রবিবার , ২২ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » প্রধান খবর » ১০৫ রানের বিশাল জয় টাইগারদের

১০৫ রানের বিশাল জয় টাইগারদের

bd cশুরুতেই বাঘের গর্জন। শুরু থেকেই উইকেট। একের পর এক উইকেট হারাতে হারাতে শেষ পর্যন্ত আফগানিস্তাকে ১৬২ রানেই থামিয়ে দিল বাংলাদেশ। ফলে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই এসে গেল ১০৫ রানের বিশাল জয়।

প্রথমে ব্যাট করে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৬৭ রান তুলতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ।

 

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি আফগানিস্তানের। দলীয় ২ রানের মাথায় আফগান শিবিরে আঘাত হানেন মাশরাফি। জাভেদ আহমাদিকে (১) সাজঘরে ফেরান তিনি। একপর চোখের পলকেই নেই আফগানদের আরো দুটি উইকেট। ব্যক্তিগত প্রথম বলেই আফসার জাজাইকে (১) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন রুবেল হোসেন।

 

এরপর দলীয় তৃতীয় ওভারে আবারও আফগান শিবিরে হানা দেন বাংলাদেশ দলপতি। এবার তিনি সাজঘরে ফেরান আসগার স্টানিকজাই (১)। তাই তিন ওভার শেষে একটি ম্যাজিক্যাল ফিগার দাঁড়ায় ৩/৩।

 

আফগানদের দলীয় ৪২ রানের মাথায় তাসকিন আহমেদের বলে ক্যাচ তুলে দেন নওরোজ মঙ্গল (১৮)। কিন্তু ক্যাচটি লুফে নিতে ব্যর্থ হন সাকিব আল হাসান।

 

অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর আফগানিস্তানের চতুর্থ উইকেটের পতন ঘটে। মাহমুদউল্লাহর বলে রুবেলের দুর্দান্ত ক্যাচে সজঘরে ফেরেননওরোজ মঙ্গল (২৭)। বিদায়ের আগে সামিউল্লাহ শেনওয়ারির সঙ্গে তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৬২ রানের জুটি গড়েন তিনি। এরপর অবশ্য সামিউল্লাহও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। সাব্বির রহমানের থ্রোতে রানআউটের শিকার হন তিনি। ৭৫ বলে দুটি চারের মারে ৪২ রানের ইনিংস খেলেন সামিউল্লাহ।

 

এর আগে টস নামক ভাগ্য পরীক্ষায় জিতে টাইগার দলপতি মাশরাফি বিন মুর্তজা। টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। দলীয় ৪৭ রানের মাথায় সাজঘরে ফেরেন তামিম ইকবাল। মিরওয়াইস আশরাফের বলে উইকেট রক্ষক আফসার জাজাইর তালুবন্দি হন বাংলাদেশের এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। ৪২ বলে ২ চারের মারে ১৯ রান করেন তিনি।
তামিমের পর বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি অপর ওপেনার এনামুলও। দলের স্কোরশিটে ২৯ রান যোগ করে মিরওয়াইস আশরাফের বলে এলবিডল্ডিউর ফাঁদে পড়েন তিনি। ৫৫ বলে ৪ চারের সাহায্যে ইনিংসটি সাজান এনামুল।

 

তৃতীয় উইকেটে ৫০ রানের জুটি গড়েন সৌম্য সরকার ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। প্রাথমিক ধাক্কা সামলে নিয়ে রক্ষণাত্মক ক্রিকেটকে বেছে নেন এই দুই ব্যাটসম্যান। কিন্তু আফগান পেসার শাপুর জারদানের জোড়া আঘাতে দুজনকে সাজঘরে ফিরতে হয়।

 

২৬তম ওভারের পঞ্চম বলে ও ২৯তম ওভারের প্রথম বলে শাপুর জারদান একে একে ফিরিয়ে দেন সৌম্য সরকার ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে। দলীয় ১০৩ রানে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন সৌম্য সরকার। সাজঘরে ফেরার আগে ২৫ বলে ৩টি চার ও ১টি ছক্কা হাঁকিয়ে ২৮ রান করেন তিনি।

 

এরপর ১১৯ রানে উইকেটের পেছনে আফসার জাজাইর হাতে ক্যাচ তুলে দেন রিয়াদ। বিদায়ের আগে ৪৬ বলে মাত্র ২৩ রান করেন মাহমুদউল্লাহ।

 

পঞ্চম উইকেটে  ১১৪ রানের জুটি গড়েন সাকিব-মুশফিক। প্রথমে মুশফিকুর রহিম ও পরে সাকিব আল হাসান হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন। ৫১ বলে ৬টি চার ও ১টি ছক্কায় ৬৩ রান করে হামিদ হাসানের বলে সরাসরি বোল্ড হন সাকিব। এরপর সাজঘরের পথ ধরেন মুশফিকুর রহিমও। মোহাম্মদ নবীর শিকার হওয়ার আগে ৫৬ বলে ৬টি চার ও ১টি ছক্কায় ৭১ রান করেন বাংলাদেশের প্রাক্তন ওয়ানডে অধিনায়ক।

 

আফগানিস্তানের হয়ে সমান ২টি করে উইকেট নিয়েছেন হামিদ হাসান, শাপুর জাদরান, আফতাব আলম ও মিরওয়াইস আশরাফ। বাকি উইকেটটি গেছে অধিনায়ক মোহাম্মদ নবীর দখলে।

 

উল্লেখ্য, এর আগে এশিয়ান কাপে ১টি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে মুশফিক বাহিনীকে ৩২ রানে হারিয়ে চমক দেখিয়েছিলেন আফগানরা। এর মধ্য দিয়ে বড় কোনো প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের মতো জয়ের স্বাদ নিয়েছিলেন নবীরা।

 

বাংলাদেশের একাদশ : মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান (সহঅধিনায়ক), তামিম ইকবাল, এনামুল হক বিজয়, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুমিনুল হক, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, তাসকিন আহমেদ ও রুবেল হোসেন।

 

আফগানিস্তানের একাদশ : মোহাম্মদ নবী, নওরোজ মঙ্গল, আসগার স্টানিকজাই, সামিউল্লাহ শেনওয়ারি, আফসার জাজাই (উইকেট রক্ষক), নজিবুল্লাহ জাদরান, মিরওয়াইস আশরাফ, হামিদ হাসান, শাপুর জাদরান, আফতাব আলম ও জাভেদ আহমাদি।

 


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print