম্বর, ১৮৩১) ছিলেন ইউরেশীয় কবি। যুক্তিবাদী চিন্তাবিদ ও শিক্ষক তরুণ ডিরোজিও মাত্র সতেরো বছর বয়সে কলকাতা হিন্দু কলেজের শিক্ষক নিযুক্ত হন।

বুধবার দুপুর ২টায় কলেজ স্ট্রিট কফি হাউসের সামনে প্রতিবাদ সভার উদ্যোক্তা ছিলেন প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক শিক্ষার্থী দেবজিৎ‌ ঠাকুর। প্রেসিডেন্সি ছাড়াও শহরের সব কলেজের ছাত্রছাত্রীরা এতে অংশ নেয়।

কলেজ স্ট্রিট থেকে হাঁটা শুরু করে প্রতিবাদীরা পৌঁছান স্টার থিয়েটারের সামনে। তাদের অধরবন্ধনীতে সোচ্চার হয়ে ওঠে প্রতিরোধের শপথ।

ঘটনার সূত্রপাত গত রোববার। কোচির এক রেস্তোরাঁয় দুই যুবক-যুবতীর চুমু খাওয়ার ভিডিও কেরলের এক টিভি চ্যানেলে সম্প্রচার হয়। এর জেরে বিজেপির স্বেচ্ছাসেবকরা সেখানে ভাঙচুর চালায়। সমাজ সংস্কারের নামে নীতি-পুলিশের এই তাণ্ডবের প্রতিবাদে মুখর হয় কোচির তরুণরা। ব্যক্তি স্বাধীনতায় অনধিকার হস্তক্ষেপের সমালোচনায় সোচ্চার হয় তারা। কোচির সমুদ্র সৈকতে ‘কিস অব লাভ’ আন্দোলনের ডাক দেয় একটি সংগঠন। সেই জমায়েতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয় উদ্যোক্তাদের।

এদিকে সামাজিক মাধ্যমের কল্যাণে এই চুমু আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে ভারতজুড়ে। অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিও এর পক্ষে কথা বলছেন। এক প্রকাশন সংস্থার কর্ণধার জুবান বুতালিয়া এ প্রসঙ্গে মন্তব্য পোস্ট করেন, ‘প্রকাশ্যে চুমু খাওয়া নিন্দনীয়, অথচ প্রস্রাব করা অনুমোদিত। এর কারণ কি ভারতীয় সংস্কৃতিতে জনসমক্ষে অণ্ডকোষ উন্মুক্ত করা দোষণীয় নয় বলে?’


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print