রবিবার , ২২ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » অন্যান্য » সুবহানের ফাঁসির আদেশ

সুবহানের ফাঁসির আদেশ

সুবহানের ফাঁসির আদেশমানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা আবদুস সুবহানকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

বুধবার বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

বেঞ্চের অপর দুই বিচারপতি হলেন বিচারপতি মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি শাহিনুর ইসলাম।

মোট ৯টি অভিযোগের মধ্যে ১, ৪, ৬ নম্বর অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড, ২ ও ৭ নম্বর অভিযোগে যাবজ্জীবন ও ৩ নম্বর অভিযোগে তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, ৫, ৮ ও ৯ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সেসব অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার সময় ট্রাইব্যুনালে সুবহানের পক্ষে অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, শাহজাহান কবির, শিশির মো. মনির, আসাদ উদ্দিন ও সুবহানের ছেলে নেছার আহমদ নান্নু, মুজাহিদুল ইসলাম, দুই নাতি খালেদ ও শোয়েব উপস্থিত ছিলেন।

অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট গোলাম আরিফ টিপু, প্রসিকিউটর হায়দার আলী, জেয়াদ আল মালুম, সুলতান মাহমুদ সীমন, ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী, সাবিনা ইয়াসমিন মুন্নী উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে পুলিশ প্রহরায় সুবহানকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। তিনি সাদা পাঞ্জাবি-পায়জামা পরিহিত অবস্থায় ছিলেন।

গত বছরের ৪ ডিসেম্বর উভয় পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখে দেন ট্রাইব্যুনাল।

গত  বছরের ১৭ থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত আট কার্যদিবসে সুবহানের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম ও ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিকী।

এর আগে গত বছরের ৫ থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত আট কার্যদিবসে সুবহানের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু, প্রসিকিউটর জেয়াদ-আল-মালুম, ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, সুলতান মাহমুদ সীমন ও রেজিয়া সুলতানা চমন।

গত বছরের ৭ এপ্রিল থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সুবহানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন দুই তদন্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান ও মো. নূর হোসাইনসহ রাষ্ট্রপক্ষের ৩১ জন সাক্ষী।

অন্যদিকে সুবহানের পক্ষে তিনজন সাক্ষী সাফাই সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ট্রাইব্যুনাল নির্ধারণ করে দিলেও তার পক্ষে কেউ সাফাই সাক্ষী দেননি।

২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর গণহত্যা, হত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও ষড়যন্ত্রসহ আট ধরনের নয়টি মানবতাবিরোধী অপরাধে সুবহানের বিরুদ্ধে  অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল।

২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সকালে টাঙ্গাইলে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব প্রান্ত থেকে সুবহানকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ওই রাতেই তাকে পাবনা কারাগারে নেওয়া হয়। ২৬ সেপ্টেম্বর পাবনা কারাগার থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয় সুবহানকে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। ৩০ সেপ্টেম্বর প্রসিকিউশনের আবেদন আমলে নিয়ে সুবহানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

মাওলানা সুবহানের পরিচয় সম্পর্কে তদন্ত সংস্থার রিপোর্টে বলা হয়, পাবনার সুজানগর থানার মানিকহাটি ইউনিয়নের তৈলকুণ্ডি গ্রামে জন্ম নেওয়া সুবহান পাকিস্তান আমলে পাবনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা আমির এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ছিলেন।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print