সোমবার , ২৩ জুলাই ২০১৮
মূলপাতা » প্রধান খবর » পেট্রোলবোমা থেকে বাঁচার কৌশল!

পেট্রোলবোমা থেকে বাঁচার কৌশল!

ঢাকাসহ সারাদেশে চলমান রাজনৈতিক সহিংসতায় হামলার শিকার হচ্ছে সাধারণ জনগণ। মারণযন্ত্র পেট্রোলবোমায় দগ্ধ হয়ে হতাহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। কিন্তু মানুষের তো ঘরে বসে থাকলেও চলবে না। তাই চলার পথে পেট্রোল বোমা হামলা এড়িয়ে চলা ও হামলার মধ্যে পড়লে যা করণীয় তা হল-

 

০১. অপ্রয়োজনীয় চলাচল আপাতত বন্ধ রাখুন  : রাজনৈতিক পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত অপ্রয়োজনীয় চলাচল বন্ধ রাখুন। ধরুন, আপনার প্রেশার কুকারের নব নষ্ট হয়ে গেছে। এটা ঠিক করতে গত দুইমাস ধরে নিউ মার্কেটে যাচ্ছি যাব করে করে যাওয়া হয়নি। আজ হঠাৎ কিছুটা সময় পাওয়া গেল, রওনা হবার আগে একবার ভাবুন- এই মুহুর্তে এটা কতটা দরকারি? আরো কিছুদিন অপেক্ষা করা যাবে না ?

০২. গণ পরিবহন এড়িয়ে চলুন : যদি বাইরে বের হতে হয়, তাহলে গণ পরিবহন এড়িয়ে চলুন। রিকশা বা সাইকেল এই মুহুর্তে ভালো কাজে দিবে। হরতালের কারণে রাজপথগুলো রিকশার দখলে। রিকশা চলাচলের দূরুত্বের বাইরে না যাওয়াই আপাতত ভালো।

০৩. গণ পরিবহনে যদি উঠতেই হয় : গণ পরিবহনে উঠতে হলে তাড়াহুড়ো না করে স্থির হয়ে সতর্কতার সাথে কয়েকটি বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে।

ক. বাসের সব জানালা আছে কি’না দেখে নিন। ঢাকা শহরের অধিকাংশ বাসের জানালা ঠিকঠাক নেই। আর বোমাগুলো ছোড়া হচ্ছে এই পথ দিয়ে। তাই বাসে চড়ার সময় এই সতর্কতাটুকুই আপনার প্রাণ বাচিয়ে দিতে পারে।

খ. বাসের জানালা সব সময় বন্ধ রাখুন। তবে কিছু সহযাত্রীকে দেখবেন কিছুটা জানালা খুলে রাখছেন, বাতাসের জন্য। যদিও এটি অনিরাপদ তবে সহযাত্রীটি সতর্ক হলে অসুবিধা নেই। এই খোলা জানালাটি যদি আপনার কাছাকাছি হয়, তাহলে সেই সতর্ক যাত্রী কোন স্টপেজে নেমে গেলে-নিজ দায়িত্বে জানালাটি লাগিয়ে দিন। কেননা ঐ স্থানে আসনগ্রহণকারী পরের যাত্রীটি আগের জনের মতো সতর্ক নাও হতে পারেন। [ ভিডিওটি দেখে থাকলে আপনি বুঝতে পারবেন, এই সামান্য পথ দিয়েও আগুন ভেতরে প্রবেশ করতে পারে]

ঘ. বাসের দরজার আশেপাশের সিটগুলোকে এড়িয়ে বসার চেষ্টা করুন।

ঙ. লোকাল বাসগুলোতে নারীদের জন্য যে ড্রাইভারের পাশে যে আসন- সেগুলোতে জানালার দিকে পিঠ দিয়ে বসতে হয়। ফলে সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় থাকেন নারীরা। এই কদিন তারা এই সিটগুলো এড়িয়ে চলতে পারেন। আর বসলেও জানালাগুলো বন্ধ করে নিতে হবে। গতকাল বাসে কয়েকজন সতর্কপুরুষ দেখলেও নারীদেরকে খোলা জানালার পাশে বেশ নিশ্চিন্ত দেখলাম। স্বাভাবিক ভাবেই আমাদের দেশের নারীরা রাজনীতি, সহিংসতা ও সংবাদ- এগুলোকে এড়িয়ে চলেন। ফলে তাদের ভেতরে সচেতনতাটা তৈরী হয়নি। তাই রাস্তায় চলাচলকারী আপনার স্ত্রী বা কন্যা সন্তান বা বোনকে সাধারণ সতর্কতাগুলো বুঝিয়ে দিন।

চ. চলাচলকারী সময়টুকু পুরো মাত্রায় সতর্ক থাকুন। একদিনের জন্য গণ পরিবহনে চড়ে ফেসবুকিং, কানে হেডফোন দিয়ে গান শোনা বা অন্য মনস্ক হয়ে দূর আকাশের চিলের ভাবনা বন্ধ রাখুন। এ সময়টা চারপাশে সতর্ক দৃষ্টি রাখুন।

ছ. গত এক মাসের হামলাগুলো পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ফাঁকা এবং অতিরিক্ত ভীড়ের জায়গাগুলো অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। বাস এমন স্থানে এলে সকতর্কতার মাত্রা বাড়িয়ে দিন।

 

যদি আক্রান্ত হন

যদি আক্রান্ত হন তাহলে কয়েকটি বিষয় আগেভাগেই জেনে রাখুন

index

 

 

 

 

 

 

আগুনের ত্রিভুজ সূত্র  : একটি আগুনের জন্য তিনটি বিষয়ের প্রয়োজন। ১. জ্বালানী ২. অক্সিজেন ৩. তাপ । যখন কোথাও আগুন ধরে তখন একটি চেইন রিএ্যাকশনের মাধ্যমে এগুলোর যোগান তৈরী হয় এবং পুড়ে শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটা চলতে থাকে। তাই আগুন নেভাতে গেলে তিনটির যেকোন একটির অনুপস্থিতি ঘটাতে হবে।

নিজে আক্রান্ত হলে করনীয় : আপনার শরীরের কোথাও আগুন লাগলে যদি আপনি প্যানিক হয়ে দৌড়াতে শুরু করেন, তাহলে আগুনে অক্সিজেন যুক্ত হবে, আগুনের মাত্রা বেড়ে যাবে। তাই খালি হাতে আগুনের সাথে লড়াই করার সর্বোত্তম উপায় হচ্ছে দুহাতে মুখ ঢেকে মাটিতে গড়াগড়ি খাওয়া। এভাবে কয়েকবার গড়িয়ে আপনি নিজেই নিজের আগুন নিভিয়ে ফেলতে পারবেন।

stop-drop-rollআক্রান্ত হতে দেখলে করনীয় :  পেট্রোল পানির চেয়ে হালকা অর্থাৎ পানিতে ভাসে এবং পানিতেও অক্সিজেন থাকে।  তাই পেট্রোলের আগুনে পানি দিলে আগুন নেভানো যায় না। বরং বেড়ে যেতে পারে। এ কারণে আক্রান্ত ব্যক্তির গায়ে পানি না ঢেলে মোটা কাপড় দিয়ে জড়িয়ে ধরতে হবে।

fire-prevention-tips-2

 

 

 

 

 

 

 

সকলের জন্য :

দুটি নম্বর এখনই আপনার মোবাইলে সেইভ করে রাখুন। এ দুটি ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্সের কন্ট্রোল রুমের নম্বর। টিন্ডটি- ০২-৯৫৫৫ ৫৫৫ এবং ০১৭৩০৩৩৬৬৯৯। প্রথমবারে টিএন্ডটি’তে চেষ্টা করুন। তেনাদের মোবাইল মাঝে মাঝে বন্ধ থাকতে পারে।

তবে আমার মনে হয়, আক্রান্ত হবার মুহুর্তে আপনার ফায়ার সার্ভিসের চেয়ে এ্যাম্বুলেন্স এর প্রয়োজন হবে।  নিচের লিঙ্কে ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালের  এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস এর তালিকা পাবেন। আপনার চলাচলের এলাকাকে বিবেচনায় রেখে পছন্দ অনুযায়ী অন্তত পাঁচটি নম্বর মোবাইলে সেভ করে রাখুন।ঢাকার এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের মোবাইল নম্বর পেতে এখানে ক্লিক করুন।

সাহস হারাবেন না। সতর্ক থাকুন। জাতীয় সংকটকালীন সময়ে সতর্কতায় আমাদের মতো সাধারণ মানুষের একমাত্র অস্ত্র। আশা রুখুন, রাজনৈতিক কামড়া কামড়ি শেষ হলে একদিন সুসময় ফিরবে।


আপনার মতামত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


Email
Print