মঙ্গলবার , ২৪ এপ্রিল ২০১৮
মূলপাতা » ক্রিকেট » স্বপ্নের ফাইনালে বাংলাদেশ

স্বপ্নের ফাইনালে বাংলাদেশ

ফাইনালে বাংলাদেশদ্বিতীয় সেমিফাইনালে থাইল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারিয়ে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ।

 

মাঠে উপস্থিত ২৭ হাজার দর্শককে আনন্দের জোয়ারে ভাসিয়ে ম্যাচের ৩৯ মিনিটে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেন নাসির উদ্দিন। তার এই গোলটি ম্যাচের বাকি সময়ে আর শোধ দিতে পারেনি থাইল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত নাসির উদ্দিনের গোলটিই ফাইনালের টিকিট পাইয়ে দেয় লাল-সবুজের জার্সিধারীদের।

 

শুক্রবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই থাইল্যান্ডের ওপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকে বাংলাদেশ। একের পর এক আক্রমণ শানিয়ে থাইদের রক্ষণভাগকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলেন স্বাগতিকরা। ম্যাচের ৫ মিনিটে মামুনুল ইসলাম ডান প্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে ঢুকে পড়েন। পাস দেন সোহেল রানাকে। তিনি বেশ কৌশলে শট নিলেও সেটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পরের মিনিটে মামুনুল ইসলাম ডি-বক্সের বাইরে বল পেয়ে যান। তিনি শট নিলেও সেটা গোলপোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়।

১০ মিনিটে আরো একটি সুযোগ পায় বাংলাদেশ। এমিলির করা হেড বার ঘেঁষে চলে যায়। ১১ মিনিটের মাথায় থাইল্যান্ড তাদের প্রথম আক্রমণ শানায়। কিন্তু সেটিকে ব্যর্থ করে দেয় বাংলাদেশের রক্ষণভাগ। এরপর কিছুটা সময় থাইল্যান্ড ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে। কিন্তু বাংলাদেশের গতিময় ফুটবলের সঙ্গে তাল রাখতে পারেনি। ১৭ মিনিটে থাইল্যান্ড ডি-বক্সের ডান পাশে ফ্রি-কিক পায়। সেটা থেকে অবশ্য গোল করতে পারেনি তারা। ২০ মিনিটে জাহিদের বাড়িয়ে দেওয়া বল থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন হেমন্ত ভিনসেন্ট বিশ্বাস।

২৩ মিনিটে গোলপোস্টের বাঁ প্রান্ত দিয়ে সম্মিলিত আক্রমণ চালায় বাংলাদেশ। এমিলির পাস দেওয়া বল থেকে গোল আদায় করতে ব্যর্থ হন সোহেল রানা। ২৫ মিনিটে থ্রো থেকে এমিলির হেড থাইল্যান্ডের গোলরক্ষক ধরে ফেলেন। ৩৬ মিনিটে আরো একটি গোলের সুযোগ মিস করে বাংলাদেশ।

 

৩৯ মিনিটে কর্নার পায় বাংলাদেশ। মামুনুলের নেওয়া কর্নার থেকে উড়ে আসা বল বাঁ পায়ের শটে থাইল্যান্ডের জালে জড়ান নাসির উদ্দিন। সঙ্গে সঙ্গে গোটা স্টেডিয়ামের ২৭ হাজার দর্শক ফেটে পড়েন উল্লাসে। ৪৪ মিনিটে কর্নার থেকে মামুনুল বল বাড়িয়ে দেন। ডি-বক্সের মধ্যে গোলের সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু গোলরক্ষক বল নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলে এগিয়ে থেকেই শেষ হয় প্রথমার্ধ।

দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়ায় থাইল্যান্ড। পাশাপাশি বলের দখলও বাড়ায়। ম্যাচের ৪৯ মিনিটে আক্রমণ শানায় থাইল্যান্ড। বাংলাদেশের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় রায়হান হাসান সেটিকে ব্যর্থ করে দেন। এরপর কর্নার থেকে উড়ে আসা বল দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন গোলরক্ষক শহিদুল ইসলাম। ৫৪ মিনিটে হেমন্তের বাড়িয়ে দেওয়া বলে জোরালো শট নেন মামুনুল ইসলাম। কিন্তু বলটি বারের পাশ দিয়ে চলে যায়।

৫৭ মিনিটে জাহিদ হোসেন একাই বল নিয়ে থাইল্যান্ডের ডি-বক্সের মধ্যে ঢুকে পড়েন। কিন্তু তাকে রুখে দেন থাইল্যান্ডের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা। ৫৯ মিনিটে থাইল্যান্ডের দারুণ একটি ফ্রি-কিক রুখে দেন শহিদুল ইসলাম। ৬২ মিনিটে হেমন্ত ভিনসেন্টের দুর্বল শট ধরে ফেলেন থাইল্যান্ডের গোলরক্ষক। ৭০ মিনিটে পাল্টা-আক্রমণে গোলের সুযোগ তৈরি করেও সফল হয়নি থাইল্যান্ড। ৭৬ মিনিটে হেমন্ত ভিনসেন্ট লম্বা শট নেন। তার শটটি গোলপোস্টের ওপর দিয়ে চলে যায়।

 

৮৫ মিনিটে মামুনুল ইসলাম মামুনের ভলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ইনজুরি টাইমে থাইল্যান্ড মরিয়া হয়ে খেলার চেষ্টা করে। কিন্তু গোলের দেখা পায়নি তারা। ফলে ১-০ গোলে থাইল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print