মঙ্গলবার , ২৪ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » প্রধান খবর » ডিসিসি নির্বাচনের তফসিল মার্চেই

ডিসিসি নির্বাচনের তফসিল মার্চেই

imagesআগামী মধ্য মার্চের পর ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে অথবা মে মাসের প্রথম এই দুই সিটির ভোট গ্রহন হতে পারে। দুই সিটি নির্বাচনের সব প্রস্তুতি আগামী ১০ মার্চের মধ্যেই শেষ করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সচিব মোঃ সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করা হয়েছে। প্রস্তুতি শেষে কমিশনকে অবহিত করা হবে। এরপর কমিশন নির্বাচনের দিনক্ষণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
ডিসিসি নির্বাচনের বিষয়ে ইসি সবসময়ে প্রস্তুত-বিগত দিনগুলোতে এমন বক্তব্য এসেছে নির্বাচন কমিশন থেকে। এ নির্বাচন না হওয়ার জন্য সীমানা পুননির্ধারণ জাটিলতাকে দায়ি করেছে কমিশন।
সোমবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে ডিসিসির সীমানা পুনঃনির্ধারণের গেজেট পাঠিয়ে নির্বাচনের আয়োজনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। ওই চিঠির একদিন পরই ইসি সচিব প্রস্তুতির জন্য দুই সপ্তাহ বা ১০ মার্চ পর্যন্ত সময় প্রয়োজন বলে জানালেন।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার থেকে আনুষ্ঠিকভাবে দুই ডিসিসি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। এর অংশ হিসাবে আগামী ১০ মার্চের মধ্যে ভোটার তালিকার সিডি প্রস্তুত করার জন্য জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এই সিডি প্রস্তুতের পর তা যাচাই-বাছাই ও ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত করতে আরো এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
এছাড়া ১লা মার্চ থেকে ডিসিসি এলাকায় নতুন ভোটার অন্তর্ভূক্ত ও স্থানান্তর বন্ধের জন্য সচিবালয় থেকে কমিশনের নির্দেশনা চাওয়া হলে তাতে আপত্তি করেছেন একজন কমিশনার।
তিনি বলেছেন, দীর্ঘ মেয়াদে এসব কার্যক্রম বন্ধ রাখলে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হবেন। ফলে মধ্যমার্চের আগে কোনভাবেই এই দুই সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে পারছে না কমিশন। মধ্যমার্চের পর কমিশন তফসিল ঘোষণা করলেও তারপর প্রচার-প্রচারণা ও নির্বাচনের জন্য কমপক্ষে ৪০ থেকে ৪৫ দিনের সময় প্রয়োজন।
সেই হিসাবে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ অথবা মে মাসের প্রথম সপ্তাহে এই নির্বাচনের দিন ধার্য করা হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ১লা এপ্রিল থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। সম্ভাব্য এই পরীক্ষা আগামী ১০ জুন পর্যন্ত চলতে পারে। ফলে পরীক্ষার মধ্যেই এই নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। তবে নির্বাচন আয়োজন করতে পুরো একটি সপ্তাহ পরীক্ষামুক্ত রাখা জরুরি।
এক সপ্তাহ পরীক্ষামুক্ত রাখার পক্ষে যুক্তি দিয়ে তারা বলেন, নির্বাচন কার্যক্রমের জন্য মূলত স্কূল-কলেজে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়।
আর ওইসব ভোটকেন্দ্রে পরীক্ষাও হবে। ভোটকেন্দ্র স্থাপনের জন্য ভোটগ্রহনের আগে দুইদিন, ভোটের দিন, এবং পরের দিন কোনভাবেই পরীক্ষা রাখার সুযোগ নেই। নির্বাচনী কার্যক্রমের গোপনীয়তা ও নির্বাচনের পর ভোটকেন্দ্রগুলো পরীক্ষার জন্য উপযোগী করতেও সময়ের প্রয়োজন রয়েছে।
এদিকে, আজ নিজ কার্যালয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়ে ইসি সচিব সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার দায়িত্ব কমিশন সচিবালয়ের। আর নির্বাচনের সময়সূচী নির্ধারণ করবে কমিশন।
 তিনি বলেন, ইসি সচিবালয় নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। কমিশনের লজিস্টিক প্রস্তুতি রয়েছে। মাঠ পর্যায়ের প্রস্তুতি নিতে দুই সপ্তাহ সময় লাগবে। তিনি আরও বলেন, আগামী ১০ মার্চের মধ্যে প্রস্তুতি শেষ হলে কমিশন ঠিক করবেন কখন কবে নির্বাচন হবে।
সচিব বলেন, প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে এলাকাভিত্তিক ভোটার বিন্যাস ও কেন্দ্র নির্ধারণ করতে হবে। দীর্ঘ মেয়াদে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্তি ও স্থানান্তর বন্ধা রাখা হলে মানুষের ভোগান্তি বাড়বে কী না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে। দু’ একজন বাদ পড়তে পারেন। কমিশনের অনুমোদন নিয়ে তারাও এ সময়ে ভোটার তালিকাভুক্তি হতে পারবেন।
চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে কী না-এমন প্রশ্নের জবাবে মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ডিসিসি স্থানীয় সরকারভুক্ত নির্বাচন। এটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচন নয়।
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে কী না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা কমিশনের সিদ্ধান্তের বিষয়, ইসি সচিবালয়ের নয়। চট্টগ্রাম ও ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন একই সময়ে করতে ইসি সক্ষম বলেও দাবি করেন সচিব।

আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print