রবিবার , ২২ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » কলেজ » জবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ডেকেছে ছাত্রদল

জবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ডেকেছে ছাত্রদল

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) সহাবস্থান নিশ্চিত না করা ও এর প্রধান অন্তরায় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অযোগ্য দলকানা উপাচার্য ড. মীজানুর রহমানের পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি।

Jagannath Universityজগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল সভাপতি ফয়সাল আহমেদ সজল ও সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক মুন্না সোমবার এক বিবৃতিতে এ ধর্মঘটের কথা জানান। কেন্দ্রীয় ছাত্রদল দফতর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী এতে স্বাক্ষর করেছেন।

বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় জানান, ছাত্রলীগের আজ্ঞাবহ ও যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জবি উপাচার্য ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রধান পৃষ্ঠপোষক। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই বিদ্যাপীঠকে তিনি একটি দলীয় সংগঠনের কার্যালয়ের মত পরিচালনার অপচেষ্টা করছেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্রতা নষ্ট করে সন্ত্রসী, খুনি, চাঁদাবাজ ও টেন্ডারবাজ ও ধর্ষকদের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছেন। আমরা সকল ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে নিয়ে দীর্ঘদিন এই অন্যায় ও অবিচারের প্রতিবাদ করে আসছি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের নায্য ও যৌক্তিক দাবিকে গুরুত্ব না দিয়ে দলীয় ও আজ্ঞাবহ উপাচার্যের ছত্রছায়ায় এই পবিত্র বিশ্ববিদ্যালয়কে দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করছে। গত ১০ ডিসেম্বর ২০১৩ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন ছাত্র (জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আসাদুজ্জামান রানা দর্শন বিভাগ, মাযহারুল ইসলাম রাসেল ও আল আমিন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ) গুম হয়, কিন্তু দালাল উপাচার্য তাদের সন্ধানে কোনো কথা সরকার বা পুলিশ প্রশাসনকে জানায়নি।

নেতৃদ্বয় জানান, আপনারা লক্ষ্য করেছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এক অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। ছাত্রলীগের অব্যাহত সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও খুনের ঘটনায় শিক্ষাঙ্গনসহ সারাদেশ এখন মৃত্যুপুরী। বিগত আওয়ামী সরকারের পাঁচ বছর ও ৫ জানুয়ারির তামাশার নির্বাচনে গঠিত অবৈধ সরকারের এক বছরে নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেই খুন হয়েছে প্রায় ৫০ জনের অধিক মেধাবী ছাত্র।

নেতৃদ্বয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ভূমিকা সবসময় প্রশংসিত। ১৯৫২ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছে এই বিশ্ববিদ্যালয় ও এর ছাত্র-ছাত্রীরা। তাই তোমরা যারা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তারা কেমন করে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্যায়, অবিচার আর অগণতান্ত্রিক পরিবেশ মেনে নিতে পার? দেশের মানুষ যেখানে তোমাদের কাছ থেকে ন্যায়, নিষ্ঠা আর সহমর্মিতা আশা করে সেখানে কিভাবে আমরা একটি জঙ্গী ছাত্র সংগঠনের কাছে জিম্মি হয়ে যেতে পারি। ছাত্রলীগের অব্যাহত চাঁদাবাজিতে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয় এলকার দোকানদার ও ব্যবসায়ী সমাজ। তাদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকরা। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদেরকেও নির্যাতন করছে। নির্যাতন, চাঁদাবাজি আর ভর্তি বাণিজ্য ছাত্রলীগের নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। সেই ছাত্রলীগ আজ অবৈধ সরকারকে রক্ষায় মরিয়া হয়ে পেট্রোলবোমা আর ধ্বংসের খেলায় মেতে উঠেছে।

তাই নেতৃদ্বয় সবার প্রিয় এই বিদ্যাপীঠকে এখনই রক্ষায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এবং ঘোষিত ধর্মঘটে একাত্মতা প্রকাশের অনুরোধ করেন।

তারা বলেন, গত ৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় ফটক থেকে দর্শন বিভাগের ছাত্র নয়ন বাছেরকে পুলিশ গ্রেফতার করে গুলি করে। বর্তমানে সে পুলিশ প্রহরায় পঙ্গু হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। পক্ষপাতুষ্ঠ উপাচার্যের অযোগ্যতার কারনে জবির শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস প্রায়। শত বছরের ঐতিহ্যে লালিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় গৌরব উজ্জ্বল ভূমিকা আমরা লঙ্গিত হতে দিতে পারি না। তাই এই অবৈধ সরকারের মানুষ হত্যা, জুলুম নির্যাতন থেকে মুক্তি পেতে ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং অযোগ্য দালাল উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ সাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দেয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print